১৯ মে ২০২২, ০৫ জৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩
`

মান্দায় একটি সেতুর অভাবে ২ লাখ মানুষের ভোগান্তি


নওগাঁর মান্দা উপজেলার সদর প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন আশপাশের প্রায় দুই লাখ মানুষ ভোগান্তির শিকার। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও এখানে বাঁশের সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আত্রাই নদীর দুই পাড়ে বসবাসকারীরা এখানে একটি কংক্রিটের সেতু চান।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই নদী পারাপারে তাদের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখানে আজও একটি কংক্রিটের সেতু নির্মিত হয়নি। কর্তৃপক্ষ একাধিক বার আশ্বাস দিলেও তাদের কাঙ্খিত সেতুটি তারা পাচ্ছেন না। অথচ সেতুটি তাদের খুবই দরকার।

তারা বলেন, প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মিত হলে নদী পারাপারে আর অপেক্ষায় থাকতে হবে না। তাদের ঘুরতে হবে না অন্তত পাঁচ কিলোমিটার পথ। উপজেলা সদরে পৌঁছাতে পারবেন মাত্র ২০০ মিটার পথ পাড়ি দিয়ে।

স্থানীয়রা আরো জানান, সেতুটি হলে রোগীদের সহজেই নেয়া যাবে মান্দা হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও। কৃষকদের উৎপাদিত ধান,পাট, আখ, তিল, সরিষাসহ নানা পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি ও ব্যয় দুটোই কমবে। একইসাথে উপজেলার ৭নং প্রসাদপুর, ৫নং গনেশপুর, ৬নং মৈনম, ১২নং কাঁশোপাড়া ও ১৩নং কশব ইউনিয়নের লোকজন সহজেই উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবেন।

একইসাথে আত্রাই নদীর প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতুর অভাবে পারাপারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সবার। অনেক সময় মৌসুমে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এত দীর্ঘ সময় দেরিতে পারাপারের কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের। তাই মাত্র ৬০০ ফুটের একটি কংক্রিটের সেতুর খুবই দরকার পাঁচ ইউনিয়নের অন্তত দুই লাখ মানুষের।

প্রসাদপুর গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন মন্ডল ও বাসুদেব কুমার দাসসহ অনেকেই বলেন, শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে লোকজন নদী পারাপার হন। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে ঝুঁকি তখন আরো বেড়ে যায়। এ সময় নৌকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পারাপারে সমস্যার কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। রাত ১০টার পর পারাপার বন্ধ হয়ে গেলে পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়।

প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য শরিফ উদ্দিন বাচ্চু বলেন, প্রতিদিন এ খেয়াঘাট দিয়ে অন্তত ১৫ থেকে ১৬ হাজার লোক পারাপার হন। ভরা বর্ষায় এক সাথে অতিরিক্ত লোক নৌকায় চড়লে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেকে ঝুঁকি এড়াতে নদী পার না হয়ে পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করেন।

প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন খাঁন বলেন, সংকটাপন্ন রোগীদের হাসপাতালে নিতে এ অঞ্চলের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। নদী পারাপারের অপেক্ষায় না থেকে প্রসাদপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন বিশ্ববাঁধের দরগাতলা মোড় থেকে ফেরিঘাট হয়ে আড়াই কিলোমিটার পথ ঘুরে পরে আবার ফেরিঘাট থেকে আড়াই কিলোমিটার মোট পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তবেই হাসপাতালে যেতে হয় তাদের। বিশেষ করে সন্তান সম্ভবা মায়েদের জন্য খুবই মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ সময়ের কারণে এসব রোগীদের অনেককেই বাঁচানো সম্ভব হয় না। পথেই অনেকে মৃত্যুবরণ করেন। কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় পণ্য পরিবহনে একইভাবে ভোগান্তির শিকার এখানকার দরিদ্র কৃষকরা।

গনেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দিন মন্ডল বলেন, সেতুটি নির্মিত হলে সাতবাড়িয়া মোড় হয়ে গনেশপুর, মৈনম, কাঁশোপাড়া ও কশব ইউনিয়নের লোকজন মহাসড়ক ব্যবহার না করে তাড়াতাড়ি উপজেলা সদরে পৌঁছাতে পারবেন। দক্ষিণ এলাকার লোকজনও একইভাবে সতিহাটসহ নওগাঁ শহরে যাওয়ার সুবিধা পাবেন।

গোটগাড়ী শহীদ মামুন সরকারি হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতুর অভাবে শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণী-পেশার লোকজনকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তাই এখানে একটি সেতুর জরুরি দরকার।

সদ্য বিদায়ী উপজেলা প্রকৌশলী মোরশেদুল হাসান বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মোহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক প্রসাদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের একাধিক টিম মাটি পরীক্ষা, স্থান নির্ধারণসহ সেতুর ধরন নিয়ে নানাভাবে কাজ শুরু করেন। গত বছর সেতুটি নির্মাণ কাজের সমীক্ষা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সেতুটির সম্ভাব্যতা পরিদর্শন করেছেন। সে সসয় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত এ সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে বলেও আশ্বস্ত করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল দফতর বলছে, ওই খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের জন্য কয়েক দফায় মাটি পরীক্ষা, স্থান নির্ধারণ ও সেতুর ধরন নিয়ে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধি দল একাধিক জরিপ করেছে। আশাকরি খুব শিগগিরই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে।


আরো সংবাদ


premium cement