০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

আইনজীবীর সম্মানি ও বিচারকের সম্মান এক ঢিলে ছয় পাখি

-

ষষ্ঠ পর্ব
‘এক ঢিলে দুই পাখি’ পরিচিত প্রবাদবাক্য। যেখানে এক ঢিলে ‘তিন পাখি’র কথাই শোনা যায় না, সেখানে ‘ছয় পাখি’ নিশ্চয়ই গাঁজাখুরি কাহিনী। গাঁজাখুরি কাহিনীটি আশির দশকের। ঢাকাস্থ বাদামতলী আমাদের এলাকার আবুল হাসেম সাহেবের ওষুধের দোকান। ওদিকে গেলেই তার দোকানে বসতাম। ভিলেজ পলিটিক্স থেকে শুরু করে রাজনীতি- সব ধরনের আলাপ করতাম। বসতে না বসতেই পাশের কুমিল্লøা রেস্টুরেন্ট থেকে ভালো চা এনে খাওয়াতেন। খুবই মিশুক লোক, বয়সের পার্থক্য ভুলে অল্প দিনেই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। কোর্ট কাচারির বর্তমান হালচাল বিষয়েও আলাপ হয়। এ পেশায় আমার সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার খবর শুনে আক্ষেপ করতেন। একদিন হাসতে হাসতে বলেন,
-আপনি কেমন উকিল? টেলিভিশনে নাটক সিনেমায় যে সব উকিল দেখি, আপনি সে রকম নন। উকিলদের থাকে ইয়া বড় চেম্বার, ফ্লে¬ার থেকে ছাদ পর্যন্ত তাক ভর্তি শুধু বই আর বই। তারা বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে বই খুলে ‘মাই লর্ড-মাই লর্ড’ বলে আইনের ব্যাখ্যা করেন। আপনার চেম্বারও নেই, একদিন একটি বইও দেখলাম না।
-আমরা ভাসমান উকিল। বই-চেম্বার লাগে না। বুদ্ধি থাকলেই চলে। এই কয়দিনেই বুঝলাম, মামলা করার চেয়ে মামলা ধরা অনেক বেশি লাভ। মামলা ধরতে পারলে করতে পারার জন্য উকিলের অভাব হয় না। আর ফৌজদারি কোর্টের উকিলদের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসায় আসামির জামিন করানো। কোন মামলা কোন কৌশলে কার কোর্টে নিয়ে জামিন করতে হয় সে কৌশল জানলেই চলে। এ কারণেই আইনজীবীদের আরেক পরিচয় কৌশলী। কৌশল আইনজীবীদের চেয়ে বেশি জানে মুহুরি ও তদবিরকারকরা। সব কিছু ওরাই ঠিকঠাক করে, আমাকে দিয়ে শুধু মুভ করায়। জামিন হয়ে যায়।

-এই কৌশল করে কি সব মামলায় জামিন করানো যায়?
-যায় যায়! দণ্ডবিধির যেকোনো মামলায় জামিন মঞ্জুর-নামঞ্জুরের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিজ্ঞ হাকিমের বিবেচনাধীন ক্ষমতা। তিনি তার বিবেচনা প্রয়োগ করে খুনের মামলায়ও জামিন মঞ্জুর করতে পারেন। আবার ৫৪ ধারায়ও জামিন নামঞ্জুর করতে পারেন। এ বিষয়ে কারো কিছু বলার নেই। বিচারকের ‘বিবেচনাধীন’ বিষয়টি তদবিরকারী ও কৌশলীরা সুকৌশলে নিজের পক্ষে নিয়ে আসে।
-কৌশল সব ক্ষেত্রে খাটে?
-খাটে খাটে, কৌশলটা পানিভর্তি ড্রামের ছিদ্রের মতো, চুঁইয়ে চুঁইয়ে এক ছিদ্রপথেই সব পানি বের হয়ে যায়।
এ কথার পর হাসেম সাহেব ড্রয়ার টেনে একটি ফাইল বের করে আমার হাতে দিতে দিতে-
-দেখেন তো, এই মামলার আসামিকে জামিন করতে পারেন কি না। যত রকমের কলাকৌশল আছে, সব প্রয়োগ করে এই আসামির জামিন করে দিন।
ফাইল ধরতে ধরতে, নজর যায় কাগজের ওপর। দণ্ডবিধির একটি মাত্র ধারা, তাই জোর দিয়ে বলি-
-কী যে বলেন, দণ্ডবিধির ধারায় জামিন দেয়া যাবে না, এমন কোনো বিধান নেই। ফাইল খুলতেই এজাহারের কলামের দিকে চোখ যায়। কলামে আসামির নাম নেই। তা দেখে কথার জোর আরো বেড়ে যায়-
-হবে হবে, একশ’বার হবে, তবে মালপানি খরচ করতে হবে।
-টাকা কত দরকার বলেন? দু’হাজার, পাঁচ-দশ হাজার?

