০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯, ৫ জিলহজ ১৪৪৩
`

পতনের জন্য শক্ত বিরোধী দলের দরকার হয়নি

অন্য দৃষ্টি
-

শ্রীলঙ্কায় সংবাদমাধ্যমের ওপর শাসকদের অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। তবে সাংবাদিকতা একেবারে ধামাধরা বা শাসকদের স্তুতি স্তাবকতায় রূপ নেয়নি। সামাজিক মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার ‘এক চাটুকার সাংবাদিকের’ কয়েকটি ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া সোলজাররা পাশাপাশি তার কয়েকটি ছবি সেঁটে দিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, স্থূলকায় এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজপাকসের হাত থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন। আরো কয়েকটি ছবিতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। অন্য ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভকারী জনতা তাকে অর্ধ উলঙ্গ করে দিয়েছে। কিছুটা উত্তম মধ্যমও দিয়েছে। শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। তাতে তার চেহারা কিছুটা বিকৃত হয়েছে।
‘এক চাটুকার সাংবাদিক’ কথাটি ইনভার্টেড কমার ভেতরে রাখলাম, কারণ তার পরিচিতি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি সত্যিকার সিংহলি সাংবাদিক কি না, এ ব্যাপারে আমাদের দেশের সাংবাদিকদের একটি অংশ উদ্বিগ্ন। তাদের কেউ কেউ শ্রীলঙ্কায় বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নেয়ার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশী একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি সে দেশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি ওই ব্যক্তি আসলে সাংবাদিক কি না। সে দেশে সাংবাদিকদের ওপর উত্তম মধ্যম প্রয়োগ ও লাঞ্ছনার আরো কিছু খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলোর কোনটিকে আমরা চেক করে দেখব, সে ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট স্বাধীনতা রয়েছে। তবে আমরা দেখেছি, বিগত এক যুগে বাংলাদেশী নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছে খবর জানার ক্ষেত্রে।
নাগরিক জানপ্রাণের নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট খবরগুলোই তারা জানতে পারেননি। রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়রা জানতে পারেনি, তাদের পরিবারের প্রিয় সদস্যটি কোথায় হারিয়ে গেল। এগুলো পরে বিদেশ হয়ে দেশের মানুষ জানতে পেরেছে। গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে। শ্রীলঙ্কায় উত্তম মধ্যমের শিকার, এই লোক প্রকৃত সাংবাদিক কি না সে ব্যাপারে জানতে এখন আমরা খুব উৎসাহী। সময়মতো প্রয়োজনীয় সংবাদটি আমরা আমাদের জনগণকেই সরবরাহ করতে পারিনি। সাংবাদিকের দায়িত্ব সাধারণ মানুষের পক্ষে যায়। কারণ তারা ক্ষমতাসীনদের অন্যায় ও অনিয়ম তুলে ধরেন শাসকরা, যা করার চেষ্টা করেন সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে বিগত এক যুগে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের একটি অংশ বিপরীত কাজটি করেছেন। তার প্রতিফলনও রয়েছে, কোনো ঘটনায় মানুষ সুযোগ পেলেই সাংবাদিকদের হেনস্তা ও মারধর করার চেষ্টা করেন। নিউমার্কেটে সাধারণ দোকান মালিক ও কর্মচারীরা কয়েক সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। এ কাজটি কোনোভাবে তারা সঠিক না করলেও ক্ষোভের বিষয়টি সাংবাদিকদের আমলে নেয়া প্রয়োজন। এতে সাংবাদিক সমাজের শিক্ষণীয় রয়েছে।
