২১ অক্টোবর ২০২০

ধর্ষণ ক্রসফায়ার ও নরবলির যুগ

অন্য দৃষ্টি
-

বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ ধারায় বলা হয়েছে, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ করার অধিকার রয়েছে। এমনকি যেকোনো বিদেশী যিনি এ দেশে সাময়িকভাবে বসবাস করছেন তারও আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না যাতে ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে। আইনের দৃষ্টিতে সবার সমান হওয়ার কথা বলা হয়েছে সংবিধানের ২৭ ধারায়। একজন বাংলাদেশী নাগরিক যত বড় অপরাধ করুন না কেন, তার বিরুদ্ধে ক্রসফায়ার কিংবা এনকাউন্টার ধরনের হত্যা আমাদের সংবিধানের লঙ্ঘন। আইনপ্রণেতারা সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে যখন কোনো আইন প্রণেতা ক্রসফায়ারের কথা বলেন, সেটা কোনোভাবে মানায় না। এমন কি, ধর্ষকদের বিরুদ্ধে বলা হলেও সেটা যুক্তিযুক্ত হতে পারে না।
বান্ধবী ধর্ষণ, স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রী ধর্ষণ, সন্তানদের উপস্থিতিতে মাকে ধর্ষণের পর এখন বাবা ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়ে মেয়েশিশুকে তুলে দিচ্ছেন ধর্ষকের হাতে। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সীমাহীন আগ্রাসন দেখে আইনপ্রণেতারা বিচলিত হয়ে পড়ছেন, এতে সন্দেহ নেই। তবে তাদেরকে বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে। মূল ব্যাপার হচ্ছে ধর্ষণসহ উচ্চহারে বেড়ে চলা সব অপরাধের বেশির ভাগ ঘটনাই বিচার হচ্ছে না। মাত্র একটি বা দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার দ্রুত বিচার ব্যতিক্রম হিসেবে সামনে আসছে। এ দেশে সামগ্রিক বিচারব্যবস্থার চিত্র হতাশাজনক। আমরা দেখলাম, ফেনীর নুসরাত হত্যার বিচার কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়েছে। তবে সে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। যে গতিতে নি¤œ আদালতে বিচার এগিয়েছে তাতে মনে হচ্ছে উচ্চ আদালতেও এর মীমংসা দ্রুতই হবে।
ফেনীর নুসরাত হত্যার দ্রুত বিচারকে দিয়ে আমরা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করতে পারব না। নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার প্রচেষ্টা দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করে সাহসের প্রতীক হয়েছেন। তাই তিনি জাতির আবেগ অনুভূতিকে কেড়ে নিতে পেরেছেন। সরকারও এ আবেগের মূল্য দিয়ে জনগণের কাছে ‘ভালো’ থাকতে চায়। আরো কয়েকটি ঘটনার মতো তাই এ বিচার দ্রুততার সাথে করার মাধ্যমে সরকার রাজনৈতিক কৃতিত্ব নিতে চায়। এ বিচারের মতো গুরুত্ব যদি অন্য সব অপরাধের মামলার ক্ষেত্রে দেয়া হতো এতদিনে বাংলাদেশ যেন স্বর্গরাজ্যে পরিণত হতো।
