০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

পানিসঙ্কট, আমাদের আত্মঘাতী প্রবণতা

উৎসের উচ্চারণ
-

পানি ছাড়া জীবনের কথা ভাবা যায়? বাঁচতে হলে তো পানাহার করতে হবে। পানাহার মানেই পানি দরকার। পানি ছাড়া জীবন চলে না বলেই এর অপর নাম জীবন। পানিতে পুষ্টি নেই যদিও; কিন্তু এটি ছাড়া পুষ্টিসমৃদ্ধ কেউ বাঁচতে পারে না। আমরা নানা কাজে পানি ব্যবহার করি। পানি পান না করলে আমরা কাজ করতে পারি না। দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাই। পানির অভাব দেখা দিলে ব্যাহত হয় আমাদের শরীরের তাপমাত্রা, পুষ্টি সরবরাহ। পানি পানের মধ্য দিয়ে দেহে রক্ত সরবরাহ ও সঞ্চালন বাড়ে, জারি থাকে। জারি থাকে হজমপ্রক্রিয়া। নিয়ন্ত্রিত থাকে শরীরের তাপমাত্রা। খাবার ছাড়া হয়তো থাকা যায় সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ; কিন্তু পানি ছাড়া নয়। রক্তে ও কোষে প্রয়োজন অক্সিজেন, পানি ছাড়া তা নিশ্চিত হয় না। পানি ছাড়া গঠিত হতো না আমাদের দেহসত্তা। যে শরীর নিয়ে আমরা বেঁচে আছি, তার দুই-তৃতীয়াংশই পানি। আমাদের রক্তের ৮৩ ভাগ, হাড়ে ২২ ভাগ, মস্তিষ্কে ৭৪ ভাগ, পেশিতে ৭৫ ভাগ থাকে পানি। অক্সিজেনের পরই পানির গুরুত্ব। পানি ছাড়া জীবনের অস্তিত্ব অসম্ভব, অসম্ভব জীবন ধারণ। কিন্তু সেই পানির গুরুতর সঙ্কটে এখন পৃথিবী।
জাতিসঙ্ঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ৬ নম্বরটি সুপেয় পানি নিয়ে। সুপেয় পানি প্রাপ্তি বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত। জলবায়ুর প্রভাব, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পানির চাহিদা। নানামুখী অপচয় ও হস্তক্ষেপের কারণে অনেক স্থানে সুপেয় পানির উৎস সঙ্কুচিত, দূষিত এবং ধ্বংস হচ্ছে। ফলে সুপেয় পানির তীব্র অভাব দেখা দিচ্ছে।
২০৫০ সালের মধ্যে ৫০০ কোটির বেশি মানুষ পানিসঙ্কটে পড়তে পারে। ২০১৮ সালে ৩৬০ কোটি মানুষ বছরে অন্তত এক মাস পানি পেতে অসুবিধায় পড়েছিল। গত দুই দশকে ভূমিতে সঞ্চিত পানির স্তর, ভূপৃষ্ঠে, ভূগর্ভে, তুষার এবং বরফে প্রতি বছর এক সেন্টিমিটার হারে হ্রাস পেয়েছে। আগামী তিন দশকে পানির সঙ্কট আরো তীব্র হতে পারে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, খরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে এ আশঙ্কা বাস্তবের দিকে এগোচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি বছর বিশ্বে পানির ব্যবহার এক শতাংশ হারে বাড়বে।
পৃথিবীর উপরিভাগের সুপেয় পানি সাধারণত খাল-বিল, নদী ও লেকে সংরক্ষিত থাকে। পানির এসব উৎস সীমিত। দূষণ ও আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে খাল-বিল শুকিয়ে যাচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস। ভূগর্ভের পানি সহজেই পাইপের মাধ্যমে তুলে আনা যায়। সারা বিশ্বে দৈনিক ব্যবহৃত পানির অর্ধেকই ভূগর্ভের পানি বা Groundwater।
ভূগর্ভের পানির রয়েছে কয়েকটি স্তর। উপরের স্তরকে বলে water table বা ভূজলপৃষ্ঠ। ভূজলপৃষ্ঠের উপরের তলভাগকে বলে unsaturated zone বা অসিক্ত এলাকা আর নিচের তলভাগকে বলে saturated zone বা সিক্ত এলাকা। অসিক্ত অঞ্চলের মৃত্তিকা ও শিলা পানির প্রধান প্রধান অপদ্রব্য পরিশোধন করে। সিক্ত অঞ্চলের শিলা ও মৃত্তিকা তাকে আরো বেশি পরিমাণে পরিশ্রুত ও বিশুদ্ধ করে তোলে। এই প্রক্রিয়ায় পানি জীবাণু ও দূষণমুক্ত হয়। ভূগর্ভের পানি সাধারণত এক দিকে যেমন বিশুদ্ধতার দিক থেকে খুবই উত্তমমানের, অন্য দিকে রাসায়নিকভাবে পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন। ভূগর্ভের জলস্তরের গুরুত্ব নির্ভর করে স্তরগুলোর ভূতাত্ত্বিক প্রকৃতির ওপর। যেমন- পাললিক স্তরসমষ্টি উত্তম ভূগর্ভের জলস্তরের প্রতিভূ আর কঠিন শিলার পানি সঞ্চয় ক্ষমতা অত্যন্ত কম।