এ দেশের সংবাদমাধ্যমে এখন সবচেয়ে বড় খবর হয়ে উঠছে ‘বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো হবে না।’ তা যে কখনো হতে পারে না, শতভাগ সত্য। শ্রীলঙ্কা ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপ। চার দিকে শুধু অথৈ পানি। তাদের থেকে বহু দূরে মূল ভূখণ্ড হচ্ছে ভারত। অন্য দিকে বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে ওঠা জনপদ বাংলাদেশ। তার পাশেও ভারত মহাসাগর। জনসংখ্যায় লঙ্কার আটগুণ যদিও আয়তনে আটগুণ বড় আমরা নই। অনেক ক্ষেত্রে তারা আমাদের চেয়ে অগ্রগামী। তাদের জনসংখ্যার প্রায় শতভাগ শিক্ষিত, মাথাপিছু আয় আমাদের প্রায় তিনগুণ। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় তারা আমাদের চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে। তবে আমরা যেভাবে বলা শুরু করেছি ‘বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কার মতো হবে না’ তাতে বিষয়টি হয়ে যাচ্ছে; ‘ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না’-এর মতো। মনে হচ্ছে, আমরা এমন এক অপরাধ করেছি, সেই অপরাধের দায় আমাদের ওপর পড়তে শুরু করার লক্ষণ দেখা দিয়েছে; আমরা তার আগেই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বলছি, ‘আমরা কিন্তু অপরাধটি করিনি।’
একটি পত্রিকা শিরোনাম করেছে, গোতাবায়ার পদত্যাগ দাবি নাকচ। বিস্তারিত বিবরণে লিখেছে, শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বিক্ষুব্ধ জনগণ ও বিরোধী নেতাদের দাবি সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাকসের পদত্যাগের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। এটি শ্রীলঙ্কার শাসক পরিবারের জন্য একটি প্রত্যাশার সংবাদ। শাসক পরিবারের একজন ব্যক্তি ক্ষমতার একেবারে শীর্ষে টিকে থাকার নিশ্চয়তা অন্তত মিলছে। তিনি কিন্তু বড় ভাই মাহিন্দা রাজপাকসের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারেননি। মাহিন্দাকে প্রাসাদ থেকে অজ্ঞাত স্থানে পালাতে হয়েছে। তিনি ও তার পরিবারের পালানোর দৃশ্যে দেখা যায়, উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত হেলিকপ্টারে তারা একে একে সবাই চুপিসারে উঠছেন। সবাই ভয়ে জড়োসড়ো। এ দৃশ্যটিও আবার তাদের নিকটজনদের কেউ ধারণ করেছেন। ওই ব্যক্তি এত দিন এই পরিবারের সাথে অত্যন্ত আপনজন হিসেবে থেকেছেন। সবাই এত দিন তাকে জেনেছে, তিনি রাজপরিবারকে সম্মান শ্রদ্ধা করেন। বাস্তবে দেখা গেল, তিনি এই পরিবার থেকে সুযোগ সুবিধা নিলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের সম্মান করতেন না। মূলত অপছন্দই করতেন। তাই এ ছবি বিশ্বমিডিয়ায় উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এর মতো অসম্মানজনক একটি ব্যাপারে পৃথিবীতে একজন মানুষের জন্য আর কী হতে পারে? সারা জীবন ফকির হয়ে থাকাও এমন লাঞ্ছনার চেয়ে উত্তম। আমাদের পত্রিকাটি একেবারে ইনট্রুতে শাসকদের জীবনের নিশ্চয়তাসংক্রান্ত এ খবর টেনে এনেছে।
আমাদের সংবাদমাধ্যমে বিক্ষুব্ধ জনতার চেয়ে সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা অভিযানের ছবি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর একটি মনস্তাস্তি¡ক ব্যাখ্যা রয়েছে। অপরাধ যারা করেন তারা সবসময় সন্ত্রস্তÍ থাকেন। কোথাও একটু নড়াচড়া কিংবা একটি উচ্চ আওয়াজ হলে তারা ভাবেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়ে গেছে। এই ভয় তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। তাদের জন্য প্রয়োজন হয় আশ্রয়ের। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া সামরিক বাহিনীকে বিক্ষোভকারী জনতার ওপর গুলি ছোড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনী শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী জনতার ওপর গুলি চালাচ্ছেন, এমন খবর এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। তবে শাসক পরিবার ও তাদের ছত্রছায়ায় থাকা সুবিধাবাদী গোষ্ঠী চায়, এখনো যেন সামরিক বাহিনী তাদের ছায়া দিয়ে জনতার হাত থেকে বাঁচায়। এমন খবর ও ছবি প্রকাশে আমাদের সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ ও কৌতূহল জাগানোর মতো ব্যাপার।