দশ হাজার টাকার কথা শুনে নড়েচড়ে বসি। মামলার কাগজ এক পাতা এক পাতা করে পড়তে শুরু করি। এজাহারের কলামে লেখা আছে- অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারী কর্তৃক খুনসহ ক্যাশবাক্স লুট। অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আসামি এক বছরের অধিককাল যাবত হাজতে। এজাহারের কলামে মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নি¤œরূপ- ‘বাদির সুতার গদিতে অনধিকারভাবে প্রবেশ করে, গদির ম্যানেজারকে খুন করে ক্যাশবাক্স লুট। লুণ্ঠিত টাকার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা। উদ্ধার নেই।
ঘটনার বহুদিন পর সাতানি (বর্তমান মেঘনা উপজেলার) গ্রামের কাদের ধরা পড়ে। ডাক্তারের ভাতিজা কাদের। কাদের নিজেকে ঘটনার সাথে জড়িত করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে বলে-
‘আমি বেকার ছিলাম। একদিন ‘ক’ (ছদ্ম নাম) এসে বলে, আমার সাথে আয়, তোকে কাজ দিমু। ‘ক’ এর সাথে রামপুরা বাজারে যাই। রামপুরা বাজারে গিয়ে খ, গ, ঘ এবং ঙ (ছদ্ম নাম)-কে দেখি। তারা বলে, তোর সাহস আছে তুই পারবি। আমি কি পারব তাদের কাছে জানতে চাই। তখন ‘ক’ বলে- আজ রাতে আমরা একটি অপারেশনে যাব। ঠিকঠাক মতো শেষ করতে পারলে আমরা অনেক টাকা পাবো। নরসিংদী বাজারে ধীরেনচন্দ্র সাহার সুতার গদিতে অপারেশন হবে। সুতার ব্যবসায় করে সে অনেক টাকার মালিক হয়েছে। ভালোয় ভালোয় টাকাপয়সা দিয়ে দিলে সে রক্ষা পাবে, নয় তো যেকোনো প্রকারে টাকা আনবই। প্রয়োজনে খুন-জখম করতেও প্রস্তুত আছি। পয়সার লোভে আমি রাজি হয়ে যাই। কে কি করব, সব কিছু ঠিকঠাক করে লঞ্চযোগে মেঘনা ঘাটে আসি। মেঘনা ঘাট থেকে বাসযোগে চিটাগাং রোড এসে নরসিংদীগামী গাড়িযোগে নরসিংদী পৌঁছি। সেখানে আরো তিনজন লোক আমাদের অপেক্ষায় ছিল। ‘ক’ আমাকে কাজের নিয়ম-কানুন বুঝিয়ে দেয়। আমরা একটি হোটেলে বসে পান-সিগারেট খাই। পরিকল্পনা মোতাবেক রাত সাড়ে ১০টায় অপারেশন শুরু করি। সবার আগে ‘ক’ ও ‘গ’ ক্যাশবাক্সের কাছে যায়। সেদিন হাটবার ছিল। সারা দিনের বেচাকেনা শেষে টাকাপয়সা হিসাব করে ক্যাশবাক্স থেকে টাকার বান্ডিলগুলো সিন্দুকে ভরতে যাবে, এ সময় আমরা হামলা করি। যে লোকটা ক্যাশবাক্সের দায়িত্বে ছিল সে লোকটা বাধা দেয়, কিছুতেই ক্যাশবাক্স ছাড়তে চায় না। ক্যাশবাক্স ছাড়াতে ‘ক’ লোকটার মাথায় আঘাত করে, ‘খ’ কোপ দেয় গলায়। ক্যাশবাক্স ছেড়ে লোকটি একদিকে ঢলে পড়ে। ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ ক্যাশবাক্স থেকে টাকার বান্ডিলগুলো একটি চটের থলির মধ্যে নেয়। ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন টের পেয়ে যায়। সর্দার সঙ্কেতসূচক বাঁশিতে হুইসেল দেয়। এরকম হুইসেলের অর্থ হলো- যে যেভাবে পারো, আত্মরক্ষা করো। আমি রেল স্টেশনের দিকে দৌড় দিই। ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী ট্রেনটি মাত্র ছাড়ছিল। আমি দৌড়ে গিয়ে একটি কক্ষে প্রবেশ করি। ট্রেন ছেড়ে দেয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌঁছে স্টেশনেই রাত কাটাই। পর দিন বাড়িতে যাই। এর পর দিন সকালে ‘ক’ আমাদের বাড়িতে আসে। আমাকে পাঁচ হাজার টাকা দেয়, আর বলে- ‘লোকটা মারা গেছে। মারা যাওয়া লোকটার নাম ধীরেন চন্দ্র সাহা। মামলা হয়ে গেছে। কিছু দিন সাবধানে থাকিস।’ আমি ঢাকা চলে যাই। ১৫ দিন পর বাড়ি আসি। এক বছর পর পুলিশ আমাকে ধরে। লোকটি মারা গেছে শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি। আমি ভুল করেছি, ক্ষমা চাই। এই আমার জবানবন্দি।’
কাদেরের জবানবন্দি পড়ে আমি বিস্মিত হই। আমাদের এলাকায় বিশেষ করে কাদেরের বর্ণিত ‘ক’ থেকে ‘ঙ’ পাঁচজনের তিনজনই আমার পরিচিত। পরিচিত তিনজনের মধ্যে একজন আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সবাই ধনাঢ্য। সিলেটে মুলি বাঁশের ব্যবসায় করে কেউ কেউ। এর মধ্যে বয়োবৃদ্ধ-ধর্মভীরু লোকও আছেন। সর্বদা টুপি পাঞ্জাবি পরে থাকেন। তারা দিনের বেলায় মুসল্লিøগিরি দেখিয়ে রাতের বেলা এ কাজ করে? ছি ছি ছি, চোখ বড় বড় হয়ে কপালের বলিরেখা যখন স্পষ্ট হতে শুরু করে, তখন মুখ খোলেন ডাক্তার সাহেব। বলেন-
-কী ভাবছেন? ভাবছেন আমার ভাতিজা একজন ডাকাত ও খুনি? প্রকৃত ঘটনা অন্যরকম। এই মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন নরসিংদী থানার কর্মকর্তা। ক্লু বের করাসহ ঘটনার কূলকিনারা করতে না পারায় তাকে বাদ দিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় একজন সিআইডি অফিসারকে। সিআইডি অফিসারের বাড়ি আমাদের এলাকায়। দণ্ডবিধি আইনের কঠিন ধারা ৩৯৬। প্রমাণ হলেই মৃত্যুদণ্ড। কঠিন ধারার মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েই নিজের আখের গোছানোর পরিকল্পনা করেন। প্রথমেই বাছাই করেন নিজ এলাকার ধনাঢ্যদের। ধনাঢ্যদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ধীরেন হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখান। যারা তার কথামতো টাকা দিয়েছেন, তারা রক্ষা পেয়েছেন, আর যারা টাকা দেননি, তাদের শিক্ষা দেয়ার জন্য কাদেরকে বেছে নেন। কাদের গোঁয়ার ও মূর্খ ছেলে। চুরি ডাকাতি কী জিনিস জানে না। গ্রামে ঝগড়া বিবাদ-মারামারি ও লাঠালাঠি করতে পারে। মাস্তানি মাতব্বরিও করে। উসকানি দিয়ে একজনের গালে একটি চড়-থাপ্পড়ও লাগানো যায়। মারামারির খবর শুনলে সবার আগে বাঘের মতো হুঙ্কার দিয়ে লাঠি নিয়ে দৌড় দেয়। তাই এর অপর নাম বাঘা কাদের। সহজ-সরল কাদেরকে লোভ দেখায়। লোভ দেখায়, সিআইডির শেখানো কথামতো জবানবন্দি দিলে তাকে পুলিশে চাকরি দেবে, সোর্স বানাবে। পুলিশের চাকরি ও সোর্স হওয়ার লোভে সিআইডির কথায় রাজি হয়ে যায় বাঘা কাদের। নিজেকে জড়িত করে এলাকার বড় বড় লোকের নাম বলে যায় সিআইডির শেখানো মতে। ফলে সিআইডি কর্মকর্তা,
* বাদিকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করেন, * প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের ছেড়ে দিয়ে, * নির্দোষ ব্যক্তিদের ফাঁসিতে ঝোলানোর ব্যবস্থা করেন, * নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি জাহির করেন, * আর্থিকভাবে লাভবান হন, * চাকরিতে প্রমোশন নেন।

