১৫ জুলাই ২০২০

কতটুকু উপকার হলো লকডাউনে

অন্য দৃষ্টি
-

নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বের প্রায় সব দেশ ‘রক্ষণশীল নীতি’ গ্রহণ করেছে। সবাই চাইছে করোনার স্পর্শ থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে এ মহামারী থেকে রক্ষা পেতে। এ জন্য সব ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিয়ে সবাই নিজেদের ঘরে অবস্থান করছেন। করোনার গত ছয় মাসের অভিজ্ঞতা বলছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে সংক্রমণ রোধ করা যায়নি। অন্তত ইউরোপের দেশ ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের ইতিহাস তাই বলছে। ওই সব দেশ দ্রুততার সাথে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছিল। প্রত্যেকটি দেশে দুই থেকে তিন লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ।
আমরা দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র দেখতে পারি। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ কঠোর লকডাউন দিয়ে দুই মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করেছে। করোনার সংক্রমণ ঠিকই বেড়েছে। এর সাথে মানুষের মৃত্যুহারও বর্ধমান। এখন এমন একটি অবস্থায় এসেছে, দেশগুলো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না; তারা কী করবে। বাংলাদেশে যেদিন লকডাউন উঠিয়ে দিলো, সেদিন ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ৫৪৫ জন। সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোতেই এ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য তা ছিল রেকর্ড বৃদ্ধি। লকডাউনই যদি করোনার হাত থেকে বাঁচার একমাত্র পথ হয়, তাহলে এখন লকডাউনের প্রয়োজন আরো বেশি বাড়ছে। আর যখন প্রয়োজনীয়তা বেশি করে বেড়ে গেল, আমরা তখন তা উঠিয়ে নিলাম। দুই মাসের বেশি সময় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিয়ে করোনা থেকে বাঁচতে চেয়েছে। বাস্তবে দেখা গেল, করোনার ঝুঁকির মধ্যেই আমরা রয়ে গেছি, এর ভয়াবহতা আরো বহু গুণ বেড়েছে।
দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হলো; গণপরিবহন চালু করা হলো; দোকানপাট-মার্কেট খুলে দেয়া হলো। রাস্তায় সব ব্যারিকেড উঠিয়ে দেয়া হলো। অথচ ‘কোভিড’ সংক্রমণ শুরুর দিনগুলোতে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করা হয়েছে। যে বাড়িতে একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, সে বাড়ি সিল করে দেয়া হয়েছে। শরিয়তপুর জেলার একটি পুরো উপজেলাকে একেবারে লক করে দেয়া হয়। ঢাকা শহরের যেসব মহল্লায়-এর একাধিক রোগী পাওয়া গেছে, সেসব এলাকা পুরোপুরি ক্লোজড করা হয়েছিল। এতটা কঠোরতা অবলম্বনের পরও দেখা গেল, দেশের প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় করোনা ভাইরাস ঠিকই পৌঁছে গেছে। এখন তা দেশের প্রতিটি গ্রামে-পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে পড়ার জন্য অপেক্ষা করছে। লকডাউন করে করোনাকে কেউ আটকে রাখতে পারেনি।
কঠোর লকডাউনের মাধ্যমে এর ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করা কেবল চীনের উহানেই সম্ভব হয়েছিল। তাতে চীনের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া রোধ করা গিয়েছিল। তবে ঠিকই করোনা উহান থেকে সব বন্ধ ফুটা ভেদ করে সারা বিশ্বে পৌঁছে যেতে সক্ষম হয়েছে। চীন একে সাময়িকভাবে উহানে আটকে নিজেরা রাখতে সক্ষম হলেও তারা করোনার ঝুঁকি থেকে মুক্ত হতে পারেনি। দেশটি এখনো এর ‘ওষুধ’ হিসেবে লকডাউনকে একমাত্র অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করছে। এ ব্যবস্থা যে অত্যন্ত ঠুনকো ভীতসন্ত্রস্ত চীনাদের অবস্থা থেকেই তা জানা যাচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় তারা এখনো প্রায়ই আক্রান্ত হচ্ছে বিদেশ থেকে যাওয়া করোনা রোগীদের মাধ্যমে। আগের পদ্ধতিকেই তারা এর ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য ব্যবহার করছে। কঠোর লকডাউন হলো, তাদের একমাত্র উপায়। এটি যে একটি টেকসই ব্যবস্থা নয়, তা এর মধ্যে প্রমাণিত হয়ে গেছে। জনবহুল গরিব দেশগুলো চীনের ‘লকডাউন ফর্মুলা’ অনুসরণ করতে গিয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ এর তিনটি উদাহরণ। সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিয়ে দেশগুলো ইতোমধ্যে যে বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তা কাটিয়ে উঠার সুযোগ তাদের খুব কমই আছে। এসব দেশে অদূর ভবিষ্যতে খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে। নানা রকমের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সঙ্কট থেকে এসব দেশের মানুষের জীবন জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর করোনা মহামারীর ঝুঁকিও তারা কমাতে পারেনি।
