০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`

সখ্যতা গড়ে মহসীন আলীকে হত্যা করেন স্ত্রীর সাবেক স্বামী

সখ্যতা গড়ে মহসীন আলীকে হত্যা করেন স্ত্রীর সাবেক স্বামী। - ছবি : নয়া দিগন্ত

জয়পুরহাটের ইমাম মহসীন আলী হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বগুড়া। পিবিআই বলছে, ইমাম মহসীনের সাথে সখ্যতা গড়ে তাকে হত্যা করেন তার স্ত্রীর সাবেক স্বামী শাহিনুর।

বৃহস্পতিবার গ্রেফতার শাহিনুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করে এ তথ্য দিয়েছেন বলে পিবিআই বগুড়ার পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন।

শাহিনুর নওগাঁ জেলার বদলগাছি থানার চাকরাইল গ্রামের নঈম উদ্দিনের ছেলে এবং নিহত ইমাম মহসীন আলী (২৬) জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার বেলগাড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

গ্রেফতারের পর শাহিনুর জানান, ১২ বছর সংসার করার পর এক মেয়ের মা ও তার স্ত্রী শারমিন সুলতানা ওরফে শাকিলা এক বছর আগে তাকে তালাক দেন। ওয়াসিফা নামের তার মেয়ে শাহীনুরের কাছে থাকে এবং স্থানীয় একটি স্কুলে ২য় শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।

চার মাস আগে শাহিনুরের স্ত্রী পাশের জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার বেলগাড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে স্থানীয় মসজিদের ইমাম মহসীনকে বিয়ে করেন।

শাহিনুরের সন্দেহ মহসীন তার স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তুলে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছেন। এই সন্দেহ থেকে শাহীনুর মহসীন আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহীনুর নিজের নাম পরিচয় গোপন করে মহসীনের সাথে মোবাইল ফোনে সখ্যতা গড়ে তোলেন।

৭ জুন সন্ধ্যায় শাহীনুর মোবাইলে যোগাযোগ করে কালাই উপজেলার মোলামগাড়ি বাজারে মহসীনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে দু’জনে চা পান করেন এবং বিভিন্ন গল্প করে সময় কাটান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহীনুর তার মোটরবাইকে মহসীনকে নিয়ে মোলামগাড়ি বাজার থেকে করিমপুরের রাস্তায় যান।

একপর্যায়ে ফাঁকা জায়গায় মোটরবাইক থামিয়ে মহসীনকে নিজের পরিচয় দেন এবং তার স্ত্রী শাকিলাকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছে বলে দোষারোপ করতে থাকেন। এ সময় তার সন্তান ওয়াসিফার উপবৃত্তির জন্য মা শাকিলার জন্মনিবন্ধন ও ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি দিতে বলেন। এতে মহসীন আপত্তি করে তার কাছে নেই বলে জানিয়ে দেন। এ সময় শাহিনুরের কাছে থাকা একটি লোহার পাত দিয়ে মহসীনের মাথার পিছনে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এ সময় শাহিনুর লোহার পাত দিয়ে মহসীনের মাথায় আরো কয়েকটি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ রাস্তার পাশের ধানক্ষেতে ফেলে মোটরবাইক নিয়ে চলে যান।

পর দিন ৮ জুন মহসীনের লাশ ধানক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখে কালাই থানা পুলিশ উদ্ধার করে এবং থানায় অজ্ঞাত আসামিদের নামে নিহতের বাবা মোহাম্মদ আলী মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই বগুড়ার পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন আরো জানান, মঙ্গলবার পিবিআই বগুড়ার সদস্যরা গাজিপুর জেলার গাছা থানা এলাকার ছয়দানা হাজিরপুকুর এলাকা থেকে শাহীনুরকে গ্রেফতার করে। হত্যাকান্ডের পর থেকেই শাহীনুর ঘন ঘন জায়গা পরিবর্তন করছিলেন।


আরো সংবাদ


premium cement