০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪
ads
`

নেতানিয়াহু ও উগ্রবাদী সংসদ

-

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তার ডানপন্থী জোট ১২০ আসনের সংসদ বা নেসেটে ৬৪টি আসন পেয়েছে। সবাই বলছেন, এবার চরম ডানপন্থী সরকার গঠিত হবে। বিরোধী দলও উগ্র ডানপন্থীদের হাতে। ডানপন্থীদের ক্ষমতা নেতানিয়াহুর শিবিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইহুদিবাদী ডানপন্থীদের ক্ষমতা আরো বেশি, কেননা, নেতানিয়াহুর চেয়ে আরো গোঁড়া ১২ জন উগ্র ডানপন্থী সংসদ সদস্য রয়েছে। উগ্র ডানপন্থী ‘ইসরাইল বেইতুন’ দল ছয়টি আসনে জিতেছে। বেনি গ্যান্টজের পার্টিতে আরো ছয়জন ডানপন্থী উগ্র সংসদ সদস্য রয়েছেন। নতুন সংসদ সদস্যদের মধ্যে বাম শিবির ও খণ্ডিত দলের ৩৬ জনের থেকে দক্ষিণপন্থী শিবিরের সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৭৬ জন। এই হিসাব বলে দেয়, নেসেটে ডানপন্থীদের শক্তি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। নির্বাচনে ধর্মীয় শক্তিগুলো যেভাবে জিতেছে তারা যেন কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণ করে শক্তিশালী হয়ে নেতানিয়াহুকে চ্যালেঞ্জ করতে না পারে সে জন্য তিনি এবার নতুন কৌশল ও চেষ্টা চালাচ্ছেন।
নেতানিয়াহু নতুন, শক্তিশালী এবং আরো দৃঢ় চেহারায় ফিরে এলেন। তার মুখোমুখি বিরোধীরাও আরো চরম, বর্ণবাদী ধারণা ও অবস্থানের জন্য মুখোমুখি। নেতানিয়াহুর জন্য এটি অদ্ভুত কিছু নয় কারণ তার বাবা, ডানপন্থী ইহুদিবাদী ইতিহাসবিদ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যেও উগ্র ও গোঁড়া মতবাদ কাজ করত। এই ভদ্রলোক বিগিনের নীতির বিরোধিতা করেছিলেন যিনি লিকুদের প্রতিষ্ঠাতা ও ইসরাইলের ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং সোশ্যালিস্ট ধারার অর্থনীতি প্রণয়ন করতে চেয়েছিলেন। তিনি মিসরের শান্তিচুক্তির বিরুদ্ধে ছিলেন যেটি ইসরাইল স্বাক্ষর করেছিল মিসরের মরহুম রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাতের সাথে । চুক্তি অনুযায়ী সিনাই থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হয় কিন্তু তিনি পুরো সিনাইকে ইসরাইলি ভূমি মনে করতেন। তিনি যুক্তি দেখাতেন, সিনাইয়ের তিহ পর্বতে ইসরাইলিরা মান্না ও সালওয়ার মতো আসমানি খাবার খেয়েছে, যা বিশ্বের কোনো সম্প্রদায় ভক্ষণ করতে পারেনি, গডের সাথে মুসা নবী সিনাই পর্বত থেকেই কথা বলতেন, তাই সিনাই ইসরাইলিদের। পিতার মতো পুত্রও গোঁড়া মতবাদের ওপর বড় হয়েছেন। তিনি পিতার চেয়েও কট্টর।

