১৬ জানুয়ারি ২০২২, ০২ মাঘ ১৪২৮, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`
মানববন্ধনে সরকারকে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ

‘খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়ে মানবতার পরিচয় দিন’


সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে তাকে মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়ে মানবতার পরিচয় দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র এবং ব্যক্তি প্রতিহিংসার শিকার। প্রতিহিংসার কারণেই তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আইন মানুষের জন্য। আইনের জন্য মানুষ নয়। অথচ আইনের দোহাই দিয়ে খালেদা জিয়াকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচীতে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার্থে বিদেশ পাঠানোর দাবিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এ কর্মসূচী আয়োজন করে।

বিএফইউজে সভাপতি এম আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক মো: শহীদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিএফইউজে কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত, বাছির জামাল প্রমুখ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের দফতর সম্পাদক তোফায়েল হোসেন, নির্বাহী সদস্য এ কে এম মহসীন ও আব্দুস সেলিম, ডিইউজে’র যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান সাজু, প্রচার সম্পাদক খন্দকার আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার, দফতর সম্পাদক ডি এম আমিরুল ইসলাম অমর, নির্বাহী সদস্য দেওয়ান মাকসুদা প্রমুখ।

স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকতা পেশার মানোন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে শওকত মাহমুদ বলেন তাকে মিথ্যে মামলায় সাজা দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। একজন অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসার কারণে তিনি আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

তিনি খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠাতে স্বপ্রণোদিত উদ্যোগ নিতে বিচার বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরো বলেন, এ দেশে অনেক মন্ত্রী-এমপি দণ্ডিত হয়েও মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াবার সুযোগ পাচ্ছেন। অথচ খালেদা জিয়াকে তার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। শওকত মাহমুদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, চিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়ার কিছু হলে তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। আগামীতে হয়তো আওয়ামী লীগের নেতাদের বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হবে না।

বিএফইউজে সভাপতি এম আবদুল্লাহ বলেন, রোববার রাতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের ব্রিফিংয়ে যেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে- তা শুনে গোটা দেশবাসী উদ্বিগ্ন। তিনি খালেদা জিয়ার পক্ষে সাংবাদিকদের কর্মসূচীর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, খালেদা জিয়া হচ্ছেন গণতন্ত্রের প্রতীক। গণতন্ত্র না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানুষের বাক স্বাধীনতা থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, গঠনতান্ত্রিকভাবেই সাংবাদিক ইউনিয়ন গণতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করবে। সাংবাদিকরা মানবতার পক্ষে সব সময় কাজ করবে। বিএনপি মহাসচিবের অভিযোগের উদ্ধৃতি দিয়ে এম আবদুল্লাহ আরো বলেন, খালেদা জিয়ার কিডনী ও লিভারের সমস্যার কথা আগে কখনও শোনা যায়নি। তার বর্তমান সমস্যা স্লো-পয়জেনিং সন্দেহকে ঘণীভূত করেছে।

বিএফইউজে মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের শর্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে বলেন, অনতিবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া না হলে দেশের জনগণের সাথে সাংবাদিকরাও রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে।

তিনি বলেন, মানবতা বিপর্যয় হলে আইন কার্যকর রাখা যায় না।

ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আইন মানুষের জন্য। মানুষের জীবন ধ্বংসের জন্য কোনো আইন হতে পারে না।

তিনি অনতিবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার্থে বিদেশে পাঠাবার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, রাজনীতির ময়দান থেকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই খালেদা জিয়াকে কৌশলে হত্যার অপচেষ্টা চলছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসান হাফিজ বর্তমান সময়কে ‘প্রতিবন্ধী গণতান্ত্রিক অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা উল্টো প্রতিদিন কটূক্তি করছেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি খালেদা জিয়াকে ‘জননন্দিত ও আপোষহীন নেত্রী’ উল্লেখ করে আরো বলেন, তিনি দীর্ঘজীবন গণতান্ত্রিক মুক্তি, মানবাধিকার ও মানুষের পক্ষে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক মো: শহীদুল ইসলাম বলেন, সব মহল থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সূচীকিৎসার দাবি করা হলেও সরকার তা কর্ণপাত করছে না। মানবাধিকার কতটা লঙ্ঘিত হলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা সহজেই অনুমেয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি


আরো সংবাদ


premium cement