০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

রাবিতে আসন কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান শিবিরের


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ১৫ বিভাগে মোট ১৬৮টি আসন কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল রাজিবুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি রাগীব শাহরিয়ার ও সেক্রেটারী তাসনিম আলম এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ছাত্রসমাজ আশা করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু উল্টো ১৬৮টি আসন কমিয়ে দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। বলা হয়েছে, গবেষণা ও শিক্ষার মান সুষ্ঠভাবে ধরে রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যা বাস্তবতার বিপরীত।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গবেষণার জন্য আসন কমানো নয় বরং প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষক, পর্যাপ্ত বাজেট, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের গবেষণা উপযোগী মানসিক সক্ষমতা ও নিরাপদ ক্যাম্পাস। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাবিতে দুর্নীতির মহামারি চলছে। দু’বছর আগে প্রো-ভিসি শিক্ষক পদপ্রার্থীর কাছে ঘুষ দাবির ফোনালাপ ফাঁস হয়েছিল। রাবি’র প্রাক্তন ভিসি নিজের মেয়ে ও জামাতাকে নিয়োগ দিতে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালাই পরিবর্তন করেছিল। রাজনৈতিক বিবেচনায় ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল ৩৪ জন শিক্ষককে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্য ছিল না। যারা গবেষক তৈরি করবে সেই শিক্ষকদের মান নিয়ে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চিন্তিত নয় সেখানে তারা গবেষণার মান কিভাবে বৃদ্ধি করবে? তাছাড়া রাবি বাজেটের গবেষণা খাতে বরাদ্ধ কম রাখা হয়। যা থাকে তাও ফুলের বাগান, দেয়ালে চুন লাগানো কাজের মতো লোক দেখানো কাজে ব্যয় দেখানো হয়। সুতরাং গবেষণার মানোন্নয়নের জন্য আসন কমানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ জালিয়াতি ছাড়া কিছু নয়।

অন্যদিকে শিক্ষার মান সুষ্ঠু রাখতে প্রয়োজন শিক্ষার সার্বিক সুষ্ঠু পরিবেশ। কিন্তু সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের সন্ত্রাস, সিট বাণিজ্য, ভর্তি বানিজ্য, হামলা, অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, মাদকের থাবাসহ বিভিন্ন কারণে রাবিতে শিক্ষার পরিবেশ বহু আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের খবর জাতিকে লজ্জিত করে। এ অবস্থায় মূল সমস্যাগুলো বহাল রেখে আসন সংখ্যা কমানো কোনোভাবেই যুক্তি সঙ্গত হতে পারে না। মূলত নিজেদের দায়িত্বহীনতা, অদক্ষতা, অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতি আড়াল করতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ছাত্রসমাজ এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্যর্থতা ও দুর্নীতি আড়ালের এ দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত দেশবাসী মানে না। অবিলম্বে আসন কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। স্বচ্ছতা ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ সুষ্ঠু করতে হবে। আমরা আশাকরি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আসন কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিবেন।


আরো সংবাদ


premium cement