০১ জুন ২০২০

করোনা এবং নির্বাচন কমিশন

-

কোথাও কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যেমনÑ ভূমিকম্প, সিডর, বিমান, বাস, অগ্নি, নৌ ইত্যাদি দুর্ঘটনায় কেউ নির্মম আহত বা নিহত হলে বাকি দুনিয়াজুড়ে আমরা শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করি। কিন্তু আজ সারা দুনিয়াজুড়ে সর্বত্র এক মারাত্মক মহামারী ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে কেউ কারো জন্য শোক বা সমবেদনা জানানোর সময় নেই। বরং নিজেকে বাঁচাতে যে যার মতো করে উঠেপড়ে ছুটছে বা থমকে যাচ্ছে। কেউ কারো খবর নেয়ার উপায় নেই। আল্লাহ তায়ালার অসীম ক্ষমতার এটুকু আঘাতেই, কিয়ামতের আগেই সব দেশ ব্যক্তি আলাদা এবং একাকী হয়ে, সবার ‘ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি’ দশা শুরু হয়ে গেছে। সবাই জনবিচ্ছিন্ন এবং গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে।
চোখে দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না, কিন্তু ছড়িয়ে পড়ছে তো পড়ছেই, সারা বিশ্বে এখন একই কথা, একই কাজ। সারা বিশ্ব এমন এককথায় এক সারিতে আসা বিরল ঘটনা। এ করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে অনেকেই পরম করুণাময় আল্লাহর রহমতে সুস্থ হচ্ছেন, আবার কেউ মারা যাচ্ছেন, কিন্তু অনস্বীকার্য হলো, এর কোনো চিকিৎসা নেই। বাঁচা-মরা সবই আল্লাহ তায়ালার হাতে। অন্য সময় তা কারো কারো বুঝে না এলেও এখন হাড়ে হাড়ে বোঝা যাচ্ছে। আক্রান্ত বা সম্ভাব্য ব্যক্তি সবার থেকে আলাদা বা দূরে থাকাই এ বিপদ মোচনের একমাত্র প্রতিকার। অল্প সময়ে ভয়াবহরূপে সারা দুনিয়ায় একটি ভাইরাস এমন ভাবে ছড়ায়, এটি আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কিছু নয়। দুনিয়াবাসী এ কথাটি বুঝতে পারছে সেটিই এখন বড় কথা। দুনিয়া পাপাচারে ভরে গেলে, আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলামকে নিয়ে সমগ্র দুনিয়া যেভাবে দমন বা বিকৃত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে, তাতে একে প্রতিরোধ করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমান অবস্থায় এমন পরীক্ষা বা শাস্তি আগমনের পথ সুগম হয়ে পড়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের জন্য বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে’ (সূরা আর রুম-৪১)।
অস্ত্রের জোরে নিরস্ত্র সত্য বা সভ্যতাকে দমন এবং প্রকৃত ধার্মিকদের কোণঠাসা করার জন্য যে ঔদ্ধত্য দেখান হচ্ছিল তাকে কিছুটা ‘খামোশ’ করা হলো বুঝি। আজ দাম্ভিক অপশক্তি কিছুটা স্তব্ধ হয়ে গেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন, এটা তো মানুষের জন্য উপদেশ বৈ কি!’ (সূরা মুদ্দাসসির-৩১)। এখন কথা হলো, দুনিয়াবাসী কতটা বুঝতে পারল বা গ্রহণ করল? সেটিই বড় কথা। বরং অনেকে হয়তো বিভ্রান্তও হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ... ‘এ দ্বারা আল্লাহ তায়ালা অনেককে বিপথগামী করেন, আবার অনেককে সঠিক পথও প্রদর্শন করেন, তিনি অনুরূপ উপমা দ্বারা অসৎ ব্যক্তি ছাড়া কাউকে বিপথগামী করেন না’ (সূরা বাকারা-২৬)। করোনোর ওষুধ আবিষ্কার ছাড়াই অনেকে সুস্থ হয়েছেন, কেউ কেউ মারাও গেছেন, এটা জীবনমৃত্যুর একমাত্র মালিক আল্লাহর ইচ্ছা।
কিন্তু ওষুধ আবিষ্কার হলেই হয়তো কেউ কেউ বাহাদুরি এবং দাম্ভিকতা প্রকাশ করে আবার বিপথগামী হতে থাকবে। ওষুধও কিন্তু আল্লাহর হুকুমেই কাজ করে। কারণ তিনিই ‘সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসক’। আর সরকার হিসেবে গল্প না করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া উচিত, এখন সেটার অনেক ঘাটতি দেখা যায়।