অন্য একটি পত্রিকায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সি এম শফি সামির একটি মন্তব্যকে প্রথম পাতার প্রথম কলামে তার ছবিসহ শীর্ষে দিয়েছে। তার বক্তব্যের মূল সুর হলো- বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের ভিত শক্ত। এ দেশে ঘরে কিংবা ঘরের বাইরের এমন কোনো শক্তি এখনো প্রধান্য বিস্তার করেনি যে, ক্ষমতা বদল হয়ে যাবে। শ্রীলঙ্কায় গণ-অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর আমাদের দেশে অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এ বিষয়ে হয়রান হয়ে মত দিয়ে চলেছেন। রাজনৈতিক শক্তির নানা সমীকরণ ও অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারা বলার চেষ্টা করছেন, শ্রীলঙ্কার সাথে বাংলাদেশের মিল নেই। রাজনীতি ও অর্থনীতি ছাড়াও আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যে, দেশটির সাথে আমাদের মিল নেই, সেটি খুব একটা উল্লেখ করছেন না। সেটি হলো ২০১৯ সালে গোতাবায়া সরকার অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছেন। দেশটিতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সব ধরনের নির্বাচনে জনসাধারণের ভোটাধিকার প্রয়োগের অবাধ সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের স্থানীয় সরকারের মেম্বার বা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনে জনগণের ভোট মূল্যহীন হয়ে গেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিস্থিতি না হয় না-ই উল্লেখ করলাম। বিগত দু’টি সংসদ নির্বাচনে জনগণ শতভাগ বঞ্চিত হয়েছে এ ক্ষেত্রে। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘নির্বাচিত’ হয়ে যায়। ২০১৮ সালে নির্বাচনের প্রচারণার সময় পেশিশক্তি প্রয়োগ করে প্রথমে বিরোধীদের মাঠ থেকে বের করে দেয়া হয়। এর পরও ‘তারা’ সন্তুষ্ট হতে পারেনি। নির্বাচনের আগের রাতে বাক্সভর্তি করে তাদের শতভাগ বিজয় নিশ্চিত করে।
পাকসে পরিবারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে। প্রধানত তামিল ‘টাইগার’দের বিদ্রোহ কঠোর হাতে দমন করতে গিয়ে এমনটি ঘটে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হলেও বৃহত্তর সিংহলি সম্প্রদায়ের কাছে পাকসে পরিবার হয়ে যায় ‘ভগবানের আশীর্বাদপুষ্ট’। এ ছাড়া এই রাজ পরিবার তাদের শাসন বলিষ্ঠ করার জন্য বিচ্ছিন্ন কিছু দমন-পীড়ন অভিযান করেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে এই পরিবারের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা। এসব ব্যাপারে এরই মধ্যে বহু বিশ্লেষণ মিডিয়ায় পাওয়া গেছে। আমাদের সাথে অমিল হচ্ছে জনসাধারণ পীড়নসংক্রান্ত। আমাদের দেশে বিচারবহির্র্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনা নিয়মিত ঘটেছে। প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ এতটাই কঠোর হয়ে উঠে যে, আক্রান্ত পরিবার কোনো প্রতিকার পায়নি। তারা একটি সংবাদ সম্মেলন করে জাতির সামনে তুলে ধরবে, তার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। সদস্যদের হারিয়ে পরিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করবে, অনেক সময় তারও অনুমতি মেলেনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। আবার সংবাদ সম্মেলন হলেও সেটি নানা ধরনের সেন্সরশিপের কবলে পড়ে মূল ধারার সংবাদমাধ্যমে খবরের মর্যাদা পায়নি। সাধারণ মানুষের করুণ বেদনা প্রকাশের জায়গা হয়েছে সামাজিক মাধ্যম। এ ধরনের একটি দম বন্ধ হওয়া পরিস্থিতির সূত্র ধরে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তার শীর্ষ কয়েকজন সদস্যের ওপর নেমে এসেছে নিষেধাজ্ঞা। শ্রীলঙ্কার দুঃশাসন উৎপাটিত হয়ে অবাধ গণতান্ত্রিক শাসনের জাগরণ যুক্তরাষ্ট্র্রও চায় কিন্তু দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জনগণের ওপর বিচারবহির্র্ভূত হত্যা গুমের অভিযোগে এমন নিষেধাজ্ঞা তাদের পক্ষ থেকে নেমে আসেনি।
শাসক পরিবারের আর্থিক অনিয়ম কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার মানুষ ক্ষুব্ধ। তবে এখনো সে দেশে একজন প্রশান্ত কুমার হালদার দেখাতে পারবেন না। পি কে হালদার নামে কুখ্যাতি পাওয়া এই ব্যক্তি একাই হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে দিয়েছেন। ব্যাংক আর্থিক ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক বিভিন্ন রেগুলেটরি বডি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবাইকে একসাথে বোকা বানিয়ে দীর্ঘ এক যুগে এ কাজ করেছেন। তিনি একাই নন, তার সাথে একটি বড় চক্র জড়িত ছিল। তারা অনেকে তার সাথে থেকে বহু অর্থের মালিক হয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কয়েকজনকেও এ কাজে তার সহযোগীরূপে পাওয়া গেছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রথম দিকে কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যাংক লুটপাট সম্পর্কে বলেছিলেন ‘তেমন বড় কোনো টাকার অঙ্ক নয়’। এর সূত্র ধরে এরপর প্রায় সব ক’টি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংক থেকে লুটপাটের ঘটনা মূলত ঋণের নামে হয়ে থাকে। কয়েক দিন আগে একটি পত্রিকায় চট্টগ্রামে ঋণের গতি ‘অস্বাভাবিক’ শিরোনামে একটি খবর উঠেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৩০৯ কোট টাকা। গত বছরের শেষে সেটি একলাফে উঠে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা। ওই খবরে যমুনা ব্যাংকের স্থানীয় এক কর্মকর্তার মন্তব্য নেয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, পাঁচ বছর আগে খাতুনগঞ্জে ঋণ নেয়ার মতো ৫০০ গ্রাহক ছিল। এর বেশির ভাগই ব্যবসায় গুটিয়ে নিয়েছেন, কেউ কেউ আবার পালিয়ে গেছেন।’
পি কে হালদারদের সংখ্যা বাংলাদেশে এখন কতজন, কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পে চামচ-পর্দা-চেয়ার কেনায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির ঘটনা জনগণের দুঃখকষ্টের সাথে হাসিঠাট্টার খোরাকও জুগিয়েছে। সরকারি অফিসে বড় বড় দুর্নীতি এ সময় দেখা গেছে। সুধাংশু শেখর নামে ডাক বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাই ৫০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সরকারি অফিসে সুধাংশু শুধু একজন নন, এসব সেক্টরে শ্রীলঙ্কাকে আমরা অনেক বড় মার্জিনে হারিয়ে দেবো এতে কোনো সন্দেহ নেই। শ্রীলঙ্কার মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণের জন্য কোনো বিরোধী দলের প্রয়োজন হয়নি। এমনকি সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো বিরোধী দলকে দৃশ্যপটে দেখাও যাচ্ছে না। খোদ জনতাই বেঁকে বসে আছে। তারা শাসক পরিবারের শেষ সদস্য গোতাবায়াকে পদচ্যুত করা পর্যন্ত হয়তো ঘরে ফিরবে না।
jjshim146@yahoo.com

 


আরো সংবাদ


premium cement

সকল