১৭ এপ্রিল ২০২১
`

বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাও ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীদের

সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ
বাঘায় যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্মীদের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ - ছবি : নয়া দিগন্ত

এক ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধরের জের ধরে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাও, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মী সমর্থকেরা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বাঘা পৌরসভার কাউন্সিলর, যুবলীগ নেতা শাহীনুর রহমান পিন্টু সমর্থিত যুবলীগ, ছাত্রলীগের কর্মী ও সর্মথককেরা ঘেরাও, অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।

এ নিয়ে বাঘায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিদ্যমান দু’টি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে শাহীনুরের সমর্থকদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার সময় বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু উপজেলা কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ছাত্রলীগ কর্মী সোহাগ রানাকে (২২) মারধর করার ঘটনায় সড়ক অবরোধ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাও করেন একই সংগঠনের প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা। মারধরে আহত সোহাগ রানা উপজেলার গাঁওপাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী দবির উদ্দিনের ছেলে এবং বাঘা শাহদৌলা সরকারি কলেজের ডিগ্রী চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। সোহাগ রানা বাঘা পৌরসভার কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা শাহীনুর রহমান পিন্টুর সমর্থক।

বাঘা পৌর যুবলীগের সভাপতি শাহীন আলম অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানান, সোহাগ তার বাবাকে ব্যবসার কাজে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে বাঘার হাটে মাছ বিক্রি করছিলেন। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু সমর্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা সোহাগ রানাকে মেরে রক্তাক্ত জখম করেন। মারধর করাকালে সোহাগের বেশকিছু টাকা কেড়ে নেয়াসহ দোকান লুটপাট করেন হামলাকারীরা। পরে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা সড়ক অবরোধসহ উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাও, সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ করেন। এরপর বাঘা পৌরসভার কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা শাহিনুর রহমান পিন্টুর হস্তক্ষেপে সড়ক অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বাঘা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন সুরুজ সাংবাদিকদের বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি কুচক্রিমহল উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলুর ইমেজ নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তাকে নিয়ে এমন ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র লজ্জাজনক। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুরুজ নিজে ও তার সহযোগীরা কেউই হামলা ও কথিত লুটপাটের সাথে জড়িত নয় বলে দাবি করেন।

এ ব্যাপারে বাঘা পৌরসভার কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা শাহীনুর রহমান পিন্টুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তার সমর্থকেরা জানিয়েছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু সাংবাদিকদের জানান, শুনেছি লাঠি-সোঠা ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা আমার ওপর হামলা করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি তিনদিন ধরে রাজনৈতিক কাজে রাজশাহীতে আছি। এ কারণে তারা আমাকে না পেয়ে গালিগালাজ করে চলে গেছে বলেও শুনেছি। এটি খুবই ন্যাক্কারজন ঘটনা। তবে কেন তারা এটি করেছে আমি কিছুই জানি না।

বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, একটি ঝামেলা হয়েছিলো। তবে পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।



আরো সংবাদ