২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯, ১ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

২ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে দোকান থেকে টাকা কেড়ে নেয়ার অভিযোগ

২ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে দোকান থেকে টাকা কেড়ে নেয়ার অভিযোগ - ছবি : প্রতীকী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ হাবিবুর রহমান হলের সামনের 'গ্রামীণ
টেলিকমের' ক্যাশ থেকে ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ২ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো: রাশেদ খান বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। ঘটনায় অপর অভিযুক্ত সোহাগ হাবিবুর রহমান হলের সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, দুপুর দেড়টার দিকে একজন নারী দোকানে ঢুকে পড়ে। ভুক্তভোগীর দাবি, ওই নারী মোবাইল রিচার্জের জন্য দোকানে আসেন। এ সময় অভিযুক্ত সোহাগ দোকানে নারী আসার কথা বলে ঝাপ নামিয়ে দেন। এর মধ্যে জিয়া হলের সভাপতি রাশেদ এসে ভুক্তভোগীকে হুমকি-ধমকি দিয়ে টাকা দাবি করেন। ঘটনার এক পর্যায়ে টাকার বিষয়টি মীমাংসা না হওয়ায় ক্যাশ থেকে তিনি ৫০ হাজারের মতো টাকা ছিনিয়ে নেন।

এদিকে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রতিবেদকের কাছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিয়া হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি পাশের দোকানেই ছিলাম। ওরা (অভিযুক্তরা) এসে তার সাথে ঝামেলা শুরু করে। আমরা কয়েকজন প্রক্টরকে ফোন দিতে চাইলে বলে আগে কিছু কট দিয়ে নিই। এরপর রাশেদ এসে পকেটে টাকা ভরে নিয়ে হাবিবুর হলে চলে যান।’

অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে জিয়াউর রহমান হলের সভাপতি রাশেদ বলেন, ‘আমি দুপুরে খাওয়ার জন্য হলের নিচে আসি। আসার পর দেখি ওই দোকানের সামনে গ্যাঞ্জাম। সেটি হলো দোকানের ভেতর মেয়ে থাকা সিনহা ও সোহাগ মিলে দোকানিকে আটকে রেখেছে। আমি সেখানে যাওয়ার ১ মিনিটের মধ্যে সহকারী প্রক্টর এসে তাদের নিয়ে যান। আমি কোনো টাকা নেইনি।’

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দোকানি সেলিম বলেন, আমার দোকানের পাল্লা খোলা থাকে। ওই নারী মোবাইল রিচার্জ করতে এসে ভেতরে চলে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যে সোহাগ নামের একজন আসে। আর দোকানে নারী থাকায় হুট করে ঝাপ নামিয়ে দেয়। পরে তার বন্ধুদের আসতে বলে আমাকে আটকে রাখে। এ সময় রাশেদ এসে আমার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। প্রথমে দুই-তিন হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি জোর করে ক্যাশ থেকে ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হক বলেন, টাকা নেয়ার বিষয়টি একটু আগে সাংবাদিকদের কাছ থেকেই জানলাম। তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী লিখিত কোনো অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। এছাড়া দোকানির বিরুদ্ধে যে নারীঘটিত বিষয়ে অভিযোগ সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপযুক্ত প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 


আরো সংবাদ


premium cement