১৬ অক্টোবর ২০২১
`

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলসহ ৭ জন কারাগারে

রিমান্ড শেষে কারাগারে জামায়াতের ৬ নেতা - ছবি : নয়া দিগন্ত

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ সাতজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। কারাগারে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ ও মোবারক হোসেন, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য ইয়াসিন আরাফাত এবং বাবুর্চি মো: ইমাম হোসেন।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় রিমান্ড শেষে গতকাল বুধবার তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক কাজী ওয়াজেদ আলী।

অন্যদিকে আসামিদের আইনজীবী তাদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। চিকিৎসার জন্য আবেদন করলে কারাবিধি অনুযায়ী নেতৃবৃন্দের চিকিৎসা করার জন্য আদালত আদেশ দেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে কয়েকজন আইনজীবী নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ সাংবাদিকদের জানান, একটানা ১০ দিন তারা বিশ্রাম নিতে পারেননি, ঠিকমতো ঘুমোতে পারেননি। খাওয়া-দাওয়া হয়নি যথাযথভাবে। তাদের চোখ মুখে ক্লান্তির ছাপ। তারা শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত কিন্তু মানসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় ও মজবুত রয়েছেন। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়েরকৃত মামলার এজাহারে বর্ণিত বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেছেন- মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইসলামী আন্দোলন করি। মামলা দিয়ে এ আন্দোলন দমানো যাবে না। নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে সালাম জানিয়েছেন এবং ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া তাদের জন্য দোয়া করতে বলেছেন।

জামিন শুনানিতে জামায়াত নেতৃবৃন্দের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো: আব্দুর রাজ্জাক, এস এম কামাল উদ্দিন, মো: ইউসুফ আলী, মো: গিয়াস উদ্দিন মিঠু, মো: শহিদুল ইসলাম, মো: মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, মো: লুৎফর রহমান আজাদ, মো: আবু বক্কার ছিদ্দিক, ড. হেলাল উদ্দিন, মো: মঈন উদ্দিন, মো: আশরাফুজ্জামান শাকিল, মো: মোজাহিদুল ইসলাম, মো: রিয়াজুল হক রিয়াজ, মো: কামরুল হাসান পলাশ, মো: ফোরকানুজ্জামান, মো: আরিফ হোসেন, মো: মাহবুব হোসেন ও মো: ফয়জুল্লাহসহ শতাধিক আইনজীবী।

রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন পিপি আব্দুল্লাহ আবু।
গত ১২ সেপ্টেম্বর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাতের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং তার বাবুর্চি ইমাম হোসেনের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
গত ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলসহ ৯ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে রাতে ভাটারা থানায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে অনেককে। এর দুই দিