০১ জুন ২০২০

করোনাভাইরাস

-

পুরো বিশ্ব আজ করোনাভাইরাসের আতঙ্কে স্তব্ধ। এর ভয়াবহতার মুখে পড়ে মানুষ নিজ গৃহে বন্দী জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে। অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামে, কোলাহল ছেড়ে জঙ্গলে, কেউবা বাঙ্কারে বসতি গড়েছে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে চীনের উহান প্রদেশে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে, যার প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে বছরের শেষ দিনে। এর নামকরণ করা হয়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)।
ধারণা করা হচ্ছে, ভাইরাসটি প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। এর প্রাথমিক রূপ ছিল সার্স-করোনা, যা ৩৮৪ বার রূপান্তরিত হয়ে নভেল করোনা কোভিড-১৯ রূপে নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। মনুষ্যসভ্যতার আধুনিক বিকাশে চরম বিপর্যয় বয়ে আনা ছোঁয়াচে করোনাভাইরাস চীনের সাম্রাজ্য ভেদ করে শতাধিক রাষ্ট্রে ব্যাপক আঘাতের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চোখ খুলেছে। রোগটি ধরা পড়ার দুই মাস ১০ দিন পর বিগত ১১ ফেব্রুয়ারি তারা এর নামকরণ করে ‘কোভিড-১৯’ এবং এক মাস পরে ১১ মার্চ একে মহামারী হিসেবে ঘোষণা দেয়। স্বাস্থ্যসেবার মোড়ল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রমে এমন বেহাল অবস্থা হলে, বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম আর কেমনই বা হবে?
অতীতে অনেক ছোঁয়াচে রোগ পৃথিবীতে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। তবে কোভিড-১৯ অপেক্ষাকৃত ভয়ানক ছোঁয়াচে ও অতি দ্রুত মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, একজন মানুষ সংক্রমিত না হয়েও ভাইরাসটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে। এ আবার কেমন কথা? বোঝার জন্য বলছি, ধরুন বিদেশ ফেরত একজন আক্রান্ত মানুষের সাথে জনৈক হিমুর হ্যান্ডশেক হলো। তারপর হিমু আপনার সাথে হ্যান্ডশেক করলেন। অতঃপর আপনি নিজ হাত দিয়ে নাক, চোখ ও মুখ স্পর্শ করলেন; আর হিমু পরবর্তী সময়ে হাত ধুয়ে নিলো। তাতেই সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে গেল, আপনার দেহে কোভিড-১৯ অনুপ্রবেশ করল।
করোনাভাইরাসের অনেক প্রজাতি আছে, কিন্তু এর আগে ছয় প্রজাতির ভাইরাস মানব দেহে সংক্রমিত হতো বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল। ২০০২ সালে চীনে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া ‘সার্স’ নামক ভাইরাসটি এক ধরনের করোনাভাইরাস। এবারের নতুন ভাইরাসে মানুষ সংক্রমিত হওয়ার পর থেকে এর সংখ্যা দাঁড়াল সাত-এ। নতুন এই ভাইরাসের মূল নাম হলো কোভিড-২০১৯ (এনসিওভি) বা নভেল করোনাভাইরাস।
চীন বলছে, রোগটির বিস্তার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করেছে তাদের দেশে, আর মার্কিনিরা বলছে এটি চায়নাভাইরাস। তবে সন্দেহ থেকেই যায়, এটি কি প্রাণী থেকে সৃষ্ট, নাকি কোনো দেশের অপকর্মের ফসল? ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় যে, ১৪৯২ সালে কলম্বাস মার্কিন মুল্লুক থেকে স্পেনে যৌন ছোঁয়াচে রোগ সিফিলিস, ফ্রান্সের সম্রাট অষ্টম চার্লস ১৪৯৫ সালে ইতালি থেকে ‘রেনেসাঁ জীবাণু’ ফ্রান্সে, ভাস্কো দা গামা ১৪৯৭ সালে ভারতে নিয়ে আসে ভয়ানক সিফিলিস ব্যাধি। এ ছাড়া নীতিহীন মার্কিনিরা বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে কলেরা জীবাণুর মাধ্যমে জীবাণু যুদ্ধের বিস্তারের জন্য ব্যাপক গবেষণা করেছিল ঢাকার মহাখালীর সিয়াটো কলেরা ল্যাবরেটরিতে (বর্তমানে আইসিডিডিআরবি)। এই শতাব্দীর প্রথম দশক থেকে সার্স করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা চলছিল মার্কিন এবং চীনের উহানের গবেষণাগারে। জনশ্রুতি আছে, জীবাণুযুদ্ধে ভাইরাস ব্যবহার করে যুদ্ধজয়ের নেশায় এর উপযোগিতা দ্রুত পরীক্ষা করাই ছিল উভয়ের মূল লক্ষ্য। তাই এখনই বলা যাচ্ছে না, মূল সমস্যা কোথায়?
