১৭ এপ্রিল ২০২১
`

দৃষ্টিপাত : গণ্যমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্ব দিন

-

একজন গণ্যমাধ্যমকর্মী কবলা জমির মিউটেশন (নামজারি) মোকদ্দমা করতে গিয়ে আর্থিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কিছু বলা দরকার। সংবাদপত্র রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’। বিশ্ব সমাজব্যবস্থার সাথে সাংবাদিকদের কল্যাণমুখী সম্পৃক্ততা না থাকলে পৃথিবীর যেকোনো দেশের চলমান সমাজ সভ্যতা নিঃসন্দেহে স্থবির হয়ে যেত। বিশৃঙ্খলার আবর্তে জনজীবন হতো দুর্বিষহ। বাংলাদেশেও বর্তমান প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে অনুধাবন করা যায় যে, সাংবাদিকরা কত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন। দেশের অসংখ্য দুর্নীতির ফিরিস্তি সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। তার পরও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ও হয়রানির চিত্র এ দেশে নতুন নয়। গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর কিছু অসৎ ও উচ্চবিত্ত সরকারি আমলার মামলা ও হামলার অনৈতিক আচরণ ও সক্ষমতা এবং দাপটের ব্যাপকতা পত্র-পত্রিকায় কিছু দিন আগেও ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। এখনো নির্বাচনকেন্দ্রিক সংবাদ সংগ্রহের জেরে সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার খবর আসছে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আমলা কর্তৃক একটি ন্যক্কারজনক ঘটনার অবতারণা করছি এ লেখায়, যা একেবারেই নিন্দনীয়।
বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলের এক উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রধান উপ-সহকারী কর্মকর্তা (হেড তহশিলদার) লেবাস ও বেশ-ভূষায় কেতাদুরস্ত। তিনি একজন সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় জানা সত্ত্বেও ১০ শতাংশ জমির মিউটেশন (নামজারি মোকদ্দমা) করতে ছয় হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে বসেন। অথচ কৃষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বিগত ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর ভার্চুয়াল এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা সচিবালয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এতে সংযুক্ত হয়েছেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান যে, কবলা জমি দলিলের ৮ দিনের মধ্যেই মিউটেশনের (নামজারি) সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় সে মোতাবেক। ওই দিন হতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই দলিলের মিউটেশন সম্পন্ন হবার। এতে জমির ক্রেতার উপস্থিতি নিষ্প্রয়োজন। আর আমলাদের দুর্নীতি প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় তার দুর্নীতিবিষয়ক স্পষ্ট ভাষণ দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। সাধুবাদ জানিয়েছেন বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ। ভুক্তভোগীরা করেছেন দোয়া খায়ের। কিন্তু দুর্নীতিবাজ কিছু আমলা এসব কিছুই মনে করেন না। প্রবাদ আছে ‘পোশাকে আশাকে ফেরেস্তা, দুর্নীতির আখড়া তার সেরেস্তা’। সুষ্ঠু সমাজব্যবস্থা বিনির্মাণে সাংবাদিকদের অনবদ্য অবদান অনস্বীকার্য। তাদের নিরপেক্ষ কর্মতৎপরতা না থাকলে রাষ্ট্র, সমাজ ও মানবতা বিঘিœত হতো। সমাজের সুনীতি হতো দুর্নীতির আখড়া। তবে এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ইতিবাচক নজরদারি সুফল বয়ে আনতে সক্ষম। কিছু ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দুর্নীতিরোধে সরকারের শুভদৃষ্টি কামনা করছেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ। হ
আজিজ ইবনে মুসলিম, গলাচিপা, পটুয়াখালী



আরো সংবাদ