নেতানিয়াহুর দৃঢ় রাজনৈতিক মতাদর্শ রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, ফিলিস্তিনের ভূমি সম্পূর্ণরূপে ইসরাইলি ভূমি এবং এটি ইহুদি জনগণের অধিকার। তিনি বিশ্বাস করেন, দখলদার রাষ্ট্রের অস্তিত্ব সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের সাথে যুক্ত এবং আরব প্রতিবেশীদের অবশ্যই এ জন্য ভয় পাওয়া উচিত। তিনি জাবোতিনস্কি তত্ত্ব গ্রহণ করেছেন, এই তত্ত্বের সার কথা হলো, আরবরা ইসরাইলকে গ্রহণ করবে না যতক্ষণ না তারা ইসরাইলকে পরাজিত ও নির্মূল করার অসম্ভবতা বুঝতে পারবে। এই মতবাদে ইহুদিদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং পুরো আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক অংশ ইসরাইলের বলে বর্ণিত হয়েছে। এই উগ্র মতবাদে হাজার হাজার ইহুদি বিশ্বাসী। তেলআবিবের ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব উগ্রবাদী বিষয় ও বই পাঠ্য হিসেবে পড়ানো হয়। তা ছাড়া পৃথকভাবে প্রকাণ্ড জাবোতিনিস্কি ইনস্টিটিউট রয়েছে তেলআবিবে যেখানে ইহুদিদের জায়নিজমের গোঁড়া মতবাদ মন ও মগজে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সাথে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সময় চুক্তিকে আব্রাহাম চুক্তি নামে অভিহিত করেছিলেন, যা থেকে তিনি বার্তা দিয়েছিলেন- শান্তিচুক্তি ক্ষমতার যুক্তির ওপর নির্ভরশীল। পশ্চিম তীর সংযুক্তি নেতানিয়াহুকে অমর করবে বলে তিনি মনে করেন।
পশ্চিম তীর জর্দান ও পূর্ব দিকে মৃৎসাগর দক্ষিণ-পশ্চিম উত্তর সীমান্তে ইসরাইল। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলি সামরিক দখলদারিত্বের অধীন। এখানে ১৬৫টি ফিলিস্তিনি দ্বীপপুঞ্জে বিভক্ত যেগুলো ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষ, পিএনএর বেসামরিক কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে থাকে। এখানে ২৩০টি ইহুদি বসতি ইসরাইলি আইনে পরিচালিত হয়। পশ্চিম তীরে রয়েছে বহুল আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী পূর্ব-জেরুসালেম। পশ্চিম তীরের জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশ সুন্নি মুসলমান, খুব অল্পসংখ্যক খ্রিষ্টান। পুরো এলাকায় শতাধিক অবৈধ সেনা আউটপোস্ট আছে। সাড়ে চার লক্ষাধিক অবৈধ ইহুদি পশ্চিম তীরে রয়েছে। পূর্ব-জেরুসালেমে আলাদাভাবে দুই লাখ ২০ হাজার ইহুদি বসবাস করছে।
ইসরাইলের ইতিহাসে নেতানিয়াহু সবচেয়ে মৌলবাদী, অতিরক্ষণশীল সরকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এতে বাইডেন প্রশাসনের সাথে উত্তেজনা বাড়ছে। ইহুদি গোঁড়া ধর্মীয় গোষ্ঠী ইহুদিবাদী ন্যাশনাল ইউনিয়ন পার্টির নেতা Bezalel Smotrich হাতে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের প্রশাসন তুলে দেয়ার বিরুদ্ধে মাার্কিন কর্মকর্তারা নেতানিয়াহুকে সর্তক করেছেন বলে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে। মার্কিনিরা বলছেন, আসলে এটি পশ্চিম তীরকে কার্যত সংযুক্তির সমতুল্য এবং এ ধরনের পদক্ষেপ জেরুসালেম-ওয়াশিংটন সম্পর্কে উল্লেøখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
জাতীয়তাবাদী ও গোঁড়া ইহুদি বা অতি-অর্থোডক্স জোটের অংশীদারের ফলে গঠিত সরকার তালমুদের আইনে পরিচালিত হবে এমন ভাবা যাচ্ছে না এবং এলজিবিট ফোরামও নিষিদ্ধ হচ্ছে না। চীনের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবার ওয়াশিংটনকে অনুসরণ করা হবে। আমেরিকানরাও মরহুম মার্কিন-আমেরিকান বর্ণবাদী রাব্বি মীর কাহানের শিষ্য বেন-গাভিরের নিয়োগেও সন্তুষ্ট নয়। বেন-গাভিরকে পশ্চিম তীরে সক্রিয় সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর সরাসরি দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। নেতানিয়াহু এভাবে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন, সম্ভবত এটি খুব দক্ষ এক রাজনীতিবিদের জন্য কঠিন নয়।

নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫১তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে তেলআবিবের আমিরাত দূতাবাসে ১ ডিসেম্বরের বিশাল অভ্যর্থনায় অংশ নেন। আমিরাতি কূটনীতিকরা ইসরাইলের সাথে সমৃদ্ধ সম্পর্কের ক্ষেত্রে দু’টি চুক্তি ভঙ্গকারীর দিকে ইঙ্গিত করেছেন- স্থিতাবস্থার যেকোনো পরিবর্তন যা বর্তমানে টেম্পল মাউন্টে ইহুদিদের প্রার্থনাকে নিষিদ্ধ করে (বেন-গাভির প্রত্যাখ্যান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এমন একটি নিষেধাজ্ঞা) এবং এমন পদক্ষেপ যা পশ্চিম তীরের সংযোজন ত্বরান্বিত করে।
ফিলিস্তিনীদের হত্যা ও নিপীড়নের অসংখ্য ঘটনা এবং অন্যান্য অনেক ঘটনা প্রমাণ করে ইসরাইলে রাজনৈতিক বাম, সেন্ট্রাল ও অতি-ডানপন্থীদের মধ্যে পার্থক্য সামান্যই। সবাই যার যার নিজস্ব উপায়ে চরমপন্থী; তারা সবাই ফিলিস্তিনিদের ওপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সবাই জানে, তাদের রাষ্ট্রের ভিত্তি সন্ত্রাসবাদ এবং জাতিগত নির্মূলের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারা বোঝে, অধিকৃত ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর বর্ণবাদ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে সেটি কেউ স্বীকার করে না।
প্রখ্যাত ইসরাইলি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ইলান পাপ্পে পুরো ইসরাইলি সরকারকে, ডান ও বাম উভয় ক্ষেত্রেই একে অপরের বর্ধিত অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে ‘পুরনো-নতুন রাজনৈতিক অভিজাতরা গত ৭৪ বছরে পূর্ববর্তী সরকারগুলো যা করেছে তা চালিয়ে যাচ্ছে।’
নেতানিয়াহু ১ ডিসেম্বর একটি জোট চুক্তি ঘোষণা করেছেন যেখানে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে চরমপন্থী-বসতি স্থাপনকারীরা রয়েছে। তারা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি নির্মাণের তত্ত্বাবধান করার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। ধর্মীয় জায়নবাদী পার্টির সাথে চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করা যায়, কারণ তিনি ১ নভেম্বরের নির্বাচনের পরে একটি সরকার গঠনের চেষ্টা করেছিলেন তবে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের সাথে সঙ্ঘাতের মঞ্চও তৈরি করবে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরম মিত্রও থাকছে।
এই চুক্তিতে চরমপন্থী ধর্মীয় জায়নবাদকে সংসদীয় কমিটির নিয়ন্ত্রণও দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে এমন পরিবর্তন ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যার ফলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ হিমায়িত অথবা খারিজ হতে পারে। ধর্মীয় জায়নবাদী পার্টির চেয়ারম্যান বেজালেল স্মোট্রিচ এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন! জোট মনে করে, আগামী সরকার ‘নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করবে, আইনিব্যবস্থায় ঐতিহাসিক সংস্কারের প্রচার করবে, বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়ন্ত্রণ ও বিকাশ করবে, ধর্মীয় জায়ানবাদের চেতনায় ইহুদি পরিচয়কে শক্তিশালী করবে এবং গর্বের সাথে জায়ানিজমের পতাকা উত্তোলন করবে।’
চরমপন্থী-মৌলবাদী স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরের বসতি আন্দোলনের একজন নেতা ও ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যতের রাষ্ট্রের জন্য দাবি করেছে এমন অঞ্চলগুলো দখল করে ব্যাপকভাবে ইহুদি আবাসন নির্মাণের প্রবক্তা।

