২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৫ মাঘ ১৪২৮, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

স্মরণ

-

সাংবাদিক ও শিশুসংগঠক রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। এয়াকুব আলী চৌধুরী ও রওশন আলী চৌধুরী সাহিত্যিক ভ্রাতৃদ্বয় সম্পর্কে তার নানা। তিনি বিখ্যাত সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের একমাত্র সন্তান নূরজাহান বেগমকে বিয়ে করেন; যিনি দীর্ঘকাল যাবৎ সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার সম্পাদক। রোকনুজ্জামান কলকাতার দৈনিক ইত্তেহাদ, শিশু সওগাত এবং ঢাকার দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি ইত্তেহাদের ‘মিতালী মজলিস’ এবং মিল্লাতের ‘কিশোর দুনিয়া’ শীর্ষক শিশুপাতা সম্পাদনা করতেন। ১৯৫৫ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করে ‘দাদাভাই’ ছদ্মনামে শিশুদের পাতা ‘কচি-কাঁচার আসর’ সম্পাদনা শুরু করেন এবং আমৃত্যু এর সাথে জড়িত ছিলেন। এ থেকেই তিনি ‘দাদাভাই’ নামে দেশব্যাপী পরিচিত হয়ে ওঠেন।
রোকনুজ্জামান খান অনেক কবিতা ও ছড়া লিখেছেন। শিশুদের লেখা সংশোধন ও সম্পাদনা করে পত্রিকায় ছাপিয়ে তাদের প্রতিভার বিকাশে তিনি নিরলস প্রয়াস চালিয়েছেন। তার সম্পাদিত আমার প্রথম লেখা গ্রন্থে বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও লেখকদের সেসব লেখা স্থান পেয়েছে, যেগুলো কচি-কাঁচার পাতায় প্রথম মুদ্রিত হয়েছিল। তার লিখিত শিশুতোষ গ্রন্থ হচ্ছে হাট্টিমাটিম, খোকন খোকন ডাক পাড়ি, আজব হলেও গুজব নয় প্রভৃতি। তার সম্পাদিত ঝিকিমিকি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিশুসংকলন। এসব রচনার মাধ্যমে তিনি কোমলমতি শিশুদের মনে নীতিজ্ঞান, দেশপ্রেম ও চারিত্রিক গুণাবলি জাগ্রত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি কচি ও কাঁচা নামে মাসিক পত্রিকা কয়েক বছর সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছিলেন। দাদাভাইয়ের একটি বড় অবদান ‘কচি-কাঁচার মেলা’ (১৯৫৬) নামে জাতীয় শিশুসংগঠন প্রতিষ্ঠা।
রোকনুজ্জামান খান সৃজনশীল ও সাংগঠনিক কর্মের পুরস্কারস্বরূপ বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, জসীমউদ্দীন স্বর্ণপদক এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ও রোটারি ফাউন্ডেশন পল হ্যারিস ফেলো সম্মানে ভূষিত হন। ইত্তেফাক-এর ফিচার সম্পাদক থাকাকালে ১৯৯৭ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন।


আরো সংবাদ


premium cement