এক ঢিলে এই ছয়টি পাখি মেরে শিকারের দক্ষতা প্রমাণ করেন। একদিকে নরসিংদী বাজারে চাঞ্চল্যকর খুনসহ ডাকাতির রহস্য বের করার কৃতিত্ব হিসেবে চাকরিতে প্রমোশন পান সিআইডি কর্মকর্তা, অপর দিকে খুনসহ ডাকাতি স্বীকার করে ফাঁসিকাষ্ঠের দিকে পা বাড়ায় আমার ভাতিজা।
আইন পেশার শুরুতে আইনের গুরুত্বের চেয়ে অর্থের গুরুত্বকে প্রাধান্য দিতাম। মনে করতাম টাকা হলে বাঘের দুধও মেলে। ডাক্তারের ভাতিজা বাঘা কাদেরকে বাঘের দুধ এনে দিতে রাজি হয়ে গেলাম।
কোনো এক শুভ দিনে ঢাকা কোর্টের একজন ঝানু তদবিরকারকসহ মামলার কাগজপত্র নিয়ে নরসিংদী যাই। নরসিংদী মহকুমা শহর থেকে সবেমাত্র জেলা শহরে উন্নীত হয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ ভবন তখনো প্রস্তুত হয়নি। একটি পাকা বাড়ির গ্রাউন্ড ফ্লোরের ড্রয়িং রুমে বিজ্ঞ বিচারক বসতেন। অপরাপর রুম আদালতের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
বাইরের ছোট্ট চত্বরে এক চা-বিক্রেতা ফ্লাস্ক থেকে ঢেলে ঢেলে চা-বিক্রি করছে। লোকজন ভিড় করে চা-বিস্কুট খাচ্ছে। এখানে দাঁড়িয়ে চা খাই আর চা-বিক্রেতার সাথে কথা বলি। এখানকার কোর্ট-কাচারি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেয়ার চেষ্টা করি। বিচারক এজলাসে ছিলেন। জানতে পারি, বিজ্ঞ বিচারকের নাম সোহেল আহম্মদ চৌধুরী। আমরা এদিক-সেদিক হাঁটাহাঁটি করে এজলাস টাইম পার করছিলাম।
বেলা ৩টায় পেশকার সাহেবের কাছে আসি। লোকজন কম। পেশকার সাহেব দিনের কাজ গোছাচ্ছেন। আলাপ করার এখনই সময়। ঢাকা কোর্টের উকিল পরিচয় দিতেই তিনি সম্মানের সাথে বসতে দিয়ে কী কাজে এসেছি জানতে চান। আমার সঙ্গীয় তদবিরকারক কথা বলতে শুরু করেন। তদবিরকারকের কথা শুনে তিনি বিস্মিত হন। চোখ বড় বড় করে আমাদের দিকে তাকান। তদবিরকারককে ইশারায় অনৈতিক কোনো আলাপ করতে বারণ করেন। নিশানা ব্যর্থ হওয়ায় আমরা মর্মাহত হই। পরিবেশ অনুকূলে নয়, টের পেয়ে কথার বোল পাল্টিয়ে ফেলি। কী ভাবে আসামির জামিন পাওয়া যেতে পারে এ ব্যাপারে তার পরামর্শ চাই। পেশকার সাহেব গম্ভীর কণ্ঠে বলেন-
-জামিনের কথা না ভেবে কীভাবে ফাঁসির দড়ি ফসকানো যায় সে কথা ভাবুন। আগামী তারিখে চার্জ গঠন হবে। এর পর সাক্ষী শুরু হবে। যেখানে আসামি নিজেকে জড়িত করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে, সেখানে ফাঁসিতে ঝুলতে আর বাকি রইল কী? একটি লোক মাঝে মধ্যে এসে জামিন চায়। জামিন চাওয়া ছাড়া সাক্ষী করার মতো কোনো উকিলই নিয়োগ করা হয়নি। একতরফা সাক্ষী হয়ে গেলে সাজা অনিবার্য।

