০৯ মার্চ ২০২১
`

`আমার প্রতিটি সম্পর্ক রবীন্দ্র নাথের ছোট গল্পের মতো সুন্দর'

লাভগুরু তামিম হাসান - ছবি : ফেসবুক

‘রেডিও আমার’-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান আমার ভালোবাসায় ‘লাভগুরু’ হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তামিম হাসান। বিভিন্ন বয়সী ছেলেমেয়েদের ভালোবাসার গল্প শুনে পরামর্শ দেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে লাভগুরুর ভালোবাসার কী খবর। সেই বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন স্পষ্টভাবে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলমগীর কবির

ভালোবাসায় কমিটমেন্ট রক্ষায় সবচেয়ে ভালো উপায় কি?
মনপ্রান দিয়ে ভালোবাসতে হবে। যাকে ভালোবাসবো তার ভালো মন্দ সবকিছুকেই ভালোবাসতে হবে। ইনফেক্ট এই সম্পর্কটা যে চাইলেই পরিবর্তন করা যায় এই চিন্তাভাবনা মাথা থেকে সারা জীবনের জন্য বাদ দিতে হবে। আর একটু খোলাসা করে বললে আমাদের মা বাবা ভাই বোন তাদের সাথেও অনেক সময় আমাদের ভুলবোঝাবুঝি হয়। কিছুটা মানষিক দুরত্ব তৈরী হয়। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে আমরা একবারও তাদের কে বদলে ফেলার চিন্তা মাথায় আনি না কারণ আমরা জানি এই সম্পর্ক গুলো চাইলেই পরিবর্তন করা সম্ভব না। শুধু প্রেম ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটু ঝামেলা হলেই আমরা হাত বদলের চিন্তা করি।এ ধরনের মানসিকতা থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে। পরিবারের সদস্য দের মতো করেই তার ভুল ত্রুটি শুধরে নিয়ে হাতটা শক্ত করে ধরে রাখতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা খুব বেশি। এর কারণ কি বলে মনে হয় আপনার?
সম্পর্ক ভাঙ্গা গড়া জীবনেরই অংশ। তবে একথা ঠিক যে সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার প্রবণতা একটু বেশী। এর কারণ আসলে অস্থিরতা। আমরা সবাই হয়তো এখন একটু অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। একটু অসঙ্গতি হলেই হাত বদলের চেস্টা করি।

আমাদের পারিবারিক বন্ধন এর দিকটা একটু দুর্বল হয়ে যাওয়া অন্যতম একটি কারণ।এছাড়া পরিবার থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গুলো নিয়ে নতুন প্রজন্ম কে খুব একটা সচ্ছ ধারণা দেয়া হয় না। এটা একটা কারণ আর সবচেয়ে বড় কারণ আমার মনে হয়, সোশ্যাল মিডিয়ার যাচ্ছে তাই ব্যবহার। প্রতিনিয়ত আমরা স্ক্রলিং করতে করতে সম্পর্ক গুলোকেও স্ক্রলিং এর ভিড়ে হারিয়ে ফেলি। ভালোবাসা ভালোলাগার পার্থক্য বুঝতে পারিনা। সম্পর্ক গড়তে খুব কম সময় নেই। তাই সেই সম্পর্কগুলো আবার হুটহাট ভেঙ্গে যায়।

গুরু হতে হলে তো সাধনার প্রয়োজন। লাভগুরু হতে কত বছর সাধনা করতে হয়েছে?
লাভগুরু আসলে কোন তান্ত্রিক বা সুপার হিউম্যান নয়। যে লাভগুরু হতে গেলে অনেক সাধনা করতে হবে। লাভগুরু একজন সাধারণ মানুষ। লাভগুরু ও একজন অতি সাধারণ প্রেমিক। প্রেমিকার দেয়া সুখ দুঃখে যে সহজেই প্রভাবিত হয়ে যায়। তাই লাভগুরু হতে গেলে আলাদা কোন সাধনার প্রয়োজন নেই। তবে একটা বিষয় আমি বছরের পর বছর খুবই আনন্দের সাথে আমি করছি সেটা হচ্ছে আমার শ্রোতাদের দুঃখ, কষ্ট, বেদনা অথবা যেকোন সমস্যাকে নিজের দুঃখ-কষ্ট অথবা সমস্যার মতো করে লালন করা। আপনি আপনার দুঃখ কষ্ট অথবা সমস্যার কথা লাভগুরুকে বলার সাথে সাথে সমাধান হয়ে যাবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু লাভগুরুর সঙ্গে বিষয়গুলো শেয়ার করলে আপনি ভালো বোধ করবেন। কিছুটা হলেও আপনার অস্বস্তির বোঝা হাল্কা হবে এটা নিশ্চিত।

এই লম্বা জার্নিতে সবচেয়ে মধুর অভিজ্ঞতা কী? আর তিক্ততা?
ভালোলাগার অভিজ্ঞতার গল্প বলে শেষ করা যাবেনা। অনেক ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্কের জোড়া লেগেছে আমার এই স্টুডিওতে বসে। পালিয়ে বিয়ে করেছে অথচ বাবা মা মেনে নেয়নি।তাদের পুরো গল্প শুনে বাবা মা কাঁদতে কাঁদতে স্টুডিওতে হাজির হয়েছেন এমন ঘটনাও ঘটেছে। আমি নিজেও দায়িত্ব নিয়ে কয়েক জোড়া প্রেমিক প্রেমিকার বিয়ে দিয়েছি। পরবর্তিতে তাদের জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতে বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করার চেস্টা করেছি। তাদের অনেকেই এখন খুব ভালো অবস্থানে আছেন। আলহামদুলিল্লাহ এমন অনেক আনন্দের গল্পে ভরা আমার জীবন।

