০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

রাজশাহীতে অবৈধ অস্ত্রের বড় চালান জব্দ, আটক ৩

উপরে গ্রেফতার ব্যক্তিরা এবং নিচে উদ্ধার করা অস্ত্র। - ছবি : নয়া দিগন্ত

দেশের উত্তরবঙ্গে অবৈধ অস্ত্রের সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড় চালান জব্দ করার কথা জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

শুক্রবার (৭ অক্টোবর) ভোরে রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালী থানাধীন কাপাশিয়া পাহাড়পুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ অস্ত্রের চালান জব্দ করা হয় বলে জানায় পুলিশের এ এলিট  ফোর্সটি।

র‌্যাব জানায়, জব্দ করা অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- চারটি বিদেশী রিভলবার, তিনটি বিদেশী পিস্তল, চারটি ম্যাগজিন, আট রাউন্ড তাজা গুলি, চার রাউন্ড গুলির খোসা, এক কেজি ১০০ গ্রাম গান পাউডার, ৭৫০ গ্রাম পাথর, স্প্লিন্টার হিসেবে ব্যবহৃত লোহার বল ও তারকাটা, দু’টি মোবাইল ও চারটি সিমকার্ড।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শীর্ষ অস্ত্রব্যবসায়ীসহ তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাব।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- নগরীর মতিহার থানাধীন কাপাশিয়া এলাকার আতিকুর রহমান ওরফে আতিক (৩৫), চরকাজলা এলাকার শাহীন আলী (২৫) ও ধরমপুর পূর্বপাড়া এলাকার মো: শহিদুল (২৬)। এদের মধ্যে আতিকের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন শাহীন ও শহিদুল।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব-৫। সেখানে কথা বলেন র‌্যাব-৫ রাজশাহীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার।

তিনি বলেন, দেশের উত্তরবঙ্গে সাম্প্রতিককালের এটিই অবৈধ অস্ত্রের সবচেয়ে বড় চালান, যা আটক করেছে র‌্যাব। আটক ব্যক্তিরা চিহ্নিত শীর্ষ অস্ত্রব্যবসায়ী। এদের আটকের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদির বিরুদ্ধে র‌্যাব ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে, তা আবারো সকলকে মনে করিয়ে দিতে চায়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, র‌্যাব-৫ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, অস্ত্রের একটি বড় চালান সীমান্তবর্তী চর এলাকা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এসেছে। এরপর র‌্যাবের মোল্লাপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। এর ধারাবাহিকতায় তারা কাপাশিয়া পাহাড়পুর এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদলের সক্রিয় সদস্য আতিকের বাড়িতে অভিযান চালায়। তারা সেখানে আতিকসহ তিনজনকে আটক করে। আতিক অবৈধ অস্ত্রগুলো তার মুরগির খামারের পাশে একটি ছোট ঘরে রেখেছিলেন। ঘরটির ভেতরের দিক কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। প্রথমে আতিক অস্ত্রের কথা অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে নিজের হাতে অস্ত্রগুলো বের করে দেন। একই সাথে তার খামারে রাখা ককটেল বানানোর বিভিন্ন উপকরণও বের করে দেন তিনি।

আতিককে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, ভারত সীমান্তবর্তী এক স্থান থেকে মো: তানজিম (২৭) ও আবদুর রহিম (২৮) নামে দুই ব্যক্তির মাধ্যমে অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি সংগ্রহ করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে ওই সব চক্রের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিদের অস্ত্র সরবরাহ করতেন তারা। এদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাজশাহী তথা বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করা।


আরো সংবাদ


premium cement