২৬ অক্টোবর ২০২০

হেফাজতের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব

-

শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ:-এর ইন্তেকালের পর হেফাজতে ইসলামের পরবর্তী নেতৃত্বে কারা আসবেন এটা নিয়ে ইলেকট্্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। কেউ কেউ ‘অমুককে চাই’ এমন মতপ্রকাশ করে পোস্ট দিচ্ছেন। ফেসবুক হলো ওপেন প্লাটফর্ম, যে কেউ তার নিজস্ব মতামত উপস্থাপন করতে পারেন। এতে জনমতের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়লেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে নির্ধারিত ফোরামে। দু-একটি টিভি চ্যানেল টকশোর আয়োজন করে বাম ঘরানার বুদ্ধিজীবীদের দিয়ে বলার প্রয়াস চালাচ্ছে, হেফাজতের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, নেতৃত্বের সঙ্কট দেখা দিয়েছে প্রভৃতি। তারাই একসময় ‘তেঁতুল হুজুর’ বলে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ:-কে ব্যঙ্গ করেছিলেন। প্রতিটি দল ও সংগঠনে ভিন্নমতের মানুষ রয়েছে এবং থাকাটা স্বাভাবিক; তাদের লাইভে এনে বিরোধগুলোকে চাঙ্গা করার প্রয়াস চলছে। এর নেপথ্যে কাজ করছে একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।
একটি দৈনিক ‘নেতৃত্ব ঠিক করে গেছেন আল্লামা শফী, মানছেন না বাবুনগরীর অনুসারীরা’ এই শিরোনামে গত ২৪ সেপ্টেম্বর একটি সংবাদ ছাপে। এতে বলা হয়, ১৩ আগস্ট আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ: নিজেকে আমির ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে মহাসচিব করে ২১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি অনুমোদন দিয়ে গেছেন। আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ: স্বাক্ষরিত কপি তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। এ পত্রিকার মন্তব্য হচ্ছে, ‘হাটহাজারী মাদরাসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামে বিভক্তির রেখা টানতে পারে।’ আমির এককভাবে সংগঠনের নেতৃত্ব ঠিক করতে পারেন কি না বা কাউন্সিল ছাড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিতে পারেন কি না, এসব প্রশ্ন হেফাজতের নেতাকর্মীদের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে। এ অবস্থায় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, যেহেতু এখন আমিরের পদ শূন্য হয়েছে, হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বসে নায়েবে আমির থেকে একজনকে আমির হিসেবে নিয়োগ দেবেন অথবা কাউন্সিল ডেকে কমিটি পুনর্গঠন করবেন। গঠনতন্ত্রের বিধি অনুসরণ করার ওপর অনেকে জোর দিচ্ছেন। হেফাজতের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে, এটি অবধারিত। তবে বাগডোর কাদের হাতে আসে সেটি দেখার বিষয়।
বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে উপহাস ও কটূক্তির প্রতিবাদে এক সন্ধিক্ষণে হেফাজতে ইসলামের জন্ম ও উত্থান। সংগঠনের আমির হিসেবে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ:-এর সময়টি ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দেশব্যাপী একটি গণজাগরণ সৃষ্টি করতে তিনি সক্ষম হয়েছিলেন। বাংলাদেশের বড়-ছোট ৩০ হাজার কওমি মাদরাসার প্রায় ৫০ লাখ ছাত্র-শিক্ষক তার পেছনে জমায়েত হন। সাধারণ জনগণের মাঝে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ:-এর একটি ক্লিন ইমেজের গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হলো। ১৩ দফা দাবি নিয়ে যখন ময়দানে আসেন তখন তার বক্তব্য ছিল স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। তিনি প্রকাশ্য জনসভায় বলেন, ‘আমার আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলবিশেষের বিরুদ্ধে নয়। ধর্মদ্রোহী ও নাস্তিক্যবাদীদের বিরুদ্ধে আমার আন্দোলন। কোনো দলকে ক্ষমতা থেকে নামানো বা কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানো আমার অ্যাজেন্ডা নয়। রাস্তায় যেখানে সরকার বাধা দেবে সেখানে জায়নামাজ নিয়ে আপনারা বসে পড়বেন এবং তাসবিহ পাঠ করবেন।’
