১৭ জানুয়ারি ২০২১
`

স্বামীর ছোঁড়া এসিডে ঝলসে গেলেন স্ত্রী, ঘাতক স্বামী আটক

-

নাটোরের বড়াইগ্রামে তালাক দেয়ায় স্ত্রীকে এসিড মেরে ঝলসে দিয়েছেন স্বামী আবু তালেব। এতে স্ত্রী নুপুরের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের কামারদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই পুলিশ উপজেলার মৌখাড়া এলাকা থেকে আবু তালেবকে আটক করেছে।

এসিডে ঝলসে যাওয়া ওই গৃহবধূর নাম নার্গিস আক্তার নুপুর (২৮)। তিনি কামারদহ গ্রামের আনোয়ার হোসেন তাজেমের মেয়ে। অভিযুক্ত আবু তালেব উপজেলার আহম্মেদপুর এলাকার মৃত রাহাত আলীর ছেলে।

বড়াইগ্রাম থানা ও নুপুরের পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবু তালেব কয়েক বছর যাবৎ নার্গিস আক্তার নুপুরকে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। কিন্তু বিয়ের পর নুপুর জানতে পারেন তার স্বামী ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। এরপর থেকে তাদের মধ্যে প্রায়ই দ্বন্দ্ব-কলহ লেগে থাকতো। পরে এর জের ধরে এক সপ্তাহ আগে নুপুর আবু তালেবকে তালাক দেন। কিন্তু তালাকের নোটিশ পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে যান আবু তালেব।

একপর্যায়ে সোমবার সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়ি এসে নুপুরকে ডাক দিলে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় আবু তালেব তার স্ত্রীর শরীরে এসিড ছুড়ে মারেন। এতে নুপুরের মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। এ সময় তার চিৎকারে স্বজনরা এগিয়ে এলে আবু তালেব পালিয়ে যান। পরে স্বজনরা নুপুরকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ দিকে নুপুরের অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নুপুরের বাবা আনোয়ার হোসেন তাজেম জানান, এসিডে তার মেয়ের মুখের একটি অংশ ও শরীরের বাম দিকে কিছু অংশ ঝলসে গেছে। এখন সে বাম চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। রাতেই অভিযুক্ত আবু তালেবকে আটক করা হয়েছে।



আরো সংবাদ