ইনশা আল্লাহ কিছু ক্ষয়ক্ষতির পর করোনাভাইরাসের বিশ্বজনীন প্রচণ্ড আঘাত একসময় বন্ধ হয়ে যাবে। রাসূল সা:-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, এভাবে এখনই আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীকে ধ্বংস করে দেবেন না। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলোÑ এ ভাইরাস থেকে বাঁচার বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি/সাবধানতার সাথে, শুধু ওলামায়ে কেরাম ছাড়া কেউ তওবা ও ইসতিগফারের কথা বলছেন না। স্বাস্থ্যবিধি মানার সাথে রহমতের মালিক আল্লাহকে বেশি ডাকা জরুরি। করোনার চাইতে সর্বশক্তিমান স্রষ্টাকেই বেশি ভয় করা সবার কর্তব্য। করোনার কারণে অনেক নসিহত এবং নবী সা:-এর ভবিষ্যদ্বাণী এখন বুঝতে সুবিধা হচ্ছে। যেমনÑ সারা দুনিয়া এক আওয়াজ শোনা, সব দাম্ভিক কথা বাদ দিয়ে এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর কথাই বারবার প্রচার এবং মানার জন্য দুনিয়াব্যাপী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। দুনিয়াব্যাপী এমন অনেক সত্য আওয়াজ এবং আহ্বান আসবে, আমরা প্রত্যেকে তা মানার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব করোনাভাইরাসে কম্পমান হলেও এরই মধ্যে জনগণের জন্য বিভ্রান্তিকর একটি ঘটনা ঘটানো হলো। যে ভাইরাসে লেখাপড়ার মারাত্মক ক্ষতি করে, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কোচিং, ধর্মীয় ও সামাজিক সভা, বিমান চলাচল, এমনকি মসজিদে নামাজ পর্যন্ত সংক্ষেপ করা, কোয়ারেন্টিন ভঙ্গ করায় জরিমানা ইত্যাদি যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, সেখানে নির্বাচন কমিশন বিনাদ্বিধায় তিনটি সংসদীয় উপ-নির্বাচন করল। ‘বিপজ্জনক করোনায়, নির্বাচন করো না’ এ কথাটি বলার বা শুনতে বাধ্য করার কেউ কি ছিল না? দুই সপ্তাহ পরই জানা যাবে এবার ভোটে এসে কেউ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না। নির্বাচনে কেউ আক্রান্ত হলে কি ইসি জরিমানা দেবে?
মূল নির্বাচনেই ভোটার আসেনি, উপনির্বাচনে আর কে আসবে? ঢাকা-১০ আসনে সরকারের সমর্থক মাত্র ১৫ হাজার। বাকিরা সরকারকে চায় নাÑএটা নিশ্চিত হওয়া গেল। একজন নির্বাচন কমিশনার বললেন, ভয়ে কেউ ভোট দিতে না আসলে না আসবে, এতে করার কিছু নেই। আবার ঢাকার বাইরে ইভিএম ছাড়া, ভোটারহীন ভোটকেন্দ্রগুলোতে ‘লাখ লাখ’ ভোটারই বা এলো কিভাবে? মিডিয়ার কল্যাণে সব দেখা গেল; জানা গেল। কিন্তু এত অনুভূতিহীন একটি ‘ইসি’ হয় কিভাবে? আসলে নির্বাচনের জন্য এখন ভোটারের প্রয়োজন নেই। দরকার ‘তারিখটি’ পার করা, করোনার ঝুঁকি নিয়ে ইসি তাই করল, তারিখ পার হলেই মনের মতো ‘বিজয়ী’ ঘোষণার সুবর্ণ সুযোগ পাওয়া যায়।
নিরাপত্তাবাহিনীকে ব্যবহার করে এমন অপকর্ম করা অন্যায়। জনগণ এসব বলে এখন বিরক্ত। তাদের কথার কোনো গুরুত্বই দেয়া হচ্ছে না, আবার সরকার যত দোষই করুক তা বলা যাবে না। তাতে তাদের রাগ হয়। অর্থাৎ, দোষ করা যাবে, কিন্তু বলা যাবে না। বিবেক এভাবে ধ্বংস হয়ে গেলে সেখানে আল্লাহর রহমত আসা দুরূহ হয়ে পড়ে। এমন তামাশার নির্বাচন জাতি কখনো চায় না।
আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশে এখনো করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেনি, কিন্তু মাস্ক, স্যানিটাইজার, গাউন, স্ক্যানার ইত্যাদি কেনার ধুম পড়ে গেছে। এক মন্ত্রী বললেন, ‘করোনার চাইতে আমরা শক্তিশালী’। তাহলে এমন মন্ত্রীকে করোনার সাথে লড়াই করতে একাই মাঠে নামানো দরকার। যাদের কথা এমন, দেশবাসীর জন্য তাদের প্রস্তুতি আসলে কী তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক, নার্স, নিরাপত্তাবাহিনীর জন্যই এ মুহূর্তের প্রয়োজনীয় নিরাপদ পোশাকের জোগাড় নেই বলে মিডিয়া খবর দিচ্ছে। সরকারের ওপর আশা না করে, নিজে নিজে প্রত্যেকে সাবধান থাকি, স্বাস্থ্যবিধি মানি এবং সদা সর্বদা তওবা-ইসতিগফার করি, একমাত্র আল্লাহ ভরসা। হ


আরো সংবাদ





justin tv maltepe evden eve nakliyat knight online indir hatay web tasarım ko cuce Friv buy Instagram likes www.catunited.com buy Instagram likes cheap Adiyaman tutunu