০১ জুন ২০২০

দিনাজপুরে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় নেই কোনো ব্যবস্থা

দিনাজপুরে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় নেই কোনো ব্যবস্থা - ছবি : সংগৃহিত

‘আপনারা ঘরে থাকুন, আমরা সংবাদ পৌঁছে দেব’ এই প্রত্যয় নিয়ে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে কাজ করে যাচ্ছেন দিনাজপুরের সাংবাদিকরা। নেই কোনো তাদের সুরক্ষা পোষাক। বৈশ্বিক বিস্তার করা প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের যে পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুমেন্ট (পিপিই) প্রয়োজন তাতে কারো নজর নেই।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি, হিলি ও বিরল স্থলবন্দর, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পে বিদেশীদের অবস্থান ও সীমান্ত বেষ্টিত এ জেলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করতে হচ্ছে সাংবাদিকদের।

করোনাভাইরাস অত্যন্ত ছোঁয়াচে, তাই ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি এবং এক জনগোষ্ঠী থেকে অন্য জনগোষ্ঠীতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় জেলায় এখন প্রায় ৪ শতাধিক হোম কোয়ারেন্টিন এবং এক শিশুসহ ২ জন আইসোলিউশনে রয়েছেন।

বিদেশফেরত ৩ হাজার ২২ জন প্রবাসীর মধ্যে এখনো অনেকে হোম কোয়ারেন্টিনের বাইরে রয়েছেন। আত্মগোপন করা প্রবাসীদের স্থানীয় জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ তাদের খুঁজছেন।

“হাসপাতালে রোগী আসছে, চিকিৎসক নেই” এমন রিপোর্টও করছেন দিনাজপুরের সাংবাদিকরা। এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে ছুঁটছেন সাংবাদিকরা।

সারাদেশ যখন হোম কোয়ারেন্টিনে তখন তারা ঘরে সংবাদ পৌছে দিচ্ছেন। দেশবাসী ওই সংবাদ গণমাধ্যমে পড়ে বা দেখে ঘরে সময় পার করছেন। ঘরে বসেই জানতে পারছেন, দেশ-বিদেশের সব পরিস্থিতি। যদি সাংবাদিকরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তা হলে শুধু ওই সাংবাদিক ও তার পরিবারের সদস্যরাই নয়, দেশব্যাপী আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে করোনাভাইরাসের।

তাই সাংবাদিকদের নিয়ে বিদ্রুপ মন্তব্য বা নিশ্চুপ থাকার সময় নেই আর। অনেক সাংবাদিক খেয়ে না খেয়ে ছুঁটছেন সংবাদ সংগ্রহে। ঘুম, খাওয়া হারাম করে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করছেন, অক্লান্ত পরিশ্রম এ দূর্যোগ মোকাবেলায়। যদিও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ দিতে আইনজীবী মো: জেআর খান রবিন জনস্বার্থে হাইকোর্টে ২৩ মার্চ রিট দায়ের করেন। ওই দায়ের করা রিটে হাইকোর্ট সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ দিতে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দিয়েছেন। কিন্তু, তারপরও কোনো সুরাহা হয়নি। কোনো সাংবাদিকই প্রয়োজনীয় ইকুমেন্ট পাননি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত নজর দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তৃণমূলে কাজ করা সাংবাদিকবৃন্দ।


আরো সংবাদ