১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

স্মরণ : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

-

আজ ২৯ জুলাই বিদ্যাসাগরের ১২৪তম মৃত্যুদিবস। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে। তার শৈশব ও বাল্যজীবন চরম দারিদ্র্যের ভেতর দিয়ে অতিবাহিত হয়। উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি কলকাতায় আসেন। ১৮২৯ সালে ভর্তি হন সংস্কৃত কলেজের ব্যাকরণ বিভাগের তৃতীয় শ্রেণীতে। ১৮৪১ সালে কৃতিত্বের সাথে উচ্চতর শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করেন এবং অসাধারণ মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ ইংরেজ সরকারের পক্ষ থেকে লাভ করেন ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি। ১৮৪১ সালের ২ ডিসেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রধান পণ্ডিতরূপে তার কর্মজীবন শুরু। ১৮৫১ সালে অধিষ্ঠিত হন সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদে। ইংরেজি ও হিন্দি ভাষাতেও তিনি অসামান্য ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
‘বিদ্যাসাগরকে’ বলা হয় বাংলা গদ্যের জনক। গদ্যেরও যে একটি নিজস্ব ছন্দ আছে, তিনিই প্রথম তা আবিষ্কার করেন। গদ্য ভাষার যতি চিহ্নাদির যথাযথ প্রয়োগ ও প্রচলনের কৃতিত্বও তার। সমাজ সংস্কারক হিসেবে ঈশ্বরচন্দ্রের দৃঢ় ভূমিকার কথা ইতিহাসবিদিত। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিধবা বিবাহের প্রচলন এবং বহু বিবাহ প্রথা নিবারণে তার অকুতোভয় ও নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম সমাজ সংস্কারের আন্দোলনের ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পত্রপত্রিকা সম্পাদনা ও পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিদ্যাসাগরের ভূমিকা সুবিদিত। এ প্রসঙ্গে বলতে হয়, ‘সর্ব শুভকরী’, ‘তত্ত্ববোধিনী’, ‘সোম প্রকাশ’ ও ইংরেজি ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’-এর মতো পত্রিকাগুলো বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। বিদ্যাসাগর এসব পত্রিকার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। বহু নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার ছিল অগ্রণী ভূমিকা। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘হিন্দু মেট্রোপলিটন’ স্কুলের প্রতিষ্ঠা, যা তারই একান্ত উদ্যোগে অচিরেই রূপান্তরিত হয়েছিল কলেজে।
দারিদ্র্যপীড়িত অসহায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কবি ও শিল্পী-সাহিত্যিকদের পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রেও ঈশ্বরচন্দ্র ছিলেন উদার। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাথে তার ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। দানশীলতার জন্য তাকে ‘দয়ার সাগর’ বলে অভিহিত করা হতো।
উল্লেখযোগ্য রচনা : ‘বেতাল পঞ্চ বিংশতি’, ‘বাংলার ইতিহাস’, ‘জীবন চরিত’, ‘বোধোদয়’, ‘উপক্রমণিকা’, ‘খজুপাঠ’, ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’, ‘শকুন্তলা উপাখ্যান’, ‘বিধবা বিবাহ’, ‘বর্ণ পরিচয়’ (১ম ও ২য় ভাগ), ‘আখ্যান মঞ্জরী’ ও ‘ভ্রান্তি বিলাস’। ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে ঈশ্বরচন্দ্র মারা যান ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই। বাংলা ভাষার উন্নতি সাধনে; বাঙালির আত্ম-মর্যাদাবোধ জাগাতে, দানে, দয়ায় ও মনুষ্যত্বে আজো বিদ্যাসাগর স্মরণীয়। হ
মো: জোবায়ের আলী জুয়েল



আরো সংবাদ