২৮ মার্চ ২০২০

ফেসবুকের নতুন ডেস্কটপ সংস্করণ

-

পুরনো রূপকে বদলে দিয়ে নতুন চেহারায় হাজির হচ্ছে ফেসবুক। মূলত ফেসবুকের ডেস্কটপ সংস্করণে এমন পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি। এরই মধ্যে ফেসবুক কিছু ইউজারকে নতুন সংস্করণের অ্যাকসেস দিয়েছে। তবে শিগগিরই বিশ্বব্যাপী নতুন চেহারায় দেখা যাবে প্লাটফর্মটিকে।
ফেসবুকের এই নতুন লুকে অনেক পরিবর্তন লক্ষ করা যাবে। এতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে সাদা রংটি। শীর্ষে থাকছে হোম, ভিডিও, মার্কেট প্লেস, ফ্রেন্ডস ও অন্য অপশন। বাঁ দিকে ব্যবহারকারীর নাম ও কত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট রয়েছে তা দেখা যাবে।
ঠিক নিচে থাকবে গ্রুপগুলো সাথে ইভেন্ট, সেভড, পেজেস, ফ্রেন্ডস, সেটিংস, প্রাইভেসি ও সি মোর। এই অপশনগুলো থাকবে পরপর সাজানো। ডানদিকে স্পনসর্ড-এর পর বার্থডে ও তার ঠিক নিচে থাকবে কনট্যাক্টস। নতুন লুকে ফেসবুকের প্রতিটি বিষয় খুব স্পষ্ট দেখা যাবে। এতে বাড়ানো হয়েছে টেক্সটের আকারও। ইউজাররা যেটি খুঁজছেন সেটি সহজেই পেয়ে যাবেন।
এছাড়া মেসেঞ্জার কিডসপ্যারেন্ট ড্যাশবোর্ডে নতুন একটি ফিচার সংযুক্ত করেছে ফেসবুক। এর মাধ্যমে শিশুদের চ্যাট’র ৩০ দিনের ইতিহাস দেখতে পারবেন তার অভিভাবকরা। এরমধ্যে ভিডিও কলসহ তারা যাকে ব্লক করেছে তাদের ইতিহাসও।
আইএএনএস জানায়, ২০১৭ সালে ফেসবুক শিশুদের মেসেঞ্জার সেবা চালু করলে তা অনেক সমালোচনার শিকার হয়। নতুন এই সংযোজনে অভিভাবক যদি মনে করেন কোনো ছবি বা ভিডিও তার সন্তানের জন্য উপয্ক্তু নয় তাহলে সেটা রিমুভ করে দিতে পারবেন। এছাড়া কোনো শিশু যদি মেসেঞ্জারে কাউকে ব্লক অথবা রিপোর্ট করে দেয় অভিভাবকরা সেটার নোটিফিকেশন পাবেন। তবে শিশুরাও এখন চাইলে কোনো ব্লক করা কন্টাক্ট আনব্লক করতে পারবে।
সন্তান ক’টি ডিভাইসে মেসেঞ্জার লগ ইন বা আউট করেছে সেই তথ্যও অভিভাবকদের ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে। ফেসবুকে নিজের তথ্য যেমন ডাউনলোড করা যায় একইভাবে একজন অভিভাবক তার সন্তানের তথ্যও ডাউনলোড করতে পারবেন। ডাউনলোডে শিশুটির কন্টাক্ট লিস্ট এবং সব মেসেজ থাকবে। ফেসবুক জানিয়েছে, অভিভাবকরা চাইলে তার সন্তানের যেকোনো কন্টাক্টকে ব্লক করে দিতে পারবেন। এই সুবিধাটি একজন অভিভাবক আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড উভয় অপারেটিং সিস্টেমের জন্যই পাবেন।
সমালোচনার মুখে মার্ক জাকারবার্গ
সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুকের নেতৃত্ব ও একক কর্তৃত্ব নিয়ে নানা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয় প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গকে। কিন্তু তিনি মানুষকে জানাতে চান অর্থের জন্য ফেসবুক চালু করেননি। সম্প্রতি সিলিকন স্লোপস টেক সামিটে তিনি বলেন, অনেক ব্যবসা শুরুর জন্য বা একগুচ্ছ বিজ্ঞাপন বিক্রির জন্য কিংবা বড় অঙ্কের অর্থ কামানোর জন্য ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করিনি। আমি মনে করি, বিজ্ঞাপন এমন অসাধারণ মডেল, যার মাধ্যমে আমরা সবাইকে বিনামূল্যে একটি সেবা দিতে পারি। ফেসবুকের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারো ভাষ্যে ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া উচিত। কেউ মনে করেন, প্রতিষ্ঠানটিকে ভেঙে এর সেবাগুলো পৃথক করা হলে সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তবে এসবে কান না দিয়ে চলতি দশকে নতুন লক্ষ্য হাতে নিয়েছেন মার্ক জাকারবার্গ। পরবর্তী ১০ বছর যাতে মানুষ তাকে বুঝতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন তিনি।
শত সমালোচনার পরেও মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং এনক্রিপশন নীতিতে জোর দেবে ফেসবুক। জাকারবার্গ বলেন, আমরা নতুনভাবে শুরু করছি, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। আমার মনে হয়, এতে প্রচুর লোক বাদ পড়ে যাবে। আগের পদক্ষেপের ফলেও অনেক লোক বাতিল হয়েছে, সুতরাং এবার নতুন করে ভিন্নভাবে শুরু করা যাক। দীর্ঘদিন থেকেই তার কোম্পানির দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ‘খুব আক্রমণাত্মক’ কিছু না করা। তবে এবার সে অবস্থানের পরিবর্তন হচ্ছে।

 


আরো সংবাদ