২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

বেড়া পৌরমেয়র পদে চাচা ভাতিজার লড়াই

বেড়া পৌরমেয়র পদে চাচা ভাতিজার লড়াই - ফাইল ছবি

রোববার বেড়া পৌরসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনে মেয়র পদে চাচা ভাতিজার হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন। এবার মেয়র পদে ৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য অ্যাডভোকেট আসিফ সামস রঞ্জন (নৌকা), বর্তমান মেয়র বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল বাতেন (নারকেল গাছ), সাদিয়া আলম (মোবাইল) স্বতন্ত্র, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরি সদস্য ফজলুর রহমান মাসুদ (রেলইঞ্জিন) স্বতন্ত্র, কে এম আব্দুল্লাহ (জগ) স্বতন্ত্র।

পৌরসভার ১০টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫১ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বেড়া পৌরসভার ১০টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৪২ হাজার ৮১৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২১ হাজার ৭৮২ জন, নারী ভোটার ২১ হাজার ৩৬ জন। মোট ১৮টি ভোট কেন্দ্রের ১৪২টি বুথে ইভিএম’এ ভোট গ্রহণ করা হবে।

বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, পৌর এলাকায় দলগতভাবে আওয়ামী লীগের ভোটার প্রায় ১৬ হাজার। জোটগতভাবে বিএনপি ও জামায়াতের মিলিত ভোট সংখ্যা প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার। আওয়ামী লীগের ভোট ৪ জনের মধ্যে ভাগ হওয়ায় বিএনপি ও জামায়াতের ভোট বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের ভোট যার বাক্সে যাবে সেই প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অ্যাডভোকেট আসিফ সামস রঞ্জন বেড়া আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে নতুন মুখ। তার ভরসা নৌকা প্রতীক ও বাবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুল হক টুকুর ইমেজ। তার সমর্থকরা বিজয় নিশ্চিত বলে আশাবাদি। অন্যদিকে আসিফ সামসের চাচা স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল বাতেন দীর্ঘ ২২ বছর একটানা মেয়রের দায়িত্ব পালন করায় এলাকায় তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক তৈরি হয়েছে। ফজলুর রহমান মাসুদ ছাত্র জীবন থেকে বেড়া এবং জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। এছাড়া সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর আর্শীবাদ রয়েছে। ওই সাবেক মন্ত্রীর এলাকায় একটি সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের ভোট কম বেশি ৩ প্রার্থীর মধ্যেই ভাগ হচ্ছে। অপর দুই প্রার্থী কে এম আব্দুল্লাহ ও সাদিয়া আলম নির্বাচনী মাঠে তেমন কোনো প্রভাব চোখে গড়ছে না।

এদিকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এখানে বিএনপি-জামায়াতের ভোট প্রার্থীর বিজয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন।

তবে পৌর এলাকা ঘুরে জানা গেছে, মূল লড়াই যে চাচা ভাতিজার মধ্যেই হচ্ছে তা এখন স্পষ্টতর হচ্ছে। তাই একজন আর একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করে চলছেন। এখন দেখার বিষয় বিএনপি জামায়াতের ভোট কার দিকে যায়।

ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিআই) পাবনা জেলা সভাপতি বেড়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর স্বনামধন্য চিকিৎসক আব্দুল বাসেদ খান জানান, দল নির্বাচন বর্জন করায় তাদের মেয়র প্রার্থী নেই। কাউন্সিলর পদে দলের কেউ কেউ প্রার্থী হয়েছে। দলীয় কর্মী সমর্থকদের পৌর নির্বাচনে ভোটদানে দলের কোনো দিক নির্দেশনা নেই।

বেড়া পৌর বিএনপি সভাপতি মো: ফজলুর রহমান ফকির জানান, দল নির্বাচন বর্জন করায় তারা নির্বাচনে অংশ নেননি। কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আছে, তারা তাদের মতো প্রচারণা চালিচ্ছে। কোনো মেয়র প্রার্থীকে আমরা সমর্থন দেইনি। সমর্থকরা যাকে ভালো মনে করবেন তাকেই ভোট দেবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

বেড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা নৌকার প্রার্থীর বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেনি। তাদের নেতা কাজ না করলেও সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা আমাদের সাথে কাজ করছে।

সরেজমিন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বিশেষ করে ভাসমান ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখনো কোনো সিন্ধান্ত নেননি।

বিএনপি ও জামায়াত সমর্থন করেন এমন ভোটারদের সাথে আলাপে জানা গেছে, তারা কাকে ভোট দেবেন তা খোলাসা করছেন না।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সবুর আলী জানান, বেড়া পৌরবাসীকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন উপহার দিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ জন্য ১০ ওয়ার্ডে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট, ৪ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাব, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ভিজিল্যান্স টিম কর্মরত থাকবে।


আরো সংবাদ


premium cement