ইদানীং ভূগর্ভের পানি ক্ষতির মুখে পড়ছে অবমূল্যায়ন, অব্যবস্থাপনা এবং অপব্যবহারের কারণে। বিশ্বের মোট পানির মাত্র ১ শতাংশ সুপেয় পানি, যার বেশির ভাগই রয়েছে বরফের তলে। বাকি পানি লবণাক্ত। বর্তমানে বিশ্বের ৯৯ শতাংশ সুপেয় পানির উৎস হলো ভূগর্ভ। সেখান থেকে পানি উত্তোলন হচ্ছে বিশ্বময়। জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূগর্ভের পানির সঞ্চয় ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জনগোষ্ঠীর গৃহস্থালি চাহিদার অর্ধেক পূরণ করছে এবং উত্তোলিত পানির ২৫ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে বিশ্বের ৩৮ শতাংশ সেচ কার্যক্রমে। অধিক উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভের পানির সঞ্চয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসছে। বর্তমান শতকের শুরুতে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল, বছরে ১০০ থেকে ২০০ ঘনকিলোমিটার এলাকাজুড়ে পানির সঞ্চয় কমতে থাকবে, যেটি সামগ্রিক উত্তোলনের ১৫ থেকে ২৫ শতাংশের সমান।
বাংলাদেশও ভূগর্ভের পানির ওপর প্রচণ্ডভাবে নির্ভরশীল। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের (ডিপিএইচই) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ২৭ লাখ ৫০ হাজার লিটার পানির প্রয়োজন হয়, যার ৮০ শতাংশ ভূগর্ভ থেকে তোলা হয়।
জাতিসঙ্ঘের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভূগর্ভের পানি উত্তোলনে শীর্ষস্থানীয় দেশের তালিকায় এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ১০টি দেশ রয়েছে। এই ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে সপ্তম স্থানে।
জাতিসঙ্ঘের বৈশ্বিক পানি উন্নয়ন প্রতিবেদন-২০২২-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের চেয়ে বেশি পানি উত্তোলনকারী বাকি ছয় দেশ হলো- চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, পাকিস্তান ও তুরস্ক। এই সাতটি দেশ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ৬০ শতাংশ ভূগর্ভের পানি উত্তোলন করে।
বাংলাদেশে ভূগর্ভের পানির মজুদ কত? মহাপরিকল্পনা সংস্থার (MPO) ১৯৮৯ সালের জরিপ জানায়, এ মজুদের পরিমাণ হলো দুই হাজার ৫৭৫ কোটি ঘনমিটার, যার মধ্যে ১৬৮.৬ কোটি ঘনমিটার উত্তোলনযোগ্য নয়। বাংলাদেশে কম গভীরতায় ভূগর্ভের পানি পাওয়া যায়। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই ভূজলপৃষ্ঠ, ভূপৃষ্ঠের খুব কাছে অবস্থান করে এবং বার্ষিক আগমন ও নির্গমন ধারায় ওঠানামা করে। সম্প্রতি সেচের জন্য ব্যাপক হারে উত্তোলনের কারণে বার্ষিক ওঠানামার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ভূগর্ভের পানির স্তর ভূপৃষ্ঠের খুব কাছে উঠে আসে। আবার এপ্রিল-মে মাসে সবচেয়ে গভীরে নেমে যায়। ঢাকা শহর ও বরেন্দ্র এলাকা ছাড়া বাংলাদেশের বেশির ভাগ অঞ্চলেই এই প্রবণতা একরকম। প্রতিবেশী দেশের অসম পানিবণ্টনের কারণে বাংলাদেশে শুকনো মৌসুমে পানির চাহিদা প্রধানত ভূগর্ভের পানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
