২২ মে ২০২২
`

নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপ করার আহ্বান হারুনের

নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপ করার আহ্বান হারুনের - ছবি : সংগৃহীত

সব দলের অংশগ্রহণে `নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু' জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপ শুরুর অনুরোধ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ। বৃহস্পতিবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন বিকল্প নেই মন্তব্য করে হারুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলব আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে আপনাকে আলোচনার টেবিলের দ্বার উন্মুক্ত করতে হবে। আপনি আলোচনা শুরু করেন। নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণে কীভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করা যায়। নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এর কোন বিকল্প নেই। এ ছাড়া কোন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। এ ছাড়া আমাদের জন্য একটি বিপদ আসন্ন।

বিএনপি দলীয় সাংসদ হারুনুর রশীদ বলেন, জাতীয় সংসদে কোন কার্যকর বিরোধী দল নাই। বিরোধী দল বলছে আমরা কাগজে-কলমে। এটা আমার নয়, বিরোধী দলীয় সাংসদের কথা।

হারুন বলেন, করোনার এই দুই বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোন পরিকল্পনা নাই। শিক্ষাব্যবস্থা চলছে অটোপাশ এবং অটো ভর্তি দিয়ে।

হারুন বলেন, স্বাস্থ্য হচ্ছে সকল সুখের মূল। এই দুই বছরে আমাদের স্বাস্থ্যের বেহাল দশা দেখিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয় একটা বড় আকারে দুর্নীতির ডিপো। এখানে নিয়োগ, ভর্তি, কেনাকাটা সবই অনিয়ম ও দুর্বৃত্তায়নের মহা আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এই সময় তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজানোর দাবি করেন।

বিএনপির এই সাংসদ বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে সবধরণের নিয়োগ, ভর্তি পরীক্ষা ও প্রশ্নফাঁস হয়ে গেছে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এটি জাতি ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট। যখন ঘটনা প্রকাশ হয় তখন বলা হয় বিষয়টি গুজব, না হয় বলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। এই অপরাধের পড়েও রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় আনা হয়নি।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধা তলিকায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও পুলিশ ভেরিফিকশনের নামে নিয়োগে অযোগ্য করা হচ্ছে বলে দাবি করেন হারুন। বলেন, এটা করা হচ্ছে তারা ভিন্নমতাবলম্বী দাবি করে। এটা একটা সংকট তৈরি হচ্ছে। বিএনপি বা অন্য দলের কেউ মেধা তালিকায় থাকার পরেও হাজার হাজার ব্যক্তিদের বাদ দেয়া হয়েছে।

হারুন বলেন, আন্তর্জাতিক মহল থেকে আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসছে। কারণ বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নিত্যনৈমিত্তিক। এটা অস্বীকার করার পথ নেয়। তারা বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের নামে গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করে একটা নিপীড়নের বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরীহ মানুষদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তাজমেরি ইসলামের নামে পুলিশে ঢিল মারা ও গাড়ি পোড়ানোর মামলায় জেলাখানায় পাঠিয়ে দিল। ক্ষমতাসীনদের জন্য আইনের প্রয়োগ একরকম, আর বিরোধী দলের জন্য আরেক রকম।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী লবিস্ট নিয়োগ নিয়ে অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন হারুন। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী স্বীকার করেছেন এটি বেআইনি কিছু নয়। বাংলাদেশে যারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। গুমের শিকার হচ্ছে। নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করছে। যখন আমি বিচার পাচ্ছি না, তখন আমি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বিচারের দাবি জানাতেই পারি। এ জন্য বাংলাদেশের কোন নাগরিক যদি লবিস্ট নিয়োগ করে, সেটাকে সমর্থন জানাব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন নাই, আওয়ামী লীগে কোন কোন সময় লবিস্ট নিয়োগ করেছে।

হারুন বলেন, বর্তমানে নেতৃত্বের গুণাবলি দোষারোপের রাজনীতি আর চাটুকারিতা। সব সময় বিএনপিকে আগুন সন্ত্রাস বলা হয়। ১৯৯৫-৯৬ ও ২০০৫-০৬ সালে অগ্নিসংযোগ ও রেললাইন উৎপাটন আমরা দেখেছি। আন্দোলন সংগ্রামে এটা হয়ই, এটা স্বাভাবিক।

বর্তমানে সংসদে থাকা সবগুলো দলই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য আন্দোলন করেছে দাবি করে হারুন বলেন, এই সংসদে যারা আছেন সব কয়টা দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছে। বিএনপি করেছে, আওয়ামী লীগ করেছে। জাতীয় পার্টিও এক সময় করেছে। সকলেই আমরা আন্দোলন করেছি। আজকে আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবির কেন প্রতিবাদ করছেন? কারণ একটি-যদি রাতের আঁধারে ভোট করে ক্ষমতায় থাকা যায়! যদি বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকা যায়। নির্বাচন আপনাকে অবশ্যই করতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার আজকে হারিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার সিইসি কে এম নূরুল হুদার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সিইসি বলছেন তিনি রাতের ভোট দেখেন নি। একটি অপদার্থ ও মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন। একে নিয়ে কী বলব? ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের আনুগত্যশীলদের দিয়ে ইসি গঠন হয়েছে বলেই তাদের স্বার্থ পরিপন্থী কোন কথা ইসি বলে না। ভোট হচ্ছে না। ভোট চুরি হচ্ছে তারপরও বলছে ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে সরকার সব বন্ধ করে দিয়ে উন্নয়নের কথা বলছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পরিসংখ্যান বলছে সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ১৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই সময় মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি টাকা, এখন ঋণের বোঝা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা, আগামী ২৫ সালে ৪০ কোটি টাকায় উত্তীর্ণ হবে।

মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে আমরা ঋণনির্ভর হচ্ছি এবং দেশকে ভয়ানক ঝুঁকিতে ফেলছি। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেছে গত ৫ বছরে প্রায় ৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিয়েছে। এই সমস্ত মেগা প্রকল্প নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। এখানে লুটপাট হচ্ছে।


আরো সংবাদ


premium cement