১৯ এপ্রিল ২০২১
`

রাজশাহীতে ১ চিকিৎসক ও ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

রাজশাহীতে ১ চিকিৎসক ও ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ - ফাইল ছবি

রাজশাহীতে এক ব্যক্তির ‘রহস্যজনক’ মৃত্যুর ঘটনায় আদালতকে অসহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সাথে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তরা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন অপতৎপরতায় লিপ্ত বলে ভুক্তভোগী পরিবারে দাবি করছে। এ ঘটনায় এক চিকিৎসক ও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজশাহী নগরীর মধ্য নওদাপাড়া এলাকার বাসিন্দা শ্যামল কুমার রক্ষিতের মৃত্যুর বিষয়ে জব্দ তালিকা, মামলা বা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মূল কপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ না করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করা হয়। ২০১৭ সালের ২১ মে মধ্য নওদাপাড়া এলাকায় শ্যামলের গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। তবে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার পা মাটি স্পর্শ করেছিল। তাই পরিবারের পক্ষ থেকে শ্যামলকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে ওই সময় থানায় হত্যা মামলা হয়নি।

এ দিকে মৃত শ্যামল কুমার রক্ষিতের স্ত্রী নমিতা রাণী রক্ষিতের দাবি, লাশ পাওয়ার পর তিনি থানায় একটি লিখিত এজাহার দেন। তবে এক বছর পর তিনি জানতে পারেন মামলাটি রেকর্ড হয়নি। এমনকি কোনো অপমৃত্যুরও মামলা করেনি পুলিশ। শুধু একটি জিডি করে লাশ ময়নাতদন্ত করে পুলিশ। এরপর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে তিনি আদালতে মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির পর পর তিনটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এ দিকে পুলিশ যে জিডি করেছিল, সেটির নিষ্পত্তির জন্য আদালত বারবার নথিপত্র ও জব্দ তালিকা তলব করেন। ডাকা হয় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এবং লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককেও। কিন্তু নথিপত্র আদালতে পাঠানো হয়নি। সব পুলিশ কর্মকর্তাও আদালতে যায়নি। হাজির না হওয়ার কারণও আদালতকে জানায়নি ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এনামুল হক।

এ কারণে গত ১৭ জানুয়ারি নমিতা রাণী রক্ষিতের আইনজীবী নীলিমা বিশ্বাস তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেন। আবেদনে নগরীর শাহমখদুম থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম, পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার আলী তুহিন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান, শাহমখদুম সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার শামছুল আযম ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুর রশিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৬৭/২২৮/১৬৬/২১৭/২০১ ধারা মোতাবেক এবং ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এনামুল হকের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৯৭ ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানানো হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৫ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশক্রমে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার ও আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা শামছুল আযম এখন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। আবদুর রশিদ এখন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। এসআই আমিনুল ইসলাম এখন বগুড়া পিবিআইতে কর্মরত। শাহমখদুমের তৎকালীন ওসি জিল্লুর রহমান এখন আরএমপির কাটাখালী থানার ওসি। আর পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার আলী তুহিন এখন আরএমপির কর্ণহার থানার ওসি। ডা. এনামুল হক রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের শিক্ষক।

মৃত শ্যামল কুমার রক্ষিতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ এবং ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্যামলের মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। শ্যামলকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের লেখা কাটাকাটি হত্যাকে আত্মহত্যা উল্লেখ করা হয়েছে। আর পুলিশ হত্যা মামলার এজাহার নিলেও সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি।

পরিবার জানিয়েছে, শ্যামলের লাশ পাওয়ার সময় তার পা মাটি স্পর্শ করেছিল। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনেই বিষয়টি উঠে এসেছে।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নগরীর শাহমখদুম থানার তৎকালীন ওসি (বর্তমানে কাটাখালী থানার ওসি) জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার সম্পর্কে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। আর ওই সময় কেউই আমাকে বিষয়টি জানাননি।’

তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের তরফ থেকে আইনি যে পদক্ষেপ নেয়া দরকার ছিল সে ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যত্যয় ঘটে থাকতে পারে।

অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস নয়া দিগন্তকে বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এ সংক্রান্ত দাফতরিক চিঠিটি তারা পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।



আরো সংবাদ