নেতানিয়াহু আরো দু’টি কট্টরপন্থী বা গোঁড়া ধর্মীয় গোষ্ঠীর সাথে চুক্তিতে পৌঁছেছেন। ইটামার বেন-গাভির, একজন চরমপন্থী রাজনীতিবিদ, যিনি আরববিরোধী বাগাড়ম্বর এবং উসকানিমূলক স্ট্যান্টের জন্য পরিচিত, তিনি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী হচ্ছেন এবং দেশটির পুলিশ বাহিনীর তত্ত্বাবধান করবেন।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, নেতানিয়াহু ‘শান্তিতে বিশ্বাস করেন না’, তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু এমন একজন মানুষ যিনি শান্তিতে বিশ্বাস করেন না।’ তবে আব্বাস বলেন, ‘তার সাথে মোকাবেলা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’
আব্বাস বলেন, ‘ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম ব্যবহার করা সম্ভব নয়।’ তিনি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার ব্যবহার করতে চান।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী হামাস গ্রুপের সাথে পুনর্মিলনের বিষয়ে ফাতাহ আন্দোলনের নেতা আব্বাস বলেন, আলজেরিয়ার মধ্যস্থতায় গত নভেম্বরে যে পুনর্মিলন চুক্তি হয়েছিল, তা অর্জনের জন্য দরজা খোলা থাকবে। এসব আরো ২০ বছর আগে শেষ করা দরকার ছিল। ১৯৯৩ সালে, পিএলও ও ইসরাইল অসলো চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যার ফলে ফিলিস্তিনিরা একধরনের নাগরিক শাসন লাভ করলেও আলোচনার ধারা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে পরিচালিত করতে ব্যর্থ হয়। ২০১৪ সালের এপ্রিলে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায়, কারণ তেলআবিব বসতি স্থাপন বন্ধ করতে এবং ১৯৯৩ সালের আগে কারাবন্দী ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দিতেও অস্বীকার করে।
আব্বাস জানেন, এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা রয়েছে যারা পুনর্মিলন অর্জন করতে চায় না, ফিলিস্তিনিদের সমস্যার সমাধানও চায় না।
নেতানিয়াহু ঐতিহাসিক ইহুদিবাদী নেতাদের তালিকায় নিজের নামটি উপরে লেখানোর স্বপ্ন দেখছেন। তিনি ইহুদিবাদী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বেন গুরিয়েনের মতো অমর হতে চান।
যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন ইসরাইলের অর্জনগুলোর রূপরেখা তৈরি করেছিলেন। প্রতিবন্ধকগুলো একে একে ধ্বংস করার ব্লু প্রিন্ট করে তা কার্যকর করতে চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, ইহুদি জাতীয়তাবাদকে নিশ্চিত করে এমন সংবিধান এবং আইন পরিবর্তন, বসতি স্থাপনের বৈধতা অর্জন, জেরুসালেমকে দখলদার রাষ্ট্রের একীভূত রাজধানী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরিত করা, তার সময়কালে সিরিয়ার গোলান হাইটসের সংযুক্তির স্বীকৃতি এবং কিছু আরব দেশের সাথে তার স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি স্বাক্ষর। এটাও ঠিক যে, তিনিই ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যার দুর্নীতির অভিযোগ বিচার বিভাগে পাঠানো হয়েছিল এবং তার মেয়াদকালে তিনি ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তার স্ত্রীও।
নোবেলবিজয়ী মরহুম ডেসমন্ড টুটু বলেছিলেন, আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গরা যেভাবে কালোদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছিল তেমনি ইসরাইলিরা ফিলিস্তিনিদের সাথে তেমন ব্যবহার করছে। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, ইসরাইল কখনো অন্য জনগণকে নিপীড়নের মাধ্যমে প্রকৃত নিরাপত্তা পাবে না। প্রকৃত শান্তি শেষ পর্যন্ত শুধু ন্যায়বিচারের ওপর নির্মিত হতে পারে।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ


premium cement