২৯ অক্টোবর ২০২০

স্মরণ : মোহাম্মদ আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার

-

চট্টগ্রামের সংবাদপত্র শিল্প, মুদ্রণ ও প্রকাশনা জগতে মোহাম্মদ আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারের অবদান অবিস্মরণীয়। আজ তার মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশ অঞ্চলের প্রতিকূল আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থায় কলকাতার শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাস করেন তিনি। এ তীক্ষè, দূরদর্শী ও মেধাবী ব্যক্তিত্ব আরাম-আয়েশ, বিলাস-বৈভবের প্রতি আকর্ষণবোধ না করে সুদূরপ্রসারী অথচ ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষ্য নিয়ে প্রকাশনা জগতের প্রতিকূল পথে যাত্রা শুরু করেন। প্রথমে সাপ্তাহিক ও পরে দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে সংবাদপত্র জগতে দিকপালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি সাহিত্যসেবা এবং বহু শিক্ষণীয় গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন। ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের দিনগুলোতে ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্র“য়ারি সর্বপ্রথম প্রতিবাদী কবিতা মুদ্রণ ও প্রকাশনার মর্যাদার অধিকারী তারই প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত কোহিনূর ইলেকট্রিক প্রেস। ১৯৬০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তারই সম্পাদনায় প্রকাশিত দৈনিক আজাদী পরে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম প্রকাশিত দৈনিক হিসেবে গৌরবের অধিকারী। ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সৎ ও ধর্মপ্রাণ আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারকে সঙ্কীর্ণতা ও একদেশদর্শিতা কোনো দিন স্পর্শ করতে পারেনি। ধর্মপ্রাণ মানুষকে একটু অবজ্ঞার চোখে দেখে পশ্চাৎপদ মনে করা বিভ্রান্ত মেকি প্রগতিবাদীরা মোহাম্মদ আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারের জীবন, আচরণ, বিশ্বাস ও আদর্শ পর্যালোচনা করলে নিজেদের ভ্রান্তি ও অসম্পূর্ণতা উপলব্ধি করবেন।
আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যে ধর্ম ও প্রগতির সুষম সমন্বয় তাকে অনবদ্য আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যে পূর্ণাঙ্গ জীবনবোধ ও মানবতাবোধে উজ্জীবিত হয়ে তিনি সব প্রগতিশীল, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম কাতারের সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছিলেন, নতুন প্রজন্মে তা সঞ্চারিত হোক এটাই আজকের দিনে একান্ত কামনা।
পরমতসহিষ্ণুতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।
হ এস এম জামাল উদ্দিন

 


আরো সংবাদ