১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৩ সালের ৫ মে তার ডাকে ‘ঢাকা অবরোধ’ ও শাপলা চত্বরে যে অভূতপূর্ব সমাবেশ হয় তা ছিল ঐতিহাসিক। এর মাধ্যমে বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা, ডয়চে ভেলে, ভয়েস অব আমেরিকাসহ দেশ-বিদেশের মিডিয়ায় তার আলোচনা-পর্যালোচনা তুঙ্গে ওঠে। তখন থেকে তিনি খ্যাতির অনন্য উচ্চতায় অভিষিক্ত হন। শাপলা চত্বর ট্র্র্যাজেডি, হেফাজতের আন্দোলনের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে অনুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ রাজনীতি বিশ্লেষকদের গবেষণার বিষয়।
এরই মধ্যে মহাসচিব ঘোষণা দিয়েছেন, হেফাজতের পরবর্তী নেতৃত্বে কে আসবেন তা নির্ধারিত হবে সংগঠনের কাউন্সিলে। তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করে, সংগঠনে যদি ভাঙন দেখা দেয় অথবা আলাদা কমিটি হয় তাতেও বিস্ময়ের কিছু থাকবে না। মতদ্বৈধতার কারণে একই নামে আলাদা সংগঠন করার অধিকার সবার আছে এবং এতে আইনগত কোনো বাধাও নেই। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে, মূল স্রোতই অবশেষে টিকে থাকে। ভগ্নাংশগুলো মরুপথে দিক হারায়। যে অংশের প্রতি জনগণের সমর্থন থাকে তাদেরই জয় হয়। এ রকম ঘটনা ও প্র্যাকটিস একটা নয়, ভুরি ভুরি।
আলেম-ওলামা ও সাধারণ জনগণের সাথে আলাপ করলে বোঝা যায়, তাদের একটি বৃহত্তর অংশ হেফাজতে ইসলামকে রাজপথে প্রতিবাদী ভূমিকায় দেখতে চায়। আপসকামিতার পক্ষে যারা তাদের বক্তব্য হলোÑ দরকষাকষি করে যদি দাবি আদায় করা যায় তা হলে আন্দোলনের প্রয়োজন কী? বাম ঘরানার বুদ্ধিজীবীদের আশঙ্কা, প্রতিবাদী আলেমরা যদি হেফাজতের নেতৃত্বে চলে আসেন, তা হলে জনমত গঠন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ধর্মবিদ্বেষ ছড়ানোর চর্চা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সমাজবিশ্লেষকদের মতে, হেফাজতের বর্তমান মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ:-এর হাতে গড়া শিষ্য এবং সরাসরি ছাত্র। তাকে বাবুনগর মাদরাসা থেকে এনে হাটহাজারী মাদরাসায় থিতু করেছেন স্বয়ং আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ: এবং মহাসচিব বানিয়ে তিনি প্রশিক্ষিত করেন, যাতে পরবর্তীতে সংগঠনের হাল ধরতে পারেন এবং ইলমের উত্তরাধিকার বহন করতে পারেন। তিনি মেধাবী শিক্ষক ও প্রথিতযশা মুহাদ্দিস। উচ্চতর হাদিসশাস্ত্রে তার বিদেশী ডিগ্রি রয়েছে। এরই মধ্যে বাংলা, উর্দু ও আরবি ভাষায় হাদিসের শরাহসহ বহু গ্রন্থ রচনা করেন তিনি। তার বাবা হাটহাজারী মাদরাসার সাবেক মুহাদ্দিস হজরত আল্লামা আবুল হাসান চাটগামী রহ: লিখিত ‘তানযিমুল আশতাত’ নামক মিশকাত শরিফের ভাষ্য বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের ছাত্র-শিক্ষকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। অনেক চড়াই-উতরাই ও ঘাত-অভিঘাত অতিক্রম করার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। উস্তাদ আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ:-এর মতো তারও রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। আলাপচারিতায় বোঝা যায়, রাজনীতির কূটচাল ও কূটনীতির মারপ্যাঁচের সাথে তিনি পরিচিত নন। তিনি মূলত সমাজ সচেতন ও উম্মাহদরদি জ্ঞানসাধক। তার মতো সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এমন অনেক আলেম দেশে আছেন যাদের কওমি ঘরানার ছাত্র-শিক্ষকরা হেফাজতের নেতৃত্বে দেখতে চান।