ফেনীর পাশের জেলা নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে উপর্যুপরি। ওইসব ঘটনার সাথে ক্ষমতাসীন দলের মানুষ জড়িত হওয়ার কথা প্রকাশ পেয়েছে। ওই জেলায় একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর আরেকটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ঘটেছে। এই ধরনের শত শত ঘটনা সারা দেশে ঘটে চলেছে। এতে জড়িত অনেক অপরাধী দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের কারো বিরুদ্ধে মামলা হলেও তারা প্রভাব খাটিয়ে জামিনে পার পেয়ে যাচ্ছে। অনেকে এমন অপরাধের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে দিচ্ছে। অনেক ঘটনা থানা পর্যন্ত গড়াতে পারে না। এভাবে অপরাধীদের অবৈধ শক্তি প্রকাশ্যে প্রদর্শিত হচ্ছে। শাস্তি না হওয়ায় ধর্ষণের দৌরাত্ম্য বাড়ছে।
ধর্ষণ তথা অপরাধের সংক্রমণ বাড়াতে যোগাযোগ প্রযুক্তিও সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। মানুষের হাতে হাতে মোবাইল পৌঁছে গেছে। হাতের কাছে ইন্টারনেটে পর্নো ছবির ছড়াছড়ি। রয়েছে মাদকের সহজলভ্যতা। ধর্ষণ উপযোগী একটি সমাজের আয়োজন আমরা করেছি। চোরের হাত কাটার আগে তার প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পেটের ক্ষুধায় চুরি করার কারণে কারো হাত আমরা কেটে দিতে পারি না। একইভাবে ধর্ষণের উপযোগী সব পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়ে বিচার ছাড়াই আমরা কাউকে খুন করার ‘যুক্তি’ তুলে ধরতে পারি না।
আগে প্রয়োজন উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি যেখানে ধর্ষণের প্রতি মানুষ সহজে প্রলুব্ধ হতে পারবে না। এরপর দরকার কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ প্রয়োগ। তাহলে ধর্ষণের প্রকোপ কমতে পারে। আইনের একজন অধ্যাপক এ প্রসঙ্গে এসিড সন্ত্রাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। একসময় এ দেশে গণহারে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটতো। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কিংবা সামান্য কোনো কারণে সুন্দরী নারীদের এসিডে ঝলসে দেয়া ছিল একটি সাধারণ ব্যাপার। তখন এসিড কেনাবেচার ওপর কড়াকড়ি আরোপ এবং এসিড নিক্ষেপের জন্য মৃত্যুদণ্ডের আইন একসাথে করা হয়েছিল। ওই আইন অনুসারে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড হওয়ার এসিড নিক্ষেপের ঘটনা কমে যায়। বাংলাদেশে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা মানুষের মন থেকে এখন প্রায় উধাও হয়ে গেছে বলা যায়। দণ্ডের কার্যকারিতা এবং এসিডের দুষ্প্রাপ্যতা এই অপরাধ দমনে কার্যকর হয়েছে।
ধর্ষণের অপসংস্কৃতি বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে গেছে। ক্ষমতার বিকৃতি থেকে ধর্ষণের উৎপাত বেড়েছে। অন্যায় ক্ষমতা অবৈধ যৌনাচারের সুযোগকে সহজ করেছে। ক্ষমতার জোরে এ অপরাধ করে সহজে পার পাওয়া যায়। এটা যখন স্পষ্ট করে সমাজে দেখা যাচ্ছে, এই সুযোগ তখন অন্যরাও গ্রহণ করছে। ধর্ষণকে নিয়ন্ত্রণ করতে তাই সবার আগে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার। সিদ্ধান্ত নিতে হবে লম্পটদের দলীয় কোটায় বিবেচনা করা হবে না। তাদের বিচার করা হবে অপরাধী হিসেবে। ওদের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ হবে স্বাভাবিক গতিতে। সরকার ও প্রশাসনের কেউ ধর্ষকদের পক্ষে নাক গলাবে না। তাহলে আইনের প্রয়োগ যথাযথ হবে। এ ক্ষেত্রে বিবেচনার মূল বিষয় হচ্ছে, শাস্তি। অপরাধের বিবেচনায় শাস্তি নগণ্য হলে অপরাধীরা তাকে পরোয়া করবে না। আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করবেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। তারা আইন প্রণেতাদের এ ব্যাপারে পরামর্শ দেবেন। তবে যৌন অপরাধের শাস্তি ইসলামে সুনির্দিষ্ট। এর সাথে আরো নিয়মকানুন স্পষ্ট করে বর্ণনা করা আছে। সেটা অনুসরণ করলে সমাজ কলুষমুক্ত হয়ে যায় সহজে।
