৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

‘কয়েকজন মন্ত্রী অলিখিতভাবে জিয়া পরিবার ও বিএনপি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন’

বক্তব্য রাখছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। - ছবি : নয়া দিগন্ত

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, এই সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী অলিখিতভাবে জিয়া পরিবার ও বিএনপি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। এ সময় তিনি বলেন, সরকার গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের দাম ইচ্ছেমতো বাড়াচ্ছে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দ্রব্যমূল্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সার, বীজ, কিটনাশক, ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

আলাল বলেন, ‘এই সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী আছে যাদের কোনো কাজ নেই। তারা কয়েকজন অলিখিতভাবে জিয়া পরিবার ও বিএনপি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। তারা সকাল বেলা বেগম খালেদা জিয়ার খাতা খোলেন, দুপুর বেলা জিয়াউর রহমানের খাতা খোলেন, বিকেল বেলা তারেক রহমানের খাতা খোলেন। আবার সন্ধ্যার পর বিএনপির অন্য নেতাদের খাতা খোলেন। তার মানে আমাদের যা প্রচার দরকার তারাই করে দিচ্ছে। মিডিয়া কি করলো না করলো তার অপেক্ষায় থাকতে হয় না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চেয়ে হাসান মাহমুদের অফিসে বিএনপির আলোচনা বেশি হয়। বিএনপির জেলা শাখা কার্যালয়ের চেয়ে আরো বেশি আলোচনা হয় হানিফ সাহেবের অফিসে। আর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় ওবায়দুল কাদেরের অফিসে।’

আলাল বলেন, ‘আজকে সরকার গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের দাম যখন যা মন চাচ্ছে বাড়াচ্ছে। অপরদিকে দেশের বেকার যুবকরা কাজ পাচ্ছে না। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, “এই বছরও ধান, চাল সংরক্ষণের যেই লক্ষ্যমাত্রা সরকারের ছিল তা তারা অর্জন করতে পারেনি। কারণ আওয়ামী লীগের কিছু দলীয় প্রশাসন ব্রোকার হাউজ হিসেবে কাজ করে। এটা আওয়ামী লীগের প্রশাসনিক শাখা। প্রশাসনের সবাই না। প্রশাসনের একটা অংশ আছে ‘প্রশাসন লীগ’।”

‘তাদের কাজ হচ্ছে তারা কৃষকের কাছ থেকে ধান, চাল ক্রয় করে না। তারা ক্রয় করে অটো রাইস মিলের মালিকদের কাছ থেকে। সেখানে প্রতি কেজিতে আওয়ামী লীগকে চার টাকা থেকে পাঁচ টাকা কমিশন দিতে হয়। এটা আমার কথা না। পত্রিকায় এসেছে। সেই কমিশন দেয়ার ভয়ে ও মার খাওয়ার ভয়ে কৃষকরা সরকারি লোকের কাছে যায় না। ডিলারদের কাছে গিয়ে তাদের পণ্য বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। অত্যাচারটা এভাবে হচ্ছে।’

আলাল বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথম সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশে প্রথম কৃষকদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিয়েছেন তিনি। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকসহ তৎকালীন শিল্প ব্যাংকে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। খড়া, বর্ষা ও বন্যার সময় কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফসহ সুদও মওকুফের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘৯১-৯৬-এর সময় সার আমদানির ক্ষেত্রে সামান্যতম শিথিলতা এসেছিল। এজন্য বিএনপির তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী ওয়াজে উদ্দিন সাহেব পদত্যাগ করেছিলেন। বিএনপির জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার সেই ইতিহাস আছে। জনগণের কাছে কৈফিয়ত দেয়ার তাগিদ আছে। আওয়ামী লীগের কাছে সেটা নেই। সে কারণেই আজকে কৃষকের টাকা বিদেশে, শ্রমিকের টাকা বিদেশে।’

কৃষক দলের সভাপতি হাসান জারিফ তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ফজলুল হক মিলন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদলের সহ-সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর প্রমুখ।



আরো সংবাদ


বরগুনায় ধর্ষণ মামলায় শিক্ষকের যাবজ্জীবন ভারতের লাল তালিকা থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়া হয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১ ভোটে বিজয়ী মেম্বরের হামলায় পরাজিত প্রার্থীসহ আহত ১০ ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের দেয়া হবে বুস্টার ডোজ নবীনগরে যে কারণে নৌকার ভরাডুবি অবৈধ সম্পদ অর্জন : পাপিয়া দম্পতির বিচার শুরু পদত্যাগের পর আবার ফিরলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘ বাংলাদেশকে অব্যাহত সমর্থন দিবে বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীর বাজুস সভাপতি নির্বাচিত সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্তিতে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে হামাস বেগম জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা চান ‘ভাষা মতিনের’ স্ত্রী

সকল