এক সাক্ষাৎকারে আমার এক প্রশ্নের জবাবে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী জানিয়েছেন, ‘আমি সরকারবিরোধী নই। দলীয় রাজনীতির সাথে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। কোনো রাজনৈতিক দলের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন আমার লক্ষ্য নয়। সরকার সরকারের কাজ করুক, আমরা আমাদের কাজ করি। কিন্তু নাস্তিক্যবাদী শক্তি যদি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে, এতে সরকার যদি কোনো অ্যাকশন না নেয়, অথবা সরকার যদি নিজের পক্ষ থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ নেয় যেটা শরিয়াহ পরিপন্থী তা হলে ঈমানের তাগিদে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো’। আপস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারকে নসিহত করা বা সৎপরামর্শ দেয়া একটা মহৎকর্ম। এ কাজটি হতে হবে নিঃস্বার্থ। অতীতেও বুজুর্গানে দ্বীন এটি করেছেন। এতে ব্যক্তিস্বার্থ যদি প্রাধান্য পায় তা হলে নসিহত ফলপ্রসূ হবে না। ভারতের মুজাদ্দিদে আলফে সানি ও তুরস্কের শায়খ আফিন্দি নকশবন্দীর মতো মানুষ তো এখন আর নেই।’
একটা ব্যাপার লক্ষ করা গেছে, সময়ে সময়ে যেসব মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা ঊর্ধ্বতন অফিসার এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও যখন হাটহাজারী মাদরাসায় এসেছিলেন, তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে কারো সাথে দেখা করতে যাননি। খুব সম্ভবত ‘দরবার ও সরকার’ থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করাকে তিনি নিরাপদ মনে করেন।
সমাজচিন্তকদের মধ্যে অনেকে মনে করেন, হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম বা হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বে যদি জুনায়েদ বাবুনগরী নাও থাকেন তাতে তার হারানোর কিছু নেই। এরই মধ্যে গোটা দেশে তার গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপকতা লাভ করেছে। অন্য দিকে এসব পদ-পদবি বেশ স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার ও অধিকার তার রয়েছে। ইলমি ময়দানে সৃজনশীল লেখক-গবেষকদের বড় আকাল চলছে। মুরব্বিরা আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছেন। ধীমান আলেমদের যদি প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বে নিয়োজিত রাখা হয় তা হলে তারা ইলমি ও গবেষণাধর্মী নিবন্ধ বা গ্রন্থ রচনার অবসর পাবেন না। লিখিত গ্রন্থ বা গবেষণা অভিসন্দর্ভ মানুষকে শত শত বছর বাঁচিয়ে রাখে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এসব রচনায় উপকৃত হওয়া যায়। জুনায়েদ বাবুনগরী আসলাফ ও আকাবিরদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পছন্দ করেন। বিত্তশালীদের তোয়াজ ও ক্ষমতার অলিন্দে ঘোরাফেরায় তিনি অভ্যস্ত নন এবং আগ্রহীও নন। ঐতিহ্যগতভাবে এই ধাতে তিনি গড়ে ওঠেননি। প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নাল আবেদিন তার পাসপোর্ট ফেরত দেয়ার সময় প্রস্তাব দিয়েছিলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে সালাম জানিয়েছেন। পৃথিবীর যে দেশে আপনি চিকিৎসা করাতে চান, রাষ্ট্রীয় খরচে প্রধানমন্ত্রী সে ব্যবস্থা করবেন।’ আল্লামা বাবুনগরী উত্তরে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার সালাম। প্রস্তাবের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের সক্ষমতা আমার আছে।’