জাতিসঙ্ঘের সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে বাংলাদেশ বছরে ৩০ ঘনকিলোমিটার এলাকা থেকে পানি উত্তোলন করেছে এবং ৮৬ শতাংশ পানি সেচকাজে ব্যবহার করেছে। ২০১৮ সালে ‘মাল্টি-হ্যাজার্ড গ্রাউন্ডওয়াটার রিস্কস টু দ্য ড্রিংকিং ওয়াটার সাপ্লাই ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্ব ব্যাংক। সেই প্রতিবেদন জানায়, বাংলাদেশের প্রায় ৫ থেকে ২৪ শতাংশ এলাকা রয়েছে উচ্চপর্যায়ের আর্সেনিক, লবণাক্ততা ও ভূগর্ভের পানির সঞ্চয় ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। আর দেশের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত মানুষ এসব সঙ্কটে পড়ার উচ্চঝুঁকিতে আছে।
বাংলাদেশে ভূগর্ভের পানিতে রয়েছে ব্যাপক আর্সেনিক দূষণ। এর পাশাপাশি লোহার উচ্চহার, উপকূলীয় অঞ্চলে উচ্চ লবণাক্ততা, ম্যাঙ্গানিজের অত্যধিক তীব্রতা ইত্যাদি পানির গুণ নষ্ট করছে। মলমূত্রের কলিফর্মও একটি বড় সমস্যা, বিশেষ করে অগভীর ভূগর্ভের পানির জন্য। সেচের জন্য ব্যাপক উত্তোলনের দরুন শুকনো মৌসুমে ভূজলপৃষ্ঠ নিচে নেমে যাওয়াও একটি বিশেষ সমস্যা। ভূজলপৃষ্ঠ ছয় মিটারের নিচে নেমে গেলে সাধারণভাবে প্রচলিত হস্তচালিত নলকূপে পানি ওঠে না। তখন ভিন্নতর প্রযুক্তির আশ্রয় নিতে হয়। ভূজলপৃষ্ঠের অব্যাহত অবনমন কূপ খননের খরচও বাড়িয়ে তোলে।
ভূজলপৃষ্ঠের নিচে নেমে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকাগুলোতে লবণাক্ততা বাড়তে থাকবে। ইতোমধ্যে ভূগর্ভের পানির স্তর দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। ঢাকা ছাড়াও এর আশপাশের অঞ্চল এবং কিছু কিছু পল্লী এলাকাতেও দ্রুত পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাচ্ছে।
দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সঙ্কট সব থেকে বেশি। ওই এলাকায় গড় হিসাবে ২৫২ জনের জন্য একটি নলকূপ থাকলেও অনেক এলাকায় নলকূপের অস্তিত্ব নেই। সেখানে পুকুর বা অন্য জলাশয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। এসব এলাকায় সিডর, আইলা ও আমফানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক জলাশয় নষ্ট হয়েছে। খুলনা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষও সুপেয় পানির তীব্র সঙ্কটে । কোনোমতে খাওয়া যায় এমন খাবার পানি জোগাড় করতেই উপকূলের নারীদের দিন কেটে যায়। দেশের উত্তরের বরেন্দ্র অঞ্চলেও সুপেয় খাবার পানি এখন দুষ্প্রাপ্য। গ্রীষ্মের শুরুতেই বরেন্দ্র অঞ্চলের গ্রামগুলোতে খাবার পানির সঙ্কটে জীবন-জীবিকা ব্যাহত হয়। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার বেশির ভাগ এলাকা এবং নাটোরসহ বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও পাবনা জেলার কিছু অংশজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল অবস্থিত। দেশের গড় বৃষ্টিপাত আড়াই হাজার মিলিমিটার হলেও বরেন্দ্র এলাকায় গড় বৃষ্টিপাত এক হাজার মিলিমিটারের মতো। এক যুগ আগেও বরেন্দ্র অঞ্চলে ৬০ থেকে ৯০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া গেলেও বর্তমানে ১৬০ ফুটের নিচে না গেলে পানি মিলছে না। ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪০-৪৫ মিটার উঁচু। এখানকার অনেক উপজেলায় পানির অভাবে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পানি না পেয়ে এলাকা ছেড়েছে মানুষ। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে দেশের ৪১ জেলার ১৯২ উপজেলায় তীব্র পানিসঙ্কট দেখা দেয়। দেশের বেশির ভাগ এলাকায় মরুকরণ প্রক্রিয়া চলমান।