তিক্ত অভিজ্ঞতা খুব একটা নেই। তবে মাঝে মধ্যে বিব্রত অবস্থায় পড়তে যে হয়না তা নয়। কয়েক বছর আগের কথা। তখনো রেডিও তে ফেইসবুক লাইভ সংযুক্ত হয়নি। সদ্য বিবাহিত জুটি ঝলমলে প্রেমের গল্প বললো তাদের পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার গল্প বললো। অনুষ্ঠান শেষ করে নিচে নামার পরে মেয়ের অভিবাবকরা নিচে থেকে জোড় করে ধরে নিয়ে গেল আর ছেলেটা কে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ। পরে অনেকদিন পর জানতে পারি মেয়েটার অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে গেছে এবং ছেলেটা তখনও জেলে। এই ঘটনাটা আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। আমার এখনো মনে হয় আমার শো তে না এলে ওদের জীবনটা হয়তো এমন নাও হতে পারতো। নাম গোপন করে গল্প বললেও ভয়েস শুনে মেয়ের পরিবার ওদের চিনে ফেললো এবং অফিসের নিচ পর্যন্ত চলে এলো।

কারো কোন কথা যা এখনো মনে হয়, আফসোস হয়?
আমার সব কিছু মনে থাকে। আলাদা করে তাই আমার কাউকে মনে করতে হয়না। আমি ভালো মন্দ কোন কিছুই খুব সহজে ভুলিনা বা ভুলতে পারিনা। ওই যে তোমাকে ভুলতে ভুলে যাই টাইপের একটা ব্যাপার আর কি। আর আমার জীবনের প্রতিটি বাঁকে এতো উচ্ছ্বাস আনন্দ আর উৎসব করার মতো অনুসঙ্গ তাই আলাদা করে আফসোস করার মতো সময় খুব একটা হয়ে ওঠেনা।

গুরুকে গুরু বানাতে কোন নারী/প্রেয়সীর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি ছিল?
মা, প্রেমিকা, বোন বন্ধু অথবা সহকর্মী যে নামেই হোক না কেন আমার জীবনে তারা আবির্ভূত হয়েছে আশির্বাদের মতো। শুধু লাভগুরু কেন আমর প্রতিটি অর্জনে তাদের কারো না কারো অবদান ছিলো। তাদের প্রতি আমার আজন্ম কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা।

সবচেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছিলেন কার সাথে?
নিজের সাথেই। প্রতিটি মানুষ সবচেয়ে বেশী পথ পাড়ি দেয় নিজেকে সাথে নিয়েই। আর জীবনে একবার নিজেকে সঙ্গী করে পথ চলতে শিখে গেলে এক জীবনে তাকে আর কখনো একা হাঁটতে হয় না। আর যদি আলাদা করে আমার প্রেমের সময়কাল গুনতে বলা হয় আমি একটু অন্য এংগেল থেকে বলতে চাইবো। কারণ আমার জীবনের প্রতিটি সম্পর্কই রবীন্দ্র নাথের ছোট গল্পের মতো সুন্দর ঝলমলে। তাই ক্যালেন্ডার ইয়ার মিলিয়ে আমাকে বা আমার সম্পর্কগুলো কে খুব একটা রিলেট করা যাবেনা।

এখন কি সিঙ্গেল নাকি মিঙ্গেল?
নানা রংয়ের এক বা একাধিক সম্পর্ক আমাকে সবসময় জড়িয়ে রাখলেও ঘোষণা দিয়ে বলার মতো কোন সম্পর্কে বা প্রেমে আমি নেই।

গুরু বিয়ে করবেন কবে, নাকি সন্ন্যাসী থাকবেন আজীবন?
জীবনে অনেক কিছু পরিকল্পনা মতো হলেও আমার মনে হয় এই একটা জিনিষ পরিকল্পনা করে করা যায়না।তাই আলাদা করে কোন পরিকল্পনা নেই। যে কোন সময়ই হতে পারে। আজ কাল পরশু। অথবা আরো পরে। কিংবা আরো অনেক পরে।

লাভগুরুর সিটে তামিম হাসান

ভ্যালেনটাইনস ডেতে লাভগুরুর কি কি ব্যাস্ততা?
এই দিনটা বেশ ব্যাস্ততার ভেতর দিয়ে যায় আমার রেডিও তে দুইটা লাইভ শো করবো। বিকেল চারটা থেকে থাকবো রবি স্টার লাইভ চ্যাটে। সন্ধ্যায় ফারজানা’স গেস্ট নামে একটা শোতে অংশ নিবো। এছাড়া নিউজ জি ২৪ এবং পোস্ট এ পিস থেকে দুটি ভিডিও কনটেন্ট রিলিজ হচ্ছে।

লাভগুরু এক কথায় প্রেমিক প্রেমিকাদের উদ্দেশ্যে কি বলবেন?
‘ভালোবেসে ভালো রাখো ভালোবেসে ভালো থাকো’



আরো সংবাদ