০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

দেশ রক্ষার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

নয়াপল্টনে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। - ছবি : নয়া দিগন্ত

দেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ দেশকে রক্ষা করার জন্য বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর কথা বলছি না, ক্ষমতায় বসানোর কথা বলছি বাংলাদেশের মানুষকে। কারণ ক্ষমতার মালিক হচ্ছে জনগণ। তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে চাই। মানুষের জীবনের অধিকার চাই, নিরাপত্তা চাই।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় গুলি করবেন? কথায় কথায় আগুন জ্বালিয়ে দিবেন, এটা এদেশের মানুষ আর সহ্য করবে না।’

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মুন্সীগঞ্জে পুলিশ বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত যুবদল নেতা শহীদুল ইসলাম শাওন হত্যার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী যুবদল এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আসুন সমস্ত রাজনৈতিক দল ও মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলন করে তুলি। দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকারকে পরাজিত করে তাদেরকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করি।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, পরিষ্কার কথা- এখনো সময় আছে পদত্যাগ করুন। সংসদ বিলুপ্ত করুন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন এবং তাদের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের পার্লামেন্ট গঠন করতে হবে।

সরকারদলীয় নানা অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রক্ত ঝরিয়ে, ভয় দেখিয়ে, খুন করে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে চায়। মুন্সিগঞ্জের শুধু শাওনকে হত্যা করে ক্ষ্যান্ত হয়নি, এরপর তারা বিএনপি নেতার কারখানা জ্বালিয়ে দিয়েছে। বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছি। মুন্সিগঞ্জে একটি ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছে। এভাবে সারা দেশে একটি ত্রাসের সৃষ্টি করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ছয় শতের অধিক মানুষকে গুম করেছে। সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। ৩৫ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। তারা জাতিসঙ্ঘে গিয়ে বলে- যুদ্ধ চাই না, নিষেধাজ্ঞা চাই না।’
‘শাওনের মৃত্যুতে, আব্দুর রহিম ও নূর আলমের মৃত্যুতে মানুষের যে দাবি শুরু হয়েছে, যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, যে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে, সে অভ্যুত্থানকে কখনো বন্ধ করা সম্ভব হবে না,’ বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে শাওনের বাবার কণ্ঠে আমরা আহাজারি শুনিনি, তার চোখে অশ্রু দেখিনি। তার চোখে আগুন দেখেছি। বজ্রকণ্ঠে তিনি বলেছেন- আমি আপস করবো না। তাকে ভয় দেখানো হচ্ছে যে তুমি বলো- ‘পিছন থেকে ইটের আঘাতে সে (শাওন) মারা গেছে। তুমি বলো তাকে বিএনপি’র লোকেরাই মেরেছে।’ কিন্তু শাওনের যে ডেথ সার্টিফিকেট তাতে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে মেসিভ ব্রেইন ইনজুরি ডিউ টু গান শট। বন্দুকের গুলিতেই তার মৃত্যু হয়েছে। তাই আর মিথ্যাচার করবেন না। মিথ্যাচার করে জনগণকে বোকা বানিয়ে রেখেছেন।’

এ বিক্ষোভ সমাবেশে নিহত যুবদল নেতা শাওনের বাবা এবং ছোট ভাই উপস্থিত ছিলেন।

যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সঞ্চালনা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপি নেতা মীর সরাফত আলী সপু, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, কামরুজ্জামান রতন, নাজিমুদ্দিন আলম, রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।


আরো সংবাদ


premium cement