রাজধানী ঢাকায় পানির স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ২১২ ফুট নিচে চলে গেছে বলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) এক গবেষণা রিপোর্টে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ঢাকার পানির স্তর সমদ্রপৃষ্ঠের ১৬০ ফুট নিচে নেমে গেছে। এর মানে ঢাকায় পানির স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ২১২ ফুট নিচে অবস্থান করছে। এ অবস্থায় মাটির নিচ থেকে অব্যাহতভাবে পানি তোলা হলে আগামীতে ঢাকার পানিতে সমুদ্রের লবণপানি চলে আসতে পারে। মাটি দেবে যেতে পারে। এখানে নদীর পানি ভীষণভাবে দূষিত, সুপেয় পানির চাহিদার ৭৮ ভাগ ৯০০টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করতে হয়। অধিক উত্তোলনের ফলে পানির স্তর প্রতি বছর ১০ ফুট করে নিচে নামছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় শুধু পানির অভাবেই ঢাকা ছাড়বে মানুষ।
এ বাস্তবতার কারণ গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনা। ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় পানির চাহিদা দৈনিক ২২০ কোটি লিটার; কিন্তু আরো ২৫ কোটি লিটার পানি অতিরিক্ত তোলা হচ্ছে। তারপরও সবাই পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না। পানিসঙ্কটের মূল কারণ পাইপলাইনের লিকেজ। ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ ভাগ বস্তিবাসী। দৈনিক জনপ্রতি গড়ে ১৪০ লিটার পানি ব্যবহার হলেও বস্তিবাসী পাচ্ছে মাত্র ২০ লিটার। চট্টগ্রাম, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পনগরে সরবরাহ হচ্ছে বিপুল পরিমাণ পানি। এর প্রায় সবটা আসছে ভূগর্ভ থেকে। এ ছাড়া উপায় কী? এসব শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলো তো দূষণের কবলে শেষ হয়ে গেছে। নদীর পানি ব্যবহার তো দূরের কথা; গন্ধও নেয়া যায় না!
পরিস্থিতি যখন এমন গুরুতর, তখন ভূগর্ভের পানির অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁঁকিপূর্ণ উত্তোলনের বিকল্প সন্ধানে আমরা কি প্রয়াসী হচ্ছি? এর ওপর সীমাতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে ভূমির উপরের পানিসম্পদকে কাজে লাগানোর যথোচিত পদক্ষেপ আমরা দেখছি কি? কিংবা এর সদ্ব্যবহারে কি দায়িত্বশীল হতে পারছি? ৭৫৪টি ছোট-বড় নদী এবং ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদীর নাব্য এবং বিপুলসংখ্যক হাওর-জলাশয় ইত্যাদির সুপেয় পানির সুরক্ষা নিশ্চিত করা, প্রতিবেশী দেশের সাথে যৌথ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বাস্তবসম্মত চেষ্টা এবং মানববর্জ্য, কলকারখানার বর্জ্যসহ পানিদূষণের অনুঘটকগুলোর প্রতিবিধান একান্ত জরুরি। পানির অপচয়রোধের বিকল্প নেই। জাতিসঙ্ঘ সুপেয় পানিকে অধিকার হিসেবে ঘোষণা করলেও বাংলাদেশে বিষয়টি অধিকার হিসেবে পরিগণিত হয় না। জনসংখ্যার চাপ এবং তা সামাল দিতে উন্নয়নকাজে পানিকে গুরুত্বের মধ্যে রাখা হয়নি। ফলে পানির সঙ্কট লাগামছাড়া হয়ে চলছে। এভাবে আর কত? পানি সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন এমন কর্তব্য, যা থেকে উদাসীন হওয়ার মানে আত্মঘাতী হওয়ার দিকে এগোনো!
লেখক : কবি, গবেষক


আরো সংবাদ


premium cement