২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

সংস্কৃতি একটি জাতির প্রাণ

-

বাংলাদেশটাকে এখন যেন চেনা যায় না। বিশ্বায়ন এবং নিত্যনতুন প্রযুক্তির প্রভাবে অনেকটা বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতি। সময়ের বিবর্তনে মানুষ আধুনিকতার নামে মূলত বিজাতীয় সংস্কৃতির চর্চায় মেতে উঠেছে। বহু বছর ধরে আগ্রাসী সংস্কৃতির খপ্পরে পড়ে তরুণসমাজ নৈতিকতা হারিয়ে বিপথগামী হচ্ছে প্রতিনিয়ত। একটি দেশের সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে গেলে দেশটির অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যায়। আমরা কি সেই পথেই হাঁটছি? ১৯৮৭ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে পাঁচ কিস্তিতে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম। শিরোনাম ছিল ‘আমরা বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার’ দেশের বর্তমান সংস্কৃতির দিকে তাকালে হুবহু তা মিলে যায়। বাংলাদেশের পুরো আকাশ মিডিয়া এখন পড়শির নিয়ন্ত্রণে। ভারতের প্রায় সব ক’টি টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে বসে দেখা যায়। অথচ দেশের বেসরকারি চ্যানেলগুলো ভারতে দেখার সুযোগ নেই। সম্প্রতি পত্রিকায় উঠেছে, ভারতীয় সব ক’টি টিভি চ্যানেল নেপালে নিষিদ্ধ। কিন্তু এ দাবি করার সাহস বাংলাদেশের আছে কি? ভারত শুধু সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালাচ্ছে না, বরং কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। এক ঢিলে দুই পাখি মারার গল্পের মতো।
আকাশ সংস্কৃতির কারণে লোকসংস্কৃতি থেকে আমরা বহু বছর ধরে বঞ্চিত। কিন্তু নিজের শেকড়কে না জানলে জাতির উন্নয়ন সম্ভব হয় না। আমাদের শেকড় লুকিয়ে আছে লোকসঙ্গীত, হস্তশিল্প এবং দেশীয় সাহিত্যে। তাই এগুলো টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ এবং অবিরাম প্রচেষ্টা।
বাংলাদেশের সংস্কৃতির ধাপ তিনটি; নগরসংস্কৃতি, গ্রামসংস্কৃতি ও উপজাতীয় সংস্কৃতি। কিন্তু আজ মুখ্য হয়ে উঠেছে আকাশসংস্কৃতি। এর প্রভাবেই আমরা ভুলতে বসেছি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। আকাশে যেমন কিছু বর্জ্য উড়ে বেড়ায় ঠিক তেমনি সাংস্কৃতিক আকাশেও বর্জ্যরে শেষ নেই। কোনটি ভালো আর কোনটি মন্দ, তা অনুধাবন করার দায়িত্ব আমাদেরই।
একটি দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্ব ও উন্নতির পরিমাপে সে দেশের অস্তিত্ব বহুলাংশে নির্ভর করে। সেহেতু সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। জীবনের অস্তিত্ব যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসায়, তেমনিই দেশের অস্তিত্ব শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে। এই বিষয়গুলো প্রাধান্য দিলে তার সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে সততা, নৈতিকতা, সহানুভূতি, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম ইত্যাদি। একটি প্রবাদবাক্য আছে : ‘তুমি যদি যুদ্ধ ছাড়াই কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে চাও তাহলে সেই জাতির যুবকদের মাঝে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দাও।’ আজ আমরা সেটারই শিকার।
সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের সঙ্কট নিয়ে কিছু কথা আলোকপাত করব। আমাদের সংস্কৃতির একটি বিরাট অংশজুড়ে আছে চলচ্চিত্র। এক সময় চলচ্চিত্র আর যাত্রাপালাই ছিল বাঙালির প্রধান বিনোদনমাধ্যম। এখন যাত্রাপালা আছে বলে মনে হয় না। রহিম বাদশা, রূপবান, নবাব সিরাজদৌল্লা, সোহরাব রুস্তম, গুনাই বিবি, আলোমতি, এসব যাত্রাপালা আর চোখে পড়ে না। এসব কাহিনী চলচ্চিত্রেও রূপদান করা হয়েছে এবং তা জনপ্রিয় হয়েছে। ধীরে ধীরে সময়ের ব্যবধানে আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছেÑ যেমন জীবন থেকে নেয়া, ময়নামতি, অবুঝ মন, সারেং বউ, সুতরাং, ক খ গ ঘ ঙ, ভাত দে, কাচের স্বর্গ, নাচের পুতুল, বধূবিদায়, আলোর মিছিল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, নয়ন তারা, ভাগ্যচক্র। এ ছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিলÑ যেমন অরুণাদয়ের অগ্নি সাক্ষী, সংগ্রাম ওরা ১১ জন, আগুনের পরশমণি। এসব ছবি মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটেছে এবং ভালো ব্যবসা করেছে। তখন চলচ্চিত্র নির্মাণ করে লোকসান গুনতে হয়নি। প্রায় দুই যুগ ধরে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয়। জীবনমুখী ছবি মানুষের হৃদয়ে দাগ কাটে। শুধু বিনোদন ছবি মানুষের হৃদয়ে দাগ কাটতে পারে না। ভারতীয় ছবির অনুকরণে ছবি নির্মাণ দেশের মানুষের হৃদয়ে ব্যাপক নাড়া দেয়নিÑ এক কথায় গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি তা। স্বদেশী চিন্তা-চেতনা বাদ দিয়ে বিদেশী অনুকরণে ছবি নির্মাণ করলে তা যে জনপ্রিয়তা পায় না সেটা প্রমাণিত হয়েছে বার বার। এ বাংলাদেশের মানুষ ভারতের টিভি চ্যানেলের সিরিয়াল নাটকগুলো দেখে। এ জন্য দায়ী আমাদের দেশের চলচ্চিত্র শিল্প নির্মাতারা। আমরা ভুলে যাই, একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে বাঙালিরও নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। বাঙালি ভাত-মাছ খায়, লুঙ্গি-পাঞ্জাবি পরে। জারি-সারি, পুঁথি পাঠ, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, পল্লীগীতি শোনে। এগুলো বাঙালির প্রাণ এবং বাঙালি সংস্কৃতির উপাদান। এমন শত শত উপাদান আছে যেগুলো বাঙালিত্বের পরিচয় বহন করে। বাংলাদেশের গণমানুষের সাহিত্য, সঙ্গীত, নৃত্য, ভোজনরীতি, পোশাক, উৎসব ইত্যাদির মিথষ্ক্রিয়াকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি বলে বোঝানো হয়ে থাকে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বমহিমায় উজ্জ্বল।
বাংলাদেশ পৃথিবীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতির ধারণকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের প্রধান সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা, হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গা পূজা, বৌদ্ধদের প্রধান উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা। আর খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ‘বড়দিনও’ ঘটা করে পালিত হয়ে থাকে। এই দিবসগুলোতে রাষ্ট্রীয় ছুটি। সার্বজনীন উৎসবের মধ্যে পয়লা বৈশাখ প্রধান উৎসব হিসেবে মানুষ গ্রহণ করেছে। গ্রামাঞ্চলে নবান্ন, পৌষ পার্বন ইত্যাদি লোকজ উৎসবের প্রচলন চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং ভাষা আন্দোলনের স্মরণে একুশে ফেব্রুয়ারি সাড়ম্বরে পালিত হয়। কিন্তু উল্লিখিত অনুষ্ঠান পর্বে বিজাতীয় সংস্কৃতির মরণ ছোবল আঘাত হেনেছে। এ জন্য দায়ী রাষ্ট্রের অভিভাবকরা। আমার মনে আছে ষাট ও সত্তরের দশকে বাবার সাথে গ্রামের বাড়িতে গেলে যে শান্তি পেতামÑ সেটা ক্রমান্বয়ে কমে গেছে। দাদা-দাদী, নানা-নানী, চাচা-চাচী, মামা-মামী, ফুফু-ফুপা, খালা-খালুর সাথে গ্রামীণ উৎসবগুলো