২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

সকল বাধা উপেক্ষা করে ১০ ডিসেম্বর সফল সমাবেশ হবে : রিজভী

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী - ছবি : নয়া দিগন্ত

সকল বাধা উপেক্ষা করে ১০ ডিসেম্বর সফল সমাবেশ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, যতই নিপীড়ণ-নির্যাতন চালানো হোক, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সর্বকালের নজীরবিহীন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সকল বাধা অতিক্রম করে এই গণসমাবেশে উপস্থিত হতে সংগ্রামী জনগণ আপোষহীন লক্ষ্যে স্থির।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আসামি করা হচ্ছে, গ্রেফতারের নামে দিনে-রাতে বাসায় পুলিশ হানা দিয়ে পরিবারের লোকজনদের সাথে অশালীনভাবে দুর্ব্যবহার করছে। এই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করতে বর্তমানে জনগণের বিপুল উত্থান দেখে অবৈধ সরকার দিশেহারা হয়ে প্রতিহিংসার আচরণ শুরু করেছে। বিরোধী দলের টুঁটি চেপে ধরার জন্য এরা রাষ্ট্রশক্তিতে নির্বিচারে ব্যবহার করছে।

তথ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশের দিন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কর্মীরা প্রস্তুত থাকবে। বিএনপি তো গণসমাবেশ করবে, আর গণসমাবেশে মানুষের উপস্থিতিটাই একটি রাজনৈতিক দলের বড় অর্জন। সুতরাং সমাবেশকে সফল করতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অপরিহার্য, সেটি রক্ষার জন্য একটি রাজনৈতিক দল সর্বাত্মক উদ্যোগ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এখানে তো সংঘাতের কোনো প্রশ্নই আসে না। মন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর মনের ইচ্ছার হুবহু প্রতিধ্বনি। তবে আওয়ামী সরকার তার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হবে।

রিজভী বলেন, জনগণের বিশাল শক্তির কাছে চক্রান্তের কোনো আস্ফালন টিকতে পারবে না। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী বিভিন্ন বিভাগীয় সদরে বিএনপির গণসমাবেশে নানা ধরনের নারকীয় আক্রমণ সত্ত্বেও জনগণের অপ্রতিরোধ্য গতিকে আটকাতে পারেনি। তারা বহু কষ্ট করে দুই-তিন দিন আগেই সমাবেশস্থলে হাজির হয়েছে। আওয়ামী সরকার সন্ত্রাসবাদের অন্ধগলিতে নিজেদের রাস্তা হারিয়ে ফেলেছে। কারণ এরা সুশাসন ও গণতন্ত্রকে সমাধিস্থ করেছে। তবে জনগণ বর্তমান আওয়ামী সরকারের পতনে উদ্দীপ্ত বদ্ধপরিকর। সরকার জনগণের রাজপথের উপস্থিতিকে থামাতে পারবে না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রকামী বিএনপির নেতাকর্মীরা শান্তিকামী কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে তারা অবিচল। রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগ করেও তাদের কণ্ঠের উচ্চারণকে থামানো যাবে না।

দেশব্যাপী বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, পিরোজপুর জেলাধীন নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক রাসেল সিকদারসহ মোট তিনজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কুমিল্লা বিভাগীয় গণ সমাবেশের জন্য টঙ্গীর একটি ফ্যাক্টরিতে ৫০০০ গেঞ্জি প্রস্তুত করে নিয়ে যাওয়ার পথে টঙ্গীর মুরাদনগরে বিএনপি নেতা জামাল হোসেনসহ ৪-৫ জন বিএনপি কর্মী এবং গেঞ্জির পিকআপভ্যান আটক করে উত্তরা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ঢাকা মহানগর উত্তর; ভাটারা থানার ৪০নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে-বাড়িতে তল্লাশির নামে ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে পুলিশ। এ সময় নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা-এম এ রশিদ, ডিপুটি মেয়র আনোয়ার হোসেন, আশরাফ আলী ভুলু, আসলাম, রিপন, সিদ্দীক মেম্বার ও দীপক ভূইয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করে। এই মামলায় আরো আসামি করা হয় ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকসহ ১০৯ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে।


আরো সংবাদ


premium cement