৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯, ৭ রজব ১৪৪৪
ads
`

শেরপুরে কপি চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা

মাঠভরা শীতকালীন কপি - ছবি : নয়া দিগন্ত

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুলকপি ও বাঁধাকপির ফলন ভালো হওয়ায় রঙিন স্বপ্ন বুনছেন বগুড়ার শেরপুরের কৃষকরা। অল্প সময়ে স্বল্প খরচে অধিক মুনাফা পেতে কপি চাষের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন উপজেলার কৃষকেরা।

কৃষকরা জানান, বীজ বপরে পর ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যেই ফুলকপি ও বাঁধাকপি বাজারজাত করা সম্ভব। গত কয়েক বছরের তুলনায় ফুলকপি ও বাঁধাকপির বাজারে এবার চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া এবার দামও বেশ ভালো। সবজি বাজারে শীতকালীন আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপির কদর বেশ বেড়েছে।

জানা গেছে, চারা রোপণ করে প্রয়োজনীয় সার কীটনাশক ও সেচ দিয়ে পরিচর্যা করলে ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যেই ফুলকপি আর বাঁধাকপি ঘরে তোলা যায়। এবার বাজারে ফুলকপি আর বাঁধাকপির চাহিদা রয়েছে প্রচুর। ফলে বাজারে চাহিদা থাকায় বিক্রি করতেও ঝামেলা নেই চাষিদের।

পাইকাররা ক্ষেত থেকেই এসব সবজি কিনে নিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন। সব মিলিয়ে মুনাফা পেয়ে বেশ খুশি শেরপুর উপজেলার ফুল ও বাঁধাকপির চাষিরা।

শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের বাংড়া গ্রামের রেজাউল করিম জানান, তিনি নিজেই ফুলকপি ও বাঁধাকপির জমিতে কাজ করেন। আগাম জাতের এক বিঘা জমি চাষে তার খরচ হয়েছে ১১ হাজার টাকা। সেখানে থেকে ৫২ হাজার টাকার কপি বিক্রয় করেছেন। একই জমিতে আবারো ফুলকপি চাষ করেছেন তিনি। অল্প কয়েক দিনের মধ্য ফলন বাজারে আসবে। এ বছর সোয়া দু’বিঘা জমিতে এক লাখ টাকার অধিক লাভের আশা করছেন তিনি।

খামারকান্দ্রি ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের কৃষক হারেজ বলেন, এক বিঘা জমিতে চার হাজার ফুলকপির চারা রোপণ করেছেন তিনি। ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতিটি ফুলকপি ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের হয়েছে। কিছু দিন আগে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে জমিতেই বিক্রি করছেন তিনি। বর্তমানে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে ক্ষেতেই বিক্রি হচ্ছে। খরচ বাদে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

এছাড়াও কৃষক জাফরুল ইসলাম, মোস্তাক আহম্মেদ ,আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কিছুটা দেরিতে বাঁধাকপি চাষ করেছেন তারা। প্রতিটি চারার পেছনে খরচ হবে দুই টাকা। কপি প্রতি আট থেকে ১০ টাকা বাজার ধরতে পারলেও মুনাফা হবে। ভালো বাজার ও মুনাফার আশা করছেন তারাও।

শেরপুর উপজেলার উদ্ভিদ কর্মকর্তা মাসুদ আলম বলেন, এ বছর উপজেলায় ফুলকপি ১৪০ হেক্টর ও বাধাঁকপি ৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। কৃষককে রোগবালাই থেকে মুক্ত রাখতে সার্বিক সহযোগিতা ও তাদের ভালো ফসল উৎপাদনে সব সময় যোগাযোগ করা হয়েছে। এবারের চাষে ভালো লাভবান হতে পারবেন কৃষকেরা।

শেরপুর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষি অফিসার ফারজানা আক্তার বলেন, বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে কৃষকরা আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করেন। এবার আবহাওয়া ও বাজার দুটিই ভাল থাকায় সবজি চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। ফুলকপি ও বাঁধাকপির বেশ চাহিদা রয়েছে বাজারে। বিক্রিতেও কোনো ঝামেলা নেই চাষিদের।


আরো সংবাদ


premium cement