০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪
ads
`

সরকারের ১৪ বছরের শাসনামলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে : ডা. শফিকুর রহমান

সরকারের ১৪ বছরের শাসনামলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে : ডা. শফিকুর রহমান। - ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকারের গত ১৪ বছরের শাসনামলে দ্রব্যমূল্যের অব্যাহত ঊর্ধ্বগতি এক ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। কোনো কোনো দ্রব্যের মূল্য চার থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। সরকার ওয়াদা করেছিল ১০ টাকা কেজি দরে চাল ও বিনামূল্যে সার সরবরাহ করবে। সেই চালের মূল্য বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। বিনামূল্যে সার তো দূরের কথা, সারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা জমিতে সার প্রদান করতে পারছে না। ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দেশে দ্রব্যমূল্যের অব্যাহত ঊর্ধ্বগতির ফলে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

জামায়াতের আমির বলেন, সরকার বলে আসছিল তারা দেশে ব্যাপক বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। কিন্তু বাস্তববতা হল আজ দেশে বিদ্যুতের ভয়াবহ সঙ্কট বিরাজ করছে। বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে কৃষি, শিল্প ও গার্মেন্টস খাতে ব্যাপক অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। লোডশেডিংয়ের ফলে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বেড়েছে, অন্যদিকে তেমনি উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। কুইক রেন্টাল পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাস পরবর্তী অর্থনীতি মোকাবেলায় সরকার কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী দেশে অতিরিক্ত প্রায় তিন কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে চলে গিয়েছে। দেশে কর্মোপযোগী জনশক্তির জন্য কর্মসংস্থানের কোনো পদক্ষেপই নিতে পারেনি সরকার। দুর্নীতি, অর্থপাচার ও নিজেরা আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত থাকা ও বাজার সিন্ডিকেটের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়ে তা জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, লবণ, মরিচ, চিনি, দুধ, পেঁয়াজ, রসুন, শাকসবজি, মাছ-গোশত থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক গতিতে বেড়েছে। সরকার পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, কৃষি উপকরণ ও ভোজ্য তেলের মূল্য দফায় দফায় বৃদ্ধি করে জনগণকে আরো ভোগান্তির মাঝে ফেলেছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা মনে করে এই সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার নয়। তাই জনগণের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নেই। সরকার ব্যস্ত বিরোধী দলকে দমন-পীড়নের কাজে। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি


আরো সংবাদ


premium cement