আমাদের দেশে ধর্ষণের প্রকৃত চিত্র পাওয়া প্রায় অসম্ভব। সাধারণত ধর্ষণের শিকার হয়ে লোকলজ্জার ভয়ে ভিকটিম চুপ হয়ে যান। আরেকটি বড় অংশ আইনের আশ্রয় চেয়ে ক্ষমতাশালীদের দাপটে বিচার চাওয়া থেকে বিরত থাকে। থানাপুলিশ আইন আদালত ক্ষমতাশালীদের কব্জায় থাকে। নিরুপায় ভিকটিম অপমান লাঞ্ছনা নিয়ে সমাজে নিশ্চুপ হয়ে যেতে বাধ্য হয়। কখনো কেউ কেউ এ অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে ‘মুক্তির পথ’ খোঁজে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিডিয়ায় খবর প্রকাশের সুযোগ নিয়ে ধর্ষণের বিচার পাওয়ার সুযোগ হয়। তার মধ্যে আবার বেশির ভাগ ভিকটিমই বিচারের ধীরগতি এবং অর্থ খরচের সামর্থ্য না থাকার কারণে উপেক্ষিত থেকে যান।
গত এক বছরে শুধু ফেনীতেই ৩৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ওই জেলায় এ ছাড়া আরো যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে ২৬টি। জেলার বিভিন্ন থানায় রেকর্ড থেকে দৈনিক প্রথম আলো এ রিপোর্ট করেছে। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি নিয়ে কয়টি ঘটনা থানায় মামলা পর্যন্ত গড়ায়Ñ সেটা সবার জানা। বৈরী পরিবেশে ধর্ষণের একটি ঘটনায় যদি থানায় মামলা করা হয় তাহলে ধরতে হবে কমপক্ষে আরো ১০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ফেনীতে বিভিন্ন থানায় ধর্ষণ মামলার যে রেকর্ড পাওয়া গেছে ওই জেলায় নিশ্চয় প্রকৃত ধর্ষণের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। নুসরাত হত্যার ব্যাপারটি সে জেলায় গত বছর ব্যাপক আলোচিত ছিল। সেখানকার ধর্ষণ যৌন নির্যাতনের এ চিত্র সারা দেশে এমন ঘটনার বিস্তৃতি কেমন হতে পারে, তার ধারণা দেয়। ৬৪টি জেলায় গত বছরে অন্তত কয়েক হাজার ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। অন্যান্য ধরনের যৌন নির্যাতনের ঘটনা এর চেয়ে বহুগুণে বেশি হওয়ারই কথা।
নারী-পুরুষের মধ্যে আকর্ষণের প্রবণতা সাধারণ ব্যাপার। প্রাণিজগতে সবার মধ্যে একই প্রবণতা লক্ষণীয়। প্রাণিজগতে এর একটি শৃঙ্খলা রয়েছে। মানুষের সমাজে নারী-পুরুষের মেলামেশাকে সীমিত করা হয়েছে। ইচ্ছা হলেই দু’জন নারী-পুরুষ মিলিত হয়ে যেতে পারে না। তাদের নিয়মকানুন মানতে হয়। তবে মানুষ নিজেদের তৈরি করা নিয়মও মানতে চায় না। নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে তারা পশুদেরও হার মানাতে বসেছে। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ যৌন নির্যাতনের চিত্র এটাই বলে দেয়।
ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে অন্য ধরনের একটি ধর্ষণের খবর প্রকাশ পেল। মানুষের নৈতিক অধঃপতন কত বেশি হয়েছে এই ঘটনাটি তার জ্বলন্ত উদাহরণ। খবরে জানা গেল ঋণগ্রস্ত পিতা নিজের শিশুকন্যাকে উঠিয়ে দিলো ধর্ষকের হাতে। খবর অনুযায়ী, ওই বাবা ছয় হাজার টাকা পরিশোধ করতে পারছিল না। ওই ধর্ষক টাকার পরিবর্তে তার মেয়ের সাথে প্রেম করার সুযোগ চায়। মাত্র ছয় হাজার ধারের টাকার বিনিময়ে মেয়েকে বাবা ওর কাছে তুলে দেন। ১৩ বছরের মেয়েটিকে সে এক বছর ধরে ধর্ষণ করেছে। ছোট্ট মেয়েটি অবশেষে প্রতিবেশীর সহায়তায় ধর্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাবাকে আটক করে কারাগারে চালান দেয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি আমাদের একটি ভয়াবহ বার্তা দিলো। এক বাবা মাত্র ছয় হাজার টাকাকে মেয়ের সতীত্বের চেয়ে বেশি দামি মনে করছে। এ টাকা পরিশোধ ওই বাবার কাছে এতটাই পাহাড়সম মনে হলো। আমাদের অর্থনৈতিক দুরবস্থার মাত্রাটিও বোঝা গেল। কেউ দিন আনে দিন খায়। হয়তো সামান্য ধারের অর্থ পরিশোধের জন্য সতীত্ব বিক্রি করে দিচ্ছে। আর ভেঙে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক প্রথার নিরাপত্তা। মেয়েশিশু যদি বাবার কাছে নিরাপত্তা না পায় সে কোথায় আশ্রয় নেবে। জগতে বাবার চেয়ে আরো বেশি নিরাপত্তার জায়গা কি আছে, নারীদের জন্য?

নৃশংসতার নতুন রেকর্ড
পায়ুপথে বায়ু ঢুকিয়ে নৃশংসভাবে শিশু হত্যা করা হয়েছে। তার আগে ছোট শিশুকে গাছে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন করে হত্যার ঘটনাও দেখেছি। এবার দেখা গেল হত্যার পর লাশ বিকৃত করার পৈশাচিকতা। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে।
ঘটনার শিকার যুবক নাসির উদ্দিন সড়কের পাশে টং দোকান চালাতেন। তার বাবা পাশে একটি মার্কেটে নৈশপ্রহরীর কাজ করতেন। গত সপ্তাহে এক রাতে বাবার শরীর ভালো না থাকায় নাসিরকে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করতে বলে বাবা বাড়িতে বিশ্রাম নিতে যান। রাত শেষে ভোরে বাবা টং দোকানের কাছে এসে দেখতে পান, দোকান খোলা। এর ভেতর পিঠার পাতিল ও বেড়ার মধ্যে লেগে আছে রক্তের ছোপ। তার সন্তানের খোঁজ নেই। তবে পাশের সড়কের ওপর দেখতে পান মানব দেহের টুকরা। পিতার বুঝতে অসুবিধা হয়নি কী ঘটেছে। ওই টুকরোগুলো ছিল তার সন্তানের দেহের। মহাসড়কের দেড় কিলোমিটারজুড়ে দেহের ছড়ানো-ছিটানো টুকরো পাওয়া যায়। লোকজন মিলে টুকরোগুলো কুড়িয়ে জড়ো করেন। সবমিলিয়ে এর ওজন পাঁচ কেজির মতো হবে। বেশির ভাগ টুকরো দ্রুতগামী যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়েছে। একজন টং দোকানির ওপর মানুষের কতটা শত্রুতা থাকতে পারে। অর্থ সম্পদ কিংবা মান-সম্মান নিয়ে বড় ধরনের বিরোধে এই ধরনের ঘটনা ঘটার কথা নয়। কেন মানুষ এমন নৃশংস হয়ে উঠছে? মানুষের দেহ ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে কেউ কি পাশবিক আনন্দ পেতে চাইছে?
একদিন আগেও নাসির উদ্দিন একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ ছিল। বাবাকে পারিবারিক কাজে সহযোগিতা করছিল। নাসির হঠাৎ নরপশুদের বলি হয়ে গেলেন। একই ধরনের পৈশাচিকতা আবার ঘটবে না, তার নিশ্চয়তা কী? এরপর আরো একজন সুস্থ মানুষ এর শিকার হয়ে যেতে পারেন। নরবলিকে আমরা এ মুহূর্তেই ঠেকানোর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি কি? হ
[email protected]

 


আরো সংবাদ