১৩ মে ২০২১
`

পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে লকডাউন চাষিদের মাথায় হাত

পেঁয়াজ - ছবি : সংগৃহীত

পাবনার হাটে হাটে উঠতে শুরু করেছে মৌসুমি চারা পেঁয়াজ। এ দিকে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। এতে ক্ষতির মুখে পরার আশঙ্কা করছে পেঁয়াজচাষিরা। সার, কীটনাশক, বীজ ও শ্রমিকের দাম বেশি হওয়ায় খরচ হয়েছে বেশি। কিন্তু ভরা মৌসুমে লকডাউনে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে পেঁয়াজ।

গত দুই বছর ভালো লাভ পেয়ে পেঁয়াজের আবাদ এ বছরে অনেক বেশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা কৃষি বিভাগের। তবে বীজের বাড়তি দাম ও শ্রমিকের দাম বাড়ার কারণে এবার বেড়েছে উৎপাদন খরচ। তাই লোকসান কাটাতে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করার দাবি চাষিদের।

দেশের উৎপাদিৎ মোট পেঁয়াজের চার ভাগের এক ভাগ উৎপাদন হয় পাবনা জেলায়। এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ছয় লাখ মেট্রিক টন। সারা দেশে যেখানে উৎপাদন হয় ২৫ লাখ মেট্রিক টন। আর এ জেলার বেশির ভাগ উৎপাদন হয় সুজানগর উপজেলার গাজনার বিলে। এ ছাড়া জেলার সাঁথিয়া, চাটমোহর ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে আবাদ হয়েছে চারা জাতের পেঁয়াজ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি না হওয়ায় চলতি মৌসুমে নির্বিঘেœ আবাদ শেষে এখন পেঁয়াজ তুলতে ব্যস্ত সময় কাটচ্ছেন এ অঞ্চলের চাষিরা। আর হাটে-বাজারে ভিড় করছেন দূর-দূরান্তের ব্যাপারী ও পাইকাররাও।

ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতি না হওয়ায় চলতি মৌসুমের পেঁয়াজের গুণগত মানও ভালো। কিন্তু দেশে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে গত সোমবার থেকে চলমান লকডাউনে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে পেঁয়াজচাষিরা। ভরা মৌসুমে যদি পাইকাররা আসতে না পারে আর পরিবহনসঙ্কট হয় তাহলে তাদের মাথায় হাত পড়বে।

সুজানগর পেঁয়াজ হাটের চাষি শামসুল আলম জানান, গতবারের তুলনায় এ বছর পেঁয়াজের চারা কিনতে হয়েছে প্রায় সাত গুণ দামে। গত বছর ছিল দুই হাজার টাকা মণ। এ বছর ১৫ হাজার টাকায় এক মণ কিনতে হয়েছে। কিন্তু এবার পেঁয়াজের দাম গতবারের চেয়ে কম। প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়। এই দামে তাদের উৎপাদন খরচ উঠছে না। প্রতি মণ পেঁয়াজ কমúক্ষে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হলে কিছুটা লাভ হবে। অ্যথায় বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে চাষিদের।
পেঁয়াজচাষি বক্কার খান বলেন, এবার ১৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছি। কিন্তু কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে আমরা হতাশ। অনেক টাকা লোকসান গুনতে হবে। তিনি চলতি বছর ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করা এবং পেঁয়াজের দাম কমপক্ষে দুই হাজার টাকা করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি করেন।

পেঁয়াজের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে হঠাৎ লকডাউন ঘোষণা করায় তাদের পরিবহনসঙ্কট দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে পেঁয়াজ ক্রয় বিক্রি করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। তাই পেঁয়াজের ট্রাক বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যেন বন্ধ করা না হয় তার দাবি জানান তিনি।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, আপাতত সরকারের পেঁয়াজ আমদানির পরিকল্পনা না থাকায় চাষিদের লোকসান হবে না। চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৪ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে চারা পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদন আশা করা হচ্ছে সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন।

সারা দেশে মোট ২৫ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়ে থাকে। সেখানে পাবনাতেই ছয় লাখ মেট্রিক টন আমরা জোগান দিয়ে থাকি। তবে চারা বীজের দাম বেশি হওয়ায় এবার তাদের উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। তবে ভালো উৎপাদন হওয়ায় সে লোকসান কৃষকরা পুশিয়ে নিতে পারবে।



আরো সংবাদ