০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

আওয়ামী লীগ আমাদের ওপরে গুপ্ত হামলা করেছে : টুকু

বক্তব্য রাখছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। - ছবি : নয়া দিগন্ত

আওয়ামী নেতা কর্মীদের হামলার নিন্দা জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘আজকে যে ঝড়-ঝাপটা গেছে, অলি-গলি থেকে আওয়ামী লীগ আমাদের ওপরে গুপ্ত হামলা করেছিল। পুলিশ যদি আমাদের জনগণের কষ্টার্জিত টাকায় বেতনভুক্ত না হয়ে ওদের দলীয় কর্মী হতো তাহলে আমরা এখানে সভা করতে পারতাম না। এজন্য আমি পুলিশ ভাইদের ধন্যবাদ দেই।’

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর হাজারীবাগে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ধানমন্ডি জোন-৪-এর উদ্যোগে বিকেলে জ্বালানি তেল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপির কর্মসূচি হামলা ও নেতা-কর্মী হত্যার প্রতিবাদে এই সমাবেশ হয়। ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ করে সমাবেশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসার পথে বিভিন্ন মোড়ে আওয়ামী লীগের কর্মীদের সাথে বিএনপির সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ সময়ে গণমাধ্যমের কয়েকজন কর্মীও আহত হয়।

সমাবেশ উপলক্ষে হাজারীবাগে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পুলিশের প্রশংসা করে সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমি তাদেরকে চিনি। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের রাতে রাজারবাগে পুলিশ লাইনে আক্রমণ করেছিল, সেদিন পুলিশরা তা প্রতিহত করেছিল। সেদিন সৌভাগ্যক্রমে আমি তাদের সাথে ছিলাম। আমি দেখেছি তার পরের দিন কত হাজার হাজার পুলিশের লাশ নিয়ে পাকিস্তানি সেনা কোথায় গায়েব করে দিয়েছিল। মানুষ জানে না। সেই পুলিশ ভাইয়েরা যে গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছিলেন, আপনারা তার উত্তরসুরী। আপনারা গণতন্ত্রের জন্য রুখে দাঁড়াবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সময় এসে গেছে আপনারা জনগণের কাতারে ফিরে আসুন, জনগণকে সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দিন।’

টুকু বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই। আজকে আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনসভা করছি না, আমরা এই জনসভা করছি, আন্দোলন করছি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম…, আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন, পরে আবার দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আজকে সেই গণতন্ত্র তারা লুট করে নিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলন কেন করি? মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তদের জীবন চলছে না, তাদের জীবনধারণ কষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে প্রত্যেকটি জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। তেলের দাম বেড়েছে, চালের দাম বেড়েছে, ডালের দাম বেড়েছে, লবণের দাম বেড়েছে। কোনটা বাড়ে নাই?’

‘তারপরেও রান্না করে খাবো সেই গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। জ্বালানি তেল নাই, গ্যাসও নাই। নাই বিদ্যুৎও। এই করে বাংলাদেশকে একটা শশ্মানে রূপান্তরিত করেছে,’ বলেন তিনি।

এর থেকে উত্তরণে সরকারের পতন ঘটানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, যদি আগামীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আর তাতে বিএনপি যদি ভোটে বিজয় লাভ করে তাহলে উনি একা সরকার গঠন করবেন না। বাংলাদেশের সবাইকে নিয়ে একটা জাতীয় সরকার গঠন করে আপনাদের সমস্যা সমাধান করবেন।’

মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, আবদুল খায়ের ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মীর সরাফত আলী সপু, শেখ রবিউল আলম রবি, মহানগর দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু প্রমুখ।

সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ
সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘সাংবাদিক ভাইরা গতকাল রাত থেকে কোথায় সমাবেশ হবে তা নিয়ে আমাদের কাছে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রেখেছেন। আজকে এখানে একটা ছোট্ট ঘটনা ঘটেছে, আমি সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আপনাদের কাছে এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।’


আরো সংবাদ


premium cement