০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

স্ম র ণ: ডা: শামসুল আলম খান মিলন

-

আজ ২৭ নভেম্বর। ১৯৯০ সালের এ দিনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা বিএমএর একজন সংগঠক ডা: শামসুল আলম খান মিলন তৎকালীন এরশাদ সরকারের ভাড়াটে বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন। তিনি ১৯৫৭ সালে ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার কলাকোপায়। পিতা ফ্লাইট সার্জেন্ট (অব:) মো: শাহাদাত উল্লাহ খান ১৯৮৭ সালে ইন্তেকাল করেন। মা সেলিনা আক্তার ঢাকার ইডেন গার্লস কলেজের শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে মিলন সবার বড়। তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে সম্মিলিত মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৭৫ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়ে মিলন ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৮০ সালে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের (জাসদ) সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক এবং ১৯৮১ সালে কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৫ সালে পেশাজীবী আন্দোলনের সমন্বয় কমিটি গঠন করে সামরিক সরকারের অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অবস্থা নেন। ১৯৮৯ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের প্রভাষক নিযুক্ত হন। ১৯৯০ সালে সরকারের ঘোষিত স্বাস্থ্যনীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মাধ্যমে অন্যতম সংগঠক হিসেবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ফলে তাকে অন্যায়ভাবে ঢাকা থেকে রংপুরে বদলি করা হয়। ডা: মিলন ১৯৮৬ ও ’৮৮ সালে বিএমএর যথাক্রমে প্রকাশনা সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ’৯০-এর ২৭ নভেম্বর হাসপাতালের কাজ শেষে আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিএমএর সভায় যোগদানের উদ্দেশে রিকশাযোগে যাওয়ার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাশের সড়কে স্বৈরাচারী সরকারের লেলিয়ে দেয়া বাহিনীর গুলিতে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ডা: মিলনের আত্মত্যাগের ফলে গণ-আন্দোলন রূপান্তরিত হয় গণ-অভ্যুত্থানে। প্রচণ্ড বিক্ষোভের মুখে ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এভাবে সুগম হয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ।
উল্লেখ্য, মিলন লেখক হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছিলেন। স্বাস্থ্য বিষয়ে নিয়মিত কলাম লিখতেন মাসিক গণসংস্কৃতি তে।
ইয়াসিন চাতক


আরো সংবাদ


premium cement