১৫ আগস্ট ২০২০

করোনা ও করণীয়

-
24tkt

প্যানিক, লকডাউন, শাটডাউন, হোম কোয়ারেন্টিন শব্দগুলো সার্বজনীন হয়ে ওঠেনি এখনো। সরকারের পক্ষ থেকে শব্দগুলোকে অনুবাদ করে জনগণকে সচেতন করা যায়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য আমাদের যারা রক্ত দিয়েছিল তারা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, আমলা, ডাক্তার, মাস্টার, আইনজীবী, বিচারক ছিলেন না, যারা রক্ত দিয়েছিলেন তারা ছিল সাধারণ মানুষ যেমনÑ সালাম, রফিক, জব্বার প্রমুখ। এই মহাবিপদের সময় এ দেশের ক’জন মানুষ ইংরেজি এই শব্দগুলোর অর্থ বোঝেন? দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি। এই ৮০ ভাগ মানুষ যে ভাষা সহজে বুঝতে পারবেন রাষ্ট্রকে সে ভাষা ব্যবহার করে সবাইকে করোনা প্রতিরোধে সচেতন করে তুলতে হবে।
করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকার জন্য বিশেষজ্ঞরা জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। সে জন্য যেসব স্থানে জনসমাগম ঘটে সেসব জায়গা থেকে দূরে থাকা নিরাপদ মনে করা হচ্ছে। জনসমাগমের উল্লেখযোগ্য স্থান হলো বাজার, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, বিমানস্টেশন, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ইত্যাদি। বাজার, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, নৌবন্দর ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা যায়, কিন্তু মসজিদ থেকে বিরত থাকাকে অনেকে সহজে মেনে নিতে পারছে না। তবে পবিত্র কাবা তাওয়াফ করা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, আল্লাহ সব কিছুর মালিক। তিনি এ ভাইরাস ছড়িয়ে দিলে কার সাধ্য আছে, তা প্রতিরোধ করতে পারে। কাজেই আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তওবা ইসতেগফার পড়ে ক্ষমা চাইতে হবে। জনসমাগম এর পাশাপাশি এড়িয়ে চলার দরকার আছে।
বলা হয়, ইসলাম শান্তির ধর্ম। সহজ সরল জীবনব্যবস্থা। মানবজাতির কল্যাণ হবে না, মানবজীবন ক্ষতিগ্রস্ত ও হুমকির মুখে পড়বে এমন কোনো বিধান এ ধর্মে পাওয়া যায় না। যখন সফর করেন, তখন মুসাফির ব্যক্তি নানাবিধ অসুবিধায় পড়তে পারেন। মুসাফিরের যেন কষ্ট না হয় সেজন্য ইসলামী বিধিবিধান তার জন্য সহজ করা হয়েছে। নামাজ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। মুসাফির রোজা পরে রাখলেও চলবে। মুসাফিরের জন্য জাকাতের অর্থ গ্রহণ করাও বৈধ। যদিও মুসাফিরের বাড়িতে অনেক ধনসম্পদ থাকে। নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে হজ ফরজ হয়ে যায়। কিন্তু অত সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও যদি শারীরিকভাবে অসুস্থ বা অক্ষম হন, তার জন্য হজ শিথিল করা হয়েছে। বলা হয়েছে, অজুর সময় পানি ব্যবহার করলে যদি মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে তবে তায়াম্মুম করে নামাজ আদায় করে নিতে হবে। হালাল খাদ্যের অভাবে যদি মৃত্যুর আশঙ্কা হয় তবে বাঁচার জন্য মৃত জন্তুর গোশতও খাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ যেখানে মৃত্যুর আশঙ্কা, সেখানে ইসলামের বিধান শিথিল রয়েছে। আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করার ব্যাপারে একটি হাদিস রয়েছে, এক ব্যক্তি রাসূল সা:-এর সামনে নিজের উটটি ছেড়ে দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং ফিরে এসে উটটি যেখানে রেখে যাচ্ছেন, তিনি সেখানেই পাবেন মনে করে আল্লাহর ওপর ভরসা করছিলেন। রাসূল সা: লোকটিকে ডেকে উট বেঁধে রেখে তারপর মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করতে বললেন। রাতের অন্ধকারে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ে যাতায়াতে অসুবিধা হলে এবং জীবন নাশের হুমকি থাকলে বাড়িতে নামাজ আদায় করা যায়। এ সমস্যাগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাময়িক হয়ে থাকে। সমস্যা কাটিয়ে উঠলে স্বাভাবিক নিয়ম প্রযোজ্য হবে। মহামারী সম্পর্কে রাসূল সা: বলেছেন, যখন কোনো স্থানে মহামারী দেখা দেয়, তখন সেখানকার লোকজন সেখানেই থাকবে এবং অন্য জায়গা থেকে কোনো লোক সেখানে আসবে না। সেখানকার লোকজন সেখানে থেকেই আক্রান্ত লোকদের সেবা করবে এবং মৃত্যু ভয়ে সেখান থেকে পলায়ন করবে না। মহামারীর স্থান মুসলমানদের জন্য যুদ্ধের ময়দান। এ ময়দানে মহামারীর কারণে কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে সে শহীদের মর্যাদা পাবে। অতএব, করোনা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে, ইসলামের বিধিবিধান সম্পর্কে ভুল না বুঝে ইসতেগফার পড়ে পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা জরুরি।
করোনার কারণে যে মহামারী তা অন্যান্য মহামারী থেকে আলাদা। যেমন খরা বা বন্যার কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ; কলেরা বা প্লেগ, বসন্ত কিংবা ঘূর্ণিঝড়, দাবানল, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি দুর্যোগ থেকে মুক্তির জন্য সমবেতভাবে নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে মুক্তি কামনা করা যায়। কিন্তু করোনা থেকে মুক্তির লাভের জন্য লোকসমাগম বাঞ্ছনীয় নয়। কারণ করোনা লোকসমাগমে সংক্রমিত হয়ে থাকে। সে জন্য জনসমাগম থেকে বিরত থেকে তা এড়িয়ে চলা উত্তম। করোনাও একটি সাময়িক দুর্যোগ। কিছু সময়ের জন্য জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে শরিয়াহ আইন শিথিল হয়ে থাকে। মানবজাতিকে সুস্থ রাখাও ঈমানি দায়িত্ব। নিজের রোগ যেন অন্য কারো কাছে না ছড়ায় সেটিও মুসলমানদের কর্তব্য। জানা দরকার, কাবা তাওয়াফ চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়নি। জামাতের নামাজ চিরদিন বন্ধ নয়, সাময়িক। এসব নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাই মিলে নিয়ম মেনে এই মহামারী থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ।হ
[email protected]


আরো সংবাদ