রেসপিরেটরি (শ্বাসযন্ত্রের) লক্ষণ বাদেও সাধারণত জ্বর ও শুকনো কাশির মাধ্যমে প্রথমে রোগটির উপসর্গ মানবদেহে দেখা দেয় এবং পরে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যার মাধ্যমে ফুসফুসে আক্রমণ করে এটি বিপদের চরম পরিণতির জানান দেয়। গবেষকদের ধারণা, ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড ২৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে তা ১৪ দিন।
বিপদের এমন দিনে আপনার কিংবা সরকারের করণীয়Ñ জাতিকে রাজনৈতিকভাবে কিংবা ধর্মীয়ভাবে বিভক্ত না করে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। হাজারো সমস্যা থাকার পরও পুরো জাতিকে কোয়ারেন্টিনের অধীনে নিয়ে আসার সংগ্রামে নামতে হবে, নিজেকে কোয়ারেন্টিনের আওতায় নিলে অপরজন উৎসাহিত হবেন। কোয়ারেন্টিন হলো, সুস্থ বা আপাত সুস্থ ব্যক্তিদের আলাদা হয়ে ১৪ দিন জীবনযাপন করা। এ অবস্থায় কারো মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে তাকে আইসোলেশনে নিয়ে যেতে হবে। আইসোলেশন মানে, কারো মধ্যে যখন জীবাণুর উপস্থিতি ধরা পড়বে বা ধরা না পড়লেও তার মধ্যে উপসর্গ থাকাতে, তাকে আলাদা করে চিকিৎসার পদ্ধতি। কোয়ারেন্টিন নিজ নিজ বাড়িতে কিংবা সরকারের নিয়ন্ত্রণে করা যায়। তবে নিয়ন্ত্রিত কোয়ারেন্টিন একটি দেশের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে, যা আমাদের মতো দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রথম দিকে সরকার ঢাকায় আশকোনার হজ ক্যাম্পে নিয়ন্ত্রিত কোয়ারেন্টিন করতে গিয়ে তা গণ-কোয়ারেন্টিন করে ফেলেছিল, যা আরো বেশি বিপদ ডেকে আনে। এ ক্ষেত্রে জাপানের উপকূলে থাকা ডায়মন্ড প্রিন্সেস নামে একটি প্রমোদ তরীর কথা বলা যায়। জাহাজটিতে সবাই শুরুতে আক্রান্ত না হলেও গণ-কোয়ারেন্টিনে রাখার কারণে পরে তরীর সবাই আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
কিভাবে নিজেকে করোনাভাইরাস থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করব? গণপরিবহন, কর্মক্ষেত্র, জনসমাগমস্থল, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও লিফট ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। করমর্দন ও কোলাকুলি পরিহার করে মুখে সালাম বিনিময় করতে হবে। পয়ঃনিষ্কাশনের পর এবং খাবারের আগে ও পরে সাবান বা অ্যালকোহল জাতীয় কিছু দিয়ে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, আঙুলের খাঁজ যেন পরিষ্কার থাকে। এরপর হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। হাত দিয়ে অহেতুক মুখমণ্ডল চুলকানো যাবে না। একান্ত প্রয়োজন হলে হাত পরিষ্কার করে তারপর চোখে, মুখে ও নাকে হাত দিতে হবে। মুখমণ্ডলে টিস্যু একবার ব্যবহার করে ফেলে দিতে হবে। অন্যের মুখনিঃসৃত জলীয় পদার্থ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সুষম খাবার খেতে হবে। ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে এবং ডিম পোচ করে না খেয়ে ভালোভাবে ভেজে খেতে হবে। যেখানে সেখানে হাঁচি-কাশি না দেয়া ও কফ-থুথু না ফেলা নিশ্চিত করুন। হাঁচি-কাশি যাদের তারা মাস্ক ব্যবহার করুন এবং হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু ব্যবহার করতে হবে। অসুস্থ হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং তাদের কাছ থেকে সুস্থ ব্যক্তিরা এক মিটার বা তিন ফুট দূরে থাকতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে আসার পর ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হবে। মাস্ক ব্যবহারকারীরা খেয়াল রাখবেন, তা খোলার সময় যেন মাস্কে হাত না লাগে এবং তা খুলতে হবে পেছন দিক থেকে।
অনেকের মতে, সুস্থ মানুষের মাস্ক ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। করোনাভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না, বরং তা হাঁচি-কাশি ও জীবাণুযুক্ত হাতের স্পর্শে বেশি ছড়ায়। তাই গণহারে রাস্তাঘাটে মাস্ক পরে চলাফেরার কোনো দরকার নেই। তবে মাস্ক তাদের পরা আবশ্যক, যারা মেডিক্যাল কর্মী কিংবা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত এবং এমন রোগীদের কাছাকাছি যদি কেউ থাকেন কিংবা ফ্লুর মতো কোনো লক্ষণ দেখা দেয়। মাস্ক একবার ব্যবহার করে ঢাকনাসহ ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে বলে জানা গেছে।
