০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

চিপ উৎপাদনে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ছে

বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খবর ছিল মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে তীব্র হয়ে উঠেছিল এই বাণিজ্য সঙ্ঘাত। এরপর করোনাভাইরাস এবং তারপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দৃশ্যপট থেকে এক প্রকার হারিয়ে গিয়েছিল বাণিজ্যযুদ্ধ। তবে মার্কিন প্র
চিপ উৎপাদনে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ছে -

বিদেশী চিপ কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কর্মকর্তা পিটার হ্যারেল বলেন, চিপ উৎপাদনে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ছে। এজন্য বিপুল পরিমাণ প্রণোদনাও দেয়া হচ্ছে। এ খাতের নিয়ন্ত্রণে নতুন আইনও করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে চীন থেকে বিশেষায়িত চিপ ও চিপ উৎপাদনের যন্ত্রপাতি আমদানির পরিমাণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু এ বিনিয়োগ যেন দেশের নিরাপত্তাকে বিঘিœত না করে সেদিকেও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি দেয়া উচিত।
মার্কিন এ বিনিয়োগ বাইডেন সরকারের জন্য বেশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেহেতু এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে তাই গোটা বিষয়টিই একটি আইনের আওতায় আনতে চায় সরকার। হোয়াইট হাউজের একটি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউজ একটি নির্বাহী আদেশ দিতে চায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বিশেষ একটি ক্ষমতা দেয়া হবে। এর মাধ্যমে উচ্চপ্রযুক্তি খাতের বিদেশী কোম্পানিতে মার্কিন বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো সন্দেহ হলে তাতে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে সরকার, বিশেষ করে চীনের প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই আদেশটি জারি হতে পারে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিক থেকে আদেশটি কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্য চেম্বার অব কমার্স আশা করছে, বাইডেন সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতি জারি করবে। এ আদেশের মাধ্যমে যেন গোটা খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে অর্থ ও বাণিজ্য, উভয় বিভাগকেই অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি, যা প্রাথমিকভাবে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম খাতে বিনিয়োগে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করবে।
বিদেশে মার্কিন বিনিয়োগের বিষয়ে নেয়া যেকোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এমনভাবে আইন প্রণয়ন করা উচিত যার মাধ্যমে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এবং সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁঁকির মধ্যে যে ফাঁকগুলো আছে তা পূরণ করা যায়।
আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো সারাহ বাউরলে জানিয়েছেন, বাজার উন্মুক্ত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের যে প্রতিশ্র“তি তা যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। মার্কিন ব্যবসার জন্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় এবং তা যেন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়। দেশের বাইরে বিনিয়োগ করার বিষয়টি অবশ্যই যথাযথ আইনসিদ্ধ হতে হবে, সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে হতে হবে।
যেসব অংশীদার এরই মধ্যে এ ধরনের আইন তৈরি করেছে তাদের সাথে আলোচনা করেছে বাইডেন প্রশাসন। ঠিক কোনো শ্রেণীর বিনিয়োগকারীরা এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
২০১৯ সালের শেষ ভাগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর আগে বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খবর ছিল মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে তীব্র হয়ে উঠেছিল এই বাণিজ্য সঙ্ঘাত। এরপর করোনাভাইরাস এবং তারপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দৃশ্যপট থেকে এক প্রকার হারিয়ে গিয়েছিল বাণিজ্যযুদ্ধ।
তবে মার্কিন প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তে যেন আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে বাণিজ্যযুদ্ধ। সেটা হলো, বাইডেন প্রশাসন ঘোষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব প্রযুক্তি কোম্পানি কেন্দ্রীয় সহায়তা পায়, সেগুলোর আগামী ১০ বছর চীনে উন্নত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ কারখানা স্থাপন বারণ। নিজ দেশে উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় পর্যায়ে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ৫০ বিলিয়ন বা পাঁচ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞার কথা বলেছে বাইডেন প্রশাসন।


আরো সংবাদ


premium cement