আমরা জামিনের কোনো উপায়ই বের করতে পারলাম না। এখন কী করতে হবে- এই মর্মে পেশকার সাহেবের কাছে সুপরামর্শ চাই। তিনি কিছুক্ষণ চিন্তা করেন, তার পর বলেন-
-আপনাদের ঢাকা কোর্টে একজন উকিল আছেন নাম ইউসুফ আলী। বাড়ি সিলেট। তিনি মুসলিম লীগের শেষ নির্বাচনে একমাত্র এমপি হিসেবে সবার পরিচিত। তিনি এ কোর্টের বর্তমান জজ সাহেবের সতীর্থ। তিনি কোনো কাজে নরসিংদী এলে জজ সাহেবের সাথে গল্প করেন। উকিল হিসেবেও ভালো। তাকে দিয়ে এ মামলাটি করাতে পারলে উপকার পেতে পারেন। এ ছাড়া আর উপায় দেখছি না।
এ কথা বলে পেশকার সাহেব নিজ কাজে মন দেন। ডাক্তার সাহেবকে সাথে নিয়ে সেই রাতেই ইউসুফ আলী সাহেবের চেম্বারে উপস্থিত হই। সব ঘটনা তাকে খুলে বলি। তিনি আমাদের কথা শুনে মনোযোগ দিয়ে কাগজপত্র দেখেন। তারপর বলেন-
-কেস খারাপ, তবে জামিনের বিষয় কিছু বলতে না পারলেও খালাসের বিষয়ে বলতে পারি। মামলার ঘটনা সত্য হলেও আসামির জবানবন্দিতেই এটি যে গেটাপস্টোরি এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। মামলার মধ্যেও এ বিষয়ে ফাঁক রয়েছে। ফাঁকটুকু জজ সাহেবকে ধরিয়ে দিতে পারলে আসামি খালাস পেয়ে যেতে পারে। যাই হোক, আমি চাই চার্জ শুনানির দিন কোর্টে উপস্থিত থাকতে। চার্জ শুনানিকালেই এ ফাঁকটুকু বিজ্ঞ বিচারককে ধরিয়ে দিতে হবে। এর আগে আসামির পক্ষ থেকে ওকালতনামা নিয়ে রাখবেন। আমার সঙ্গীয় তদবিরকারক ও আমি তিন-চারবার নরসিংদী টু ঢাকা দৌড়াদৌড়ি করে নিরাশ হয়ে পড়ি। আমাদের নৈরাশ্যের বিষয়টি ইউসুফ সাহেবকে জানাই। তিনি বলেন-
-মামলা যখন হাতে নিয়েছি তখন করতেই হবে। টাকাকড়ি মুখ্য নয়।
এ ঘটনার মাস কয়েক পর। কাদেরকে বসা দেখলাম ডাক্তার সাহেবের ওষুধের দোকানে। আমাকে দেখেই সে উঠে এসে পায়ের ধুলা নিতে শুরু করে। আমি জানতে চাই-
-খালাস না জামিন?
-আপনাদের পায়ের আশীর্বাদে একেবারে খালাস।
‘আইন করেই খালাস পেয়েছে, কৌশল করে নয়’ আমাকে লক্ষ করে সহাস্যে বলেন ডাক্তার সাহেব। (বিচারের বাণী, ৫৯-৬৩ পৃষ্ঠা)
লেখক : আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক
E-mail : adv.zainulabedin@gmail.com


আরো সংবাদ


premium cement
মুন্সীগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে অভিযান, ১৩ জন গ্রেফতার এমবাপ্পের জোড়া গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স লবিস্টের কথায় বিএনপি ১০ ডিসেম্বর সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সমাবেশের আগে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হতে পারবে না : ডিবিপ্রধান বিএনপি নেতা ইশরাকের গাড়ি ভাঙচুর বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির ৪৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন গণসমাবেশ সফলে ঢাকা বারে আইনজীবীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ মুন্সী মেহেরউল্লাহ ছিলেন ব্রিটিশ বাংলার শ্রেষ্ঠ ইসলাম প্রচারক গুজবে কান দেবেন না তিন ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি অনুসন্ধানের নির্দেশ হাইকোর্টের ভারতকে হারিয়ে অবিশ্বাস্য জয় টাইগারদের

সকল