০৩ এপ্রিল ২০২০

স্মরণ : মোহাম্মদ আলী চৌধুরী

-

মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর জন্ম বগুড়ায় ১৯০৯ সালে। রাজনীতিবিদ এ ব্যক্তিত্ব ছিলেন জমিদার পরিবারের সন্তান। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করে রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৩৭ ও ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগের মনোনয়নে বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৪-১৯৪৫ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীনের মন্ত্রিসভার পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি ও ১৯৪৬-১৯৪৭ সালে পরবর্তী বঙ্গীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মন্ত্রিসভার অর্থ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। এ ছাড়া বগুড়া জেলা মুসলিম লীগের সভাপতি (১৯৩৭-১৯৪৭), বগুড়া জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বগুড়া স্কুল বোর্ডের সভাপতি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো ছিলেন। পাকিস্তান আন্দোলনে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৮ সালে মিয়ানমারে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত, ১৯৪৯-১৯৫২ সালে কানাডায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার এবং ১৯৫২-১৯৫৩ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ তাকে ১৯৫৩ সালের ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন।
১৯৫৪ সালের ২৯ মে মোহাম্মদ আলীর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা পূর্ব বাংলার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভাকে বাতিল ঘোষণা এবং ৯২(ক) জারি করে পূর্ব বাংলায় গভর্নরের শাসন প্রবর্তন করে। ১৯৫৪ সালের ২০ ডিসেম্বর তার পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আইনমন্ত্রী, আবু হোসেন সরকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং জেনারেল আইয়ুব খাঁ দেশরক্ষামন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৪ সালে তার আমলে পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া পাকিস্তান ‘সেন্টো’ ও ‘সিয়াটো’র সদস্য হন। ১৯৫৫ সালের ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি লাভ। এরপর প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ও পরে জাপানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত (১৯৫৫-১৯৫৯) হন।
১৯৬২ সালের ২৮ এপ্রিল আইয়ুব খানের প্রবর্তিত বুনিয়াদি গণতন্ত্রের প্রথায় বগুড়া থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত এবং পরিষদের নেতা (জুন ১৯৬২-জানুয়ারি ১৯৬৩)। একই বছরের ১৩ জুন (১৯৬২) আইয়ুব খাঁর মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হন। মৃত্যুকাল পর্যন্ত এই পদে তিনি কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন ‘বগুড়ার মোহাম্মদ আলী’ নামে পরিচিত। মৃত্যু ২৩.১.১৯৬৩। হ


আরো সংবাদ