যেভাবে উপভোগ করতাম, সেটা এখন কল্পনাও করা যায় না। আম, জাম কুড়িয়ে যে আনন্দ পেতাম, নদী আর পুকুরে মাছ ধরে যে আত্মিক সুখ পেতাম সেটা এখন নেই বললেই চলে। একান্নবর্তী পরিবার মিলে যে আনন্দ পেতাম, খেজুর ও তালের রসের পিঠা খেয়ে যে আত্মিক সুখ পেতাম, আজকের প্রজন্ম সেটা বিশ্বাস করতে চাইবে নাÑ কিন্তু সেটিই তখন বাস্তব ছিল। প্রাচুর্য বেড়েছে, বিত্তবানদের সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু মনের শান্তি কমে গেছে। আগে মানুষ গরিব ছিল কিন্তু মনের শান্তি ছিল অফুরন্ত। আমাদের স্বদেশী সংস্কৃতি নিভু নিভু অবস্থায় পতিত হয়েছে। একে জাগ্রত করতে হবে। বাংলাদেশে সংস্কৃতির দু’টি ধারা রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেÑ একটি হলো বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অন্যটি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।
এখানেও ভিন্নতা লক্ষণীয় যেটা হওয়া উচিত নয়। সংস্কৃতি ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ভাষা। মানুষের অনুভূতি প্রতিক্রিয়া ভাষার সাহায্যে উন্মুক্ত হয়। সঙ্গীত আর নৃত্যের ক্ষেত্রে সংস্কৃতির প্রকাশ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেননা মানুষের ইচ্ছা ও আনন্দের সঙ্কল্পকে সঙ্গীত ও নৃত্য বহন করে থাকে। প্রাচীন অতীত থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত আমাদের সংস্কৃতিকে ধারণ ও পোষণ করছে সঙ্গীত ও শালীন নৃত্য।
একটি দেশের মানুষের আত্মাভিমান তার দেশকে নিয়ে। পৃথিবীর ইতিহাস তার প্রমাণ বহন করছে। বাংলাদেশের মানুষ সেই প্রমাণের অধিকারেই ‘বাংলাদেশী’। নৃতত্ত্বের কূটবিচারে আমাদের জাতিসত্তা নির্ধারণ করা দুরূহ। ভৌগোলিক এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তিতে আমরা বাংলাদেশী। আমাদের সংবিধানে আমাদের দেশের নাম রাখা হয়েছে ‘বাংলাদেশ’। সংবিধানগত নির্দেশনায় আমরা বাংলাদেশের নাগরিক সুতরাং ‘বাংলাদেশী’। এটাই আমাদের আত্মপরিচয়, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, আমাদের গৌরব। বাংলাদেশের নাম অনুসারে আমাদের রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি বাংলাদেশী। কিন্তু অপ্রিয় সত্য, আমাদের সংস্কৃতিতে অশ্লীলতা এসে গেছে। সংস্কৃতিকে পাহারা দিতে আমরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছি। একশ্রেণীর মানুষ এই নগ্নসংস্কৃতিকে মেনে নিয়েছে। আসলে নগ্নতাই যদি সভ্যতা ও আধুনিকতা হয় তাহলে আদিম প্রস্তর যুগের গুহাবাসীকে অসভ্য ও বর্বর বলার যুক্তি নেই, যদিও তারা আরো বেশি বস্ত্রহীন ছিল। বাঙালি আধুনিক নারীরা শুধু তাদের রক্তের পূর্বসূরিদের পথ থেকেই সরে যায়নি, তারা তাদের আদর্শের পূর্বসূরি বেগম রোকেয়ার সঙ্গেও বেঈমানি করেছে। বেগম রোকেয়া বলেন, কেউ কেউ বোরকাভারী বলিয়া আপত্তি করেন। কিন্তু তুলনায় দেখা গিয়েছে ইংরেজ মহিলাদের প্রকাণ্ড হ্যাট অপেক্ষা আমাদের বোরকা অধিক ভারী নহে (রোকেয়া রচনাবলী পৃ: ৫৭)।
লোকসংস্কৃতির আরেক উপাদান অলঙ্কার। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, মানুষগুলো নিজেদের সাজিয়ে নেয়ার জন্য প্রকৃতির দ্বারস্থ হতো। সময় সময় সে ক্ষেত্রে স্থান করে নিয়েছেÑ নানা রকম পুঁতি। ইতিহাসও তাই বলে। রুচির পরিবর্তন এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে ক্রয়ক্ষমতার সামঞ্জস্য মিলে অলঙ্কারের আকৃতিতে পরিবর্তন হতে পারে। অলঙ্কার বলতে শুধু সোনা আর দামি রতœ দিয়ে তৈরি করা কোনো গয়না বোঝায় না। বাঙালি নারীরা এখন ইমিটেশনের অলঙ্কার থেকে শুরু করে প্লাস্টিক ও মাটির অলঙ্কারও ব্যবহার করেন। আধুনিক মহিলারা ভারী অলঙ্কার পরার মধ্যে এখন আর ‘স্মার্টনেস খুঁজে পায় না। তাই মাটির অলঙ্কার আধুনিক নারীদের কাছে বেশ সমাদৃত। পয়লা বৈশাখ, ফাল্গুনে, বিজয় দিবসসহ বিশেষ দিনগুলোতে মাটির অলঙ্কারের কদর বাড়ে। প্রাত্যহিক জীবনযাপনের সাথেও বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে গেছে এসব মাটির অলঙ্কার। আগে অবশ্য মাটির তৈরি গয়না বেশ ভারী ছিল। এখন হালকা গয়নার চল বেশি। লোকশিল্পের আরেকটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ দারুশিল্প। কাঠের গায়ে খোদাই করা নকশা হলো দারুশিল্প। কথায় আছে মাছে-ভাতে বাঙালি। আমাদের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে মাছ ধরার জন্য ছিল হরেক রকমের ফাঁদ। গ্রামাঞ্চলে বর্ষাকালে বন্যার সময় লোকে মাছ ধরার ফাঁদ পেতে রাখত। নির্দিষ্ট সময় পর সেগুলো তুলে আনলেই পাওয়া যেত আটকে পড়া মাছ। বর্তমানে ফাঁদ পেতে মাছ ধরার দিন ফুরিয়ে আসছে। খোলা জলাশয় ও হাওর বাঁওড়ের সংখ্যাও কমে আসছে। আমাদের মাছের একটি বড় অংশই এখন চাষের। মিঠা পানির মাছ নেই বললেই চলে। কেজি দরে মাছ কিনেই সারতে হয় বাঙালির রসনা বিলাস। লোকসাহিত্যের একটা বড় অংশজুড়ে আছে পুঁথি। ৫০-৬০ বছর আগেও ঘরে ঘরে পুঁথিপাঠের ও জারি গানের আসর বসতো। এই দৃশ্য দাদা ও নানাবাড়ি দেখেছি। শ্বশুরবাড়িতে আসা জামাইয়ের পুঁথিপাঠ ছিল শ্যালিকাদের অন্যতম প্রধান আনন্দ ও বিনোদন। একই সাথে তাতে থাকত জ্ঞানের কথাও। থাকত যুদ্ধবিগ্রহ ও প্রেম ভালোবাসার গল্প। আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ বলেছেন, পূর্ববঙ্গের মাটির বাসিন্দাদের মনের আনন্দ রসে এই সংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছে। গবেষক ওয়াকিল আহমদ বলেছেন, সৃজনশীলতা, মানব ভাবনা ও কাব্যত্ব না থাকার কারণে এ যুগের পাঠক পুঁথি পাঠও করেন না।
সংক্ষিপ্ত পরিসরে সংস্কৃতির বিভিন্ন ধাপ নিয়ে যে কথা বললাম তার মূলে বা শেকড়ে রয়েছে আমাদের সংস্কৃতির ভিত যেন অপশক্তির ষড়যন্ত্রে ধ্বংস হয়ে না যায়। ‘যে জাতির সংস্কৃতি যত বেশি সমৃদ্ধ, সে জাতি তত উন্নত’। আমাদের সংস্কৃতি নষ্ট করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে তারা বহু দূর এগিয়েছে। মা-মাটি ও মানুষের কৃষ্টি-কালচারে সমৃদ্ধ জাতি হয়েও আমরা ক্রমান্বয়ে বিজাতীয় সাংস্কৃতিতে হারিয়ে যাচ্ছি। জারি, পুঁথি, সারি, মুর্শিদি, ভাটিয়ালি, হাছন-লালন-কানাই, নজরুল-আলিম, আব্বাস, জয়নুলের দেশে এখন বিজাতীয় সংস্কৃতির রমরমা প্রসার। তাই ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াকে বলব, আপনারা দেশের মাটি ও মানুষের সংস্কৃতি ছেড়ে অপরের সংস্কৃতির প্রতি আসক্ত হয়ে জাতিকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর তুরস্কের ইতিহাস কি আমরা পড়িনি? অটোমান সাম্রাজ্যের উত্থানের ইতিহাস সবার জানা আছে। পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক এলাকা ছিল তুরস্কের অংশ। পাশ্চাত্যের ইন্ধনে ধর্মনিরপেক্ষতার ধুয়া তুলে উসমানী খিলাফতের অবসান ঘটানো হলো। ১৯২১ সালে কামাল পাশা ক্ষমতা দখল করে তুরস্ককে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করেন। আমাদের দেশের রাজনীতি শুধু নয়; বিজাতীয় শাসকরা আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। এটা আমরা হতে দিতে পারি না কিছুতেই।
লেখক : গ্রন্থকার ও গবেষক
E.m: [email protected]


আরো সংবাদ