বারবার প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে এবং গঠনতন্ত্রেও উল্লিখিত আছেÑ হেফাজত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। তবে বিভিন্ন মত ও পথের মানুষ যারা সংগঠনের লক্ষ্যের সাথে একমত তারা এর সদস্য হতে পারবেন। এ সুযোগে কওমি ঘরানার দু-একটি রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতারা হেফাজতের নীতিনির্ধারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে সংগঠনের অরাজনৈতিক চরিত্র লোপ পায়। সরকারের সাথে আপস করতে গেলে লাভ-ক্ষতি দুটোই আছে। তবে লাভের চেয়ে ক্ষতির পাল্লা অনেক সময় ভারী হয়ে যায়। ২০১৩ সালে হেফাজত সরকারের সাথে আপসে গিয়ে ১৩ দফার একটি দাবিও আদায় করতে পারেনি। কওমি মাদরাসার সনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সাথে হেফাজতের আপসের কোনো সম্পর্ক নেই। সনদের ব্যাপারে বোঝাপড়া (গবসড়ৎধহফঁস ড়ভ টহফবৎংঃধহফরহম) হয়েছে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ সংস্থা হাইয়াতুল উলিয়ার সাথে সরকারের। কাকতালীয়ভাবে হেফাজতের আমীর যিনি তিনিই হাইয়াতুল উলিয়ার চেয়ারম্যান ছিলেন। আগামীতে এই প্র্যাকটিস পরিবর্তন হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। এমনও হতে পারে, হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান পরিচালক, হেফাজতের আমির, বেফাকুল মাদারিসের সভাপতি ও হাইয়াতুল উলিয়ার চেয়ারম্যান আলাদা আলাদা ব্যক্তি হবেন।
অতীতের ঘটনাপরম্পরা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হেফাজত ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের পক্ষপাতী। তবে সংগঠনকে ধরে রাখার জন্য নেতাকর্মীরা নির্ধারিত সময়ে জেলা-উপজেলায় শানে রেসালত সম্মেলন করে থাকেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মিছিল মিটিং করেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে নিজেদের ব্যানারে কোনো প্রার্থীকে এই সংগঠন মনোনয়ন দেয়নি এবং কোনো দলীয় বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থনও জানায়নি। আলিয়া ঘরানার আলেম এবং জেনারেল লাইনে শিক্ষিত দ্বীনদার ও পরহেজগার মানুষদেরও যদি হেফাজতের সাথে যুক্ত করা যায় তা হলে এ সংগঠন হয়ে উঠবে গণমুখী। আগামী দিনে যারা হেফাজতের নেতৃত্ব দেবেন তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের পাশাপাশি সংগঠনকে যদি মজবুত সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন পরিচালনা করা যায় তা হলে এর ফল হবে ইতিবাচক ও দূরপ্রসারী। ওলামা-মাশায়েখরা হচ্ছেন সামাজিক শক্তির প্রতিভূ। জনগণের ওপর তাদের প্রতিপত্তি যথেষ্ট জোরালো। এমনও হতে পারে, গোটা বছর আন্দোলন করার মতো কোন ইস্যু সৃষ্টি হলো না, তখন সংগঠনের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়বে। জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা যেকোনো সংগঠন বা আন্দোলনের সফলতার পূর্বশর্ত। পুরো দেশে হেফাজতের সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তৃত থাকায় মানবিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা অনেকটা সহজ। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ভিক্ষুক ও পথশিশুদের খাবার, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অন্ন-বস্ত্র প্রদান, চিকিৎসাসেবা, কর্জে হাসানা, এতিম-অনাথদের শিক্ষা সহায়তা, হিজড়া ও যৌনকর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা ইত্যাদি মানবিক কার্যক্রম হাতে নেয়া গেলে একটি বিপ্লব সাধিত হবে। আস্থা তৈরি করা গেলে অর্থসহায়তা পেতে মোটেও বেগ পেতে হবে না। বিত্তশালী ও হৃদয়বান মানুষরা বসে আছেন সাহায্যের ঝাঁপি নিয়ে। হেফাজতের নতুন নেতৃত্ব তা ভেবে দেখতে পারেন। হ
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ওমর গণি এমইএস ডিগ্রি কলেজ, চট্টগ্রাম।

 


আরো সংবাদ