২০ জুন ২০২১
`

দৃষ্টিপাত : পরিচয় হতে হবে আপন নামে

-

ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন নিয়ে বড় হচ্ছি অথবা কেউ স্বপ্ন দেখিয়েছে, সেই স্বপ্নের ওপর ভর করে পড়াশোনা করে একদিন বড় হবো। নামের আগে ‘ডাক্তার’, ‘প্রফেসর’, ‘বিচারপতি’, ‘ব্যারিস্টার’, ‘কর্নেল’ ইত্যাদি টাইটেল লিখা থাকবে। এসব দেখে মানুষ শ্রদ্ধা করবে। সমাজে শির উঁচু করে চলতে কোনো বাধা থাকবে না। কেউ কেউ আবার কল্পনা করেনÑ গাড়ি-বাড়ি থাকবে, ফরমাল ড্রেসে ভাব দেখিয়ে গাড়ির গ্লাস নামিয়ে গ্রামের মানুষগুলোর দিকে হাত তুলবেন। তারা ‘স্যার’, ‘স্যার’ বলে ছুটে আসবে। তরুণেরা চার-পাঁচ ইঞ্চি সাইজের স্মার্টফোন হাতে নিয়ে সেলফি তুলতে দৌড়ে আসবে। তখন গর্বে বুকটা বড় হয়ে আসবে!
আবার অনেকেই ভাবেন, পুলিশ হতে পারলে এবং বুট জুতার লাথিতে দু’চারটা রিকশার চাকা ভাঙতে পারলে বোধ হয় ‘বড়ত্ব’ প্রকাশ পাবে। অথবা ঠেঙ্গা লাঠি নিয়ে ফুটপাথের দোকানিকে কটা লাথি মারতে পারলে সবাই তাকিয়ে দেখবেÑ ফিল্মি একটা ভাব আসবে। পুলিশের পোশাক পরা সার্থক হবে তখন।
বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ক্যাডার হতে পারলে তো কথাই নেই! ‘স্যার, স্যার’ বলে সম্বোধন না করলে যে অনেকের মন ভরে না! এভাবে আমাদের ভাবনার জগতে আছে বিভিন্নভাবে বড় হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নকে ঘিরে রয়েছে পদ-পদবি, ক্ষমতা কিংবা পোশাকের অহঙ্কার।
ক্যাডার হলে ‘স্যার’ বলবে, পুলিশ হলে ‘স্যালুট’ দেবে, বড় ডিগ্রি নিলে নামের আগে কিছু একটা থাকতেই হবে। অথচ ছোটবেলায় আমরা পড়েছিলামÑ
‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’
যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপানসহ উন্নত দেশগুলোতে কেউ নামের আগে ‘ডাক্তার’, ‘প্রফেসর’ কিংবা অন্যান্য টাইটেল লেখে না, এভাবে পরিচয়ও দেয় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে হেড বা বসকে নাম ধরে ডাকলেও কর্মচারীকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করার নজিরও আছে। পদ-পদবির অহঙ্কারের প্রবণতা থেকে তারা মুক্ত। কর্মক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করাকে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে থাকেন। এ ব্যাপারে আমরা তাদের অনুসরণ করতে পারি।
লেখক : শিক্ষার্থী, দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা, ঢাকা

 



আরো সংবাদ