এখন পর্যন্ত (২১ মার্চ) ভাইরাসটি ১৮৫টি দেশের জনগণকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছে, যেখানে দুই লাখ ৯৯ হাজার জনের বেশি মানুষের দেহে জীবাণুর প্রবেশ ঘটিয়ে ৭৬টি দেশের প্রায় ১২ হাজার ব্যক্তির জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে। ঢাকার আইইডিসিআরের মতে, এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৪ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন মারা গেছে। ইতালি ফেরত এক নারীর বাবার মৃত্যু হয়েছে, সে নারী আবার বিদেশে চলেও গেছেন।
রোগটির উৎপত্তিস্থল চীন ভাইরাসটিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও গোটা ইউরোপ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ লেখা পর্যন্ত, চীনে ৮১ হাজার আটজন আক্রান্তের বিপরীতে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ২৪০ জন, অপর দিকে ইতালিতে ৪৭ হাজার ২১ জন আক্রান্তের বিপরীতে মৃতের সংখ্যা চার হাজার ৩২ জন, যার মধ্যে শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৬২৭ জন। বিশ্বের ৩৫টি দেশে এক দিনেই মারা গেছে এক হাজার ৩৬৫ জন, আক্রান্ত ৩০ হাজারের অধিক। ইতালি, স্পেন, পর্তুগালসহ পুরো ইউরোপ লকডাউনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ইরান বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি এবং মালয়েশিয়াতে বেশি আক্রান্ত।
অপর দিকে দেখা যাচ্ছে, রংপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, মানিকগঞ্জ, বরগুনা, গোপালগঞ্জ, ফেনীর ছাগলনাইয়া, চুয়াডাঙ্গা, মুন্সীগঞ্জ, ঝালকাঠি, মিরসরাই, রাঙ্গুনিয়া চট্টগ্রামের কাপ্তাই, সিরাজদিখান, পটুয়াখালী, গাইবান্ধা, বগুড়া, ফরিদপুর, জয়পুরহাট, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, নওগাঁ, কিশোরগঞ্জ, যশোর, টাঙ্গাইল, শ্রীমঙ্গল ও নেত্রকোনাসহ দেশের নানা জায়গায় বিদেশ ফেরত ও তাদের স্বজনদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হলেও তাদের অনেকেই নিয়ম মানছেন না। ফলে দেশে মহামারী দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেকে ধারণা করছেন, সরকার ‘মুজিবশতবর্ষ’ পালন করতে গিয়ে রোগটি নিয়ে যে গাফিলতি করেছে, তার খেসারত জনগণকেই দিতে হবে।
জাতিকে বাঁচানোর স্বার্থে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রেখে ধর্ম ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পুরো দেশকে লকডাউন করা। এ বিষয়ে মহানবী মুহাম্মদ সা:-এর নির্দেশনাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। তিনি বলেছেন, ‘যদি তোমরা শুনতে পাও, কোনো জনপদে প্লেগ বা অনুরূপ মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, তা হলে তোমরা সেখানে করবে না। আর যদি তোমরা যে জনপদে অবস্থান করছ তথায় এর প্রাদুর্ভাব ঘটে, তবে তোমরা সেখান থেকে বের হবে না’ (বুখারি, আস-সহিহ ৫/২১৬৩; মুসলিম, আস-সহিহ ৪/১৭৩৮, ১৭৩৯)।
শ্রেষ্ঠনবী মুহাম্মদ সা: প্রায় সাড়ে ১৪০০ বছর আগে সংক্রমণ (ছোঁয়াচে রোগ) প্রতিরোধে বিচ্ছিন্নকরণ (কোয়ারেন্টিন) ব্যবস্থা কিংবা লকডাউনের নির্দেশ দিয়ে গেছেন।
দেশের নীতিনির্ধারকদের একজনের কাছে ফোন করে অনুরোধ জানালাম, সরকারকে তিনি যেন পরামর্শ দেন পুরো দেশ লকডাউন করার জন্য। বিজ্ঞ নীতিনির্ধারক বললেন, সরকারের উপরি মহলে এ বিষয়ে এক ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের ভয়ে একটু সময় নেয়া হচ্ছে। এবার বললাম, এমন দিনে সমালোচকদের ভয় পেলে চলবে না। তবে, লকডাউনের কারণে দেশে অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে। অতিরিক্ত মজুদের নেশায় দোকানপাটে মানুষের জটলা হবে। এতে পণ্যের দাম স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে এবং ভাইরাসটি সংক্রমণের পথ পাবে। তা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিম গঠন করে বাজার মনিটরিং করতে হবে। জাতীয় মসজিদের খতিবসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ আলেমদের সম্মিলিত টিম গঠন করে ধর্মীয় বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, নির্দেশনাবিহীনভাবে করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা কোনো কাজেই আসেনি। তাই নির্দিষ্ট গাইড লাইনের মধ্য দিয়ে লকডাউন করতে হবে। মসজিদের আগে সিনেমা হল ও মার্কেটগুলো বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে এই সময়ে ব্যাংক সুদ, দোকান ও বাসাভাড়া মালিকদের পক্ষ থেকে মওকুফের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে নিয়োজিত প্রায় ৯০ হাজার ডাক্তার ও অসংখ্য নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক উপাদানগুলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় কিট বিদেশ থেকে আমদানিসহ গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে তৈরি করার পথ সুগম করে দিতে হবে।
আল্লাহ পাক কুরআনে ইরশাদ করেনÑ ‘আসলে তোমার প্রতিপালকের বাহিনী (কত প্রকৃতির বা কত রূপের কিংবা কত ধরনের) সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন’ (সূরা মুদাসসির, আয়াত-৩১)। তাই এই রোগকে আল্লাহর পাঠানো এক ‘বাহিনী’ হিসেবে মেনে নিতে হবে। কেননা আমরা তাঁর পথ থেকে সরে গিয়ে অনেকটাই গা ভাসিয়ে দিয়েছি মৌজ ও মাস্তিতে। এটি তাঁর পক্ষ থেকে এক প্রকার সাজা, যা মানবজাতির জন্য একটি সতর্কবার্তা। কুরআন ও হাদিসের ভাষ্যমতে, মহামারী পৃথিবীতে আল্লাহর একটি শাস্তি। নবী সা: ইরশাদ করেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। তা ছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা আগের লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস- ৪০১৯)।
এখনই সময় মুমিনরা তাদের ঈমানকে খাঁটি করার আর যারা তাঁর প্রতি নড়বড়ে বিশ্বাসী তাদের ফিরে আসার। সহিহ বুখারির ৫৭৩৪ নম্বর হাদিসের আলোকে (আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত) বলা যায়, আল্লাহ নাফরমানের জন্য শাস্তিস্বরূপ আর ঈমানদারের জন্য রহমতস্বরূপ প্লেগ পাঠিয়ে থাকেন। তবে এই রোগে বান্দা যদি ধৈর্য ধারণ করে আপন শহরে অবস্থান এবং বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তা ছাড়া আর কোনো বিপদ তার ওপর আসবে না, তাহলে তার মৃত্যু পাবে শাহাদাতের মর্যাদা।
খেয়াল করলে সহজে আমরা বুঝতে পারব যে, বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্ব আজ এই করোনা রোগ থেকে বাঁচার জন্য যা যা বলছে, এর সব কিছুই ইসলামের জীবন বিধানের নির্দেশনায় আছে। চীনাসহ বিশ্বের অনেক দেশ মুসলিম নারীদের হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, অথচ আজ তারা নিজেরাই মুখ ঢেকে চলতে বাধ্য।
এমন বিপদের সময় মহান রবের কাছে প্রার্থনা করতে হবে। তাই দোয়াগুলো পড়িÑ আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুযামি, ওয়া মিন সায়্যিইল আসক্বামÑ ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ধবল, কুষ্ঠ ও উন্মাদনাসহ সব ধরনের কঠিন দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে রক্ষা চাই’ (আবু দাউদ-১৫৫৪।) আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আমালি ওয়াল আহওয়ায়ি, ওয়াল আদওয়ায়ি (হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার কাছে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং অসুস্থতা ও নতুন সৃষ্ট রোগবালাই থেকে পানাহ চাই’ (তিরমিজি)। আল্লাহ, আমাদের সরল পথ দেখান।হ
লেখক: গবেষক ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ





justin tv maltepe evden eve nakliyat knight online indir hatay web tasarım ko cuce Friv buy Instagram likes www.catunited.com buy Instagram likes cheap Adiyaman tutunu