বাংলাদেশের এক বিশেষজ্ঞ করোনার ছড়িয়ে পড়া নিয়ে ভিন্ন ধরনের মত দিয়েছেন। তিনি গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিজ্ঞানী বিজন কুমার শীল। তিনি এর আগে করোনা শনাক্তকরণে একটি কিট উদ্ভাবন করেছেন। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে দেখা যায়Ñ তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ তা টেরও পায়নি। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এর লক্ষণ একেবারে মৃদু ছিল। কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ সামান্য প্রকাশ পেলেও তা সেরে গেছে অল্পতে। এক মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা করেন। করোনা টেস্টের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া দেশ। এমনকি আমরা প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও কম টেস্ট করেছি এ ক্ষেত্রে। ইতোমধ্যে মানুষের মধ্যে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘরে ঘরে দেখা গেছে। সে ক্ষেত্রে বিজন কুমারের কথাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
এ ধরনের মতামত আরো অনেকে আগে থেকে দিয়ে আসছিলেন। ‘প্রথাবিরোধী’ ওইসব মতমত খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। আমেরিকার একজন মহামারী বিশেষজ্ঞ কয়েক মাস আগে বলেছেন, আমরা বক্র রেখাটিকে সরল করছি। তার মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্য বহন করে। প্রথম দিকে তার কথা অনেকের অপছন্দ হলেও বাস্তবতা আমাদের সেদিকে নিয়ে যাচ্ছে। কোনো জনপদ একে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি। এর সংক্রমণ বিলম্বিত করার মধ্য দিয়ে কোনো ফায়দা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু ‘সুইডিশ মডেল’টি এখনো অন্যদের রক্ষণশীল অবস্থানের চেয়ে ভুল তা আর বলা যাচ্ছে না। সুইডেন কঠোর লকডাউনের দিকে যায়নি। জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বাভাবিক রেখে সচেতনামূলক কিছু পদক্ষেপ তারা নিয়েছিলেন। দেশটির সংক্রামক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয় ‘হার্ড ইমিউনিটি’র কথা। অর্থাৎ প্রতিরোধ নয়, রোগটির সাথে মিলেমিশে বাঁচার কৌশল। তাদের এই কৌশল অন্যদের চেয়ে খারাপ ফল বয়ে আনেনি। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখার পরও তাদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কঠোর লকডাউন করা ইউরোপের অন্য দেশগুলোর চেয়ে বেশি নয়।
ইতালির বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন, করোনাভাইরাস ক্রমেই দুর্বল হয়ে আসছে। দেশটিতে এর সংক্রমণ কমেছে, মৃত্যুহারও অনেক কমে গেছে। কিন্তু দেশটি কঠোর লকডাউন করে সেটা কমাতে পারেনি। এটি আপনা থেকেই কমজোর হতে শুরু করেছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশের বিজ্ঞানীরা এই দাবি এখনো করছেন না। তবে ইউরোপের প্রায় সব দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু হার এখন নি¤œমুখী। এসব দেশের অভিজ্ঞতাও একই, প্রত্যেকটি দেশ কঠোর লকডাউন দিয়ে করোনা ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন জৈব পরিসংখ্যানবিদ বলেছেন, সবাই বক্ররেখাটিকে সমতল করার চেষ্টা করছে। এতে সঙ্কটের কাল আরো দীর্ঘ হবে। নিউ ইয়র্ক সিটির রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারীতত্ত্ব ও গবেষণা ডিজাইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নট উইটকোভস্কি ব্যতিক্রমী কথা বলেছিলেন। তার মতে, বক্র রেখাটি একসময় পতিত হবে। কিন্তু পড়ন্ত রেখাটিকে সবাই মিলে সোজা করার চেষ্টা করছে। মহামারীর সময়কে দীর্ঘায়িত করার জন্য রাষ্ট্রগুলোর নীতির সমালোচনা করেছেন তিনি।
