২৮ অক্টোবর ২০২১
`

দৃষ্টিপাত : চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ

-

জীবনের তাগিদে প্রায়ই আমাদের দেশের একপ্রান্ত হতে অন্যপ্রান্তে যেতে হয়। দূরপাল্লার যাতায়াতের ক্ষেত্রে কেউ বাস, ট্রেন, মাইক্রোবাস কিংবা অন্যান্য যানবাহন ব্যবহার করে থাকেন। অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় ট্রেনে ভ্রমণ তুলনামূলক আরামপ্রদ হওয়ায় মানুষ ট্রেনে বেশি চড়তে চান। তা ছাড়া চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রেনে ভাড়াও কম। আমাদের দেশে খেলার ছলে অনেকেই ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে, যা দুঃখজনক এবং এ ধরনের অপরাধমূলক আচরণ রাষ্ট্র কখনোই সচেতন নাগরিকদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে না।
সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে দুর্বৃত্তরা পাথর নিক্ষেপ করে। এ সময় পাথরের আঘাতে ইঞ্জিন কামরার জানালার কাচ ভেঙে সহকারী ট্রেনচালকের দুই চোখেই কাচ বিদ্ধ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমন ঘটনা প্রায় নিয়মিত ঘটছে। কেবল গুরুতর ঘটনাগুলো সংবাদমাধ্যমে আসে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন (১৮৯০)-এর ১২৭ ধারায় এর শাস্তির বিধান রয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান আছে। আর কোনো রেলযাত্রী মারা গেলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় ফাঁসির বিধান। পাথর নিক্ষেপকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে সে ক্ষেত্রে তার অভিভাবককে শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধ করতে হলে পরিবারিক শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নৈতিক দিকটা শিশুদের মধ্যে গড়ে দিলে তারা কখনো এ অন্যায় কাজটি করবে না। এ জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের দায় রয়েছে। সবাই একসাথে মিলে সচেতনতা বাড়াতে পারি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে। প্রত্যেক মসজিদে জুমার বয়ানে ইমাম সাহেব এ নিয়ে কথা বলতে পারেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে রেলওয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা, রেলওয়ের জনবল বাড়ানো ইত্যাদি দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রতিটি ট্রেনে রেলওয়ে পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। হ
মনোহরপুর, কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ



আরো সংবাদ