তার মতে, ৮০ শতাংশ মানুষকে ভাইরাসটির সংস্পর্শে আসতে দেয়া উচিত। এতে করে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিকভাবে মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে। তিনি আরো বলেন, এই ভাইরাসে আক্রান্ত বেশির ভাগ মানুষেরই কোনো কিছু হয় না। বিশেষ করে শিশুদের এই ভাইরাস কিছুই করতে পারে না।’ তার এমন বক্তব্য সরাসরি হয়তো গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দেখেছি, আমেরিকায় এক লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত পৌনে চার লাখ মানুষের প্রাণ গেছে করোনায়। এদের মধ্যে শিশু এবং তরুণও রয়েছে। এই ভাইরাসটি মানুষের প্রাণ সংহারের কত বেশি ক্ষমতা রাখে সেটাও দিবালোকের মতো স্পষ্ট। তবে বক্র রেখাটি সোজা করার মানুষের এ ভুল চেষ্টার মোটামুটি প্রমাণ মিলছে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন রোগে মানুষের মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকাশিত হচ্ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, করোনার চেয়ে অনেক রোগই মানুষের প্রাণ হরণে এগিয়ে রয়েছে। ওই সব রোগ আগে থেকে মানুষের জীবনাবসান করে এসেছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা যায়Ñ হার্ট অ্যাটাকে বছরে ৯৪ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে গত ছয় মাসে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় পৌনে চার লাখ মানুষ। আমরা যদি ধরে নেই করোনায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ আট লাখ মানুষ মারা যাবে (যদিও আমরা এ রোগের প্রভাব মানুষের সমাজে শেষ পর্যন্ত কী হয় জানি না)। তাহলে শুধু হার্ট অ্যাটাকের তুলনায় করোনায় মৃত্যু সাত ভাগের এক মাত্র। স্ট্রোকে বছরে মারা যাচ্ছে প্রায় ৫৮ লাখের মতো মানুষ। শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগ, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া, যক্ষ্মাসহ আরো অনেক রোগ রয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটি রোগে মানুষের মৃত্যুহার কোভিড-১৯ এর চেয়ে অনেক বেশি। এমনকি সড়ক দুর্ঘটনায়ও এর চেয়ে অনেক বেশি মানুষ মারা যায়। আমাদের দেশে করোনার এই মওসুমে যোগাযোগ যখন বিচ্ছিন্ন, এ সময়েও সড়ক দুর্ঘটনায় করোনার চেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
এটা অলৌকিক ব্যাপার যে, ভীতি তৈরির ক্ষেত্রে করোনা অন্যান্য প্রাণঘাতী রোগের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে। এর কারণ কি করোনার ব্যাপারে মানুষের যথেষ্ট জ্ঞান না থাকা? এ রোগের কোনো ওষুধ নেই বলে প্রোপাগান্ডা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে সব কর্মকাণ্ড ছেড়ে দিয়ে বাসাবাড়িতে অন্তরীণ হয়ে এ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। এটাও প্রমাণিত হচ্ছে, নিজেকে অত্যন্ত নিরাপদ করার জন্য চার দেয়ালের মধ্যে সুরক্ষিত রেখেও অনেকে বাঁচতে পারেননি। করোনা এক বিরাট রহস্য। সে রহস্য উদঘাটিত না হওয়ায় মানুষের মধ্যে শুধু ভীতি ছড়িয়ে যাচ্ছে।
কেন করোনার ব্যাপার নিশ্চিত করে জানা যায় না? আর এ রোগে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা অন্য অনেক রোগের চেয়ে ঢের কম হওয়ার পরও কেন মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে? মূলত মানুষের জানার বাইরে থাকা ধারণা ও বস্তুর সংখ্যাই বেশি। পৃথিবীর মানুষের কাছে নিজের শুরু বা উৎপত্তি নিয়ে কোনো নিশ্চিত উত্তর নেই। মানুষ জানে না নিশ্চিত করে সূর্যের ব্যাপারে। সূর্য যদি অদৃশ্য হয়ে যায়, অল্প সময়ের মধ্যে মানুষসহ পুরো প্রাণী জগৎ প্রাণ হারাবে। সূর্য অন্ধকার দূর করে প্রতিদিন আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। প্রাণী জগতের ‘খাদ্য’ বলতে যা বোঝায় পুরোটাই উৎপাদনের মূল উপাদন সূর্যের আলো। সূর্য নেই তো, আমাদের খাদ্যও নেই। আমরা নিজেদের ব্যাপারে যেমন জানি না, আমাদের জীবন যার দ্বারা সম্ভব হচ্ছে সে সব ব্যাপারে নিশ্চিত করে জানি না।
করোনা কি আমাদের কোনো বার্তা দিতে চায়? মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী না হয়েও মানুষকে সবচেয়ে ভীতসন্ত্রস্ত করতে পেরেছে এবং সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত করতে পেরেছে। তাহলে করোনা আমাদের কী বলতে চায়? করোনা আসলে কে? সে কি নিজে থেকে সৃষ্ট কোনো বস্তুগত অস্তিত্ব? নিজে থেকে যদি সৃষ্ট হয়ে না থাকে তাহলে একে কে তৈরি করেছে? চাঁদ, সূর্য, সাগর-মহাসাগর, পর্বত আর মহাবিশ্ব কোথা থেকে এলো? এগুলোর অস্তিত্ব কি নিজে থেকেই এসেছে? সবাই বলবেন, কেউ নিজে থেকে সৃষ্টি হয়নি। তাহলে করোনা কি একটি বার্তা? এটা আমাদের কিছু একটা বলতে চায়! হ

ললংযরস১৪৬@ুধযড়ড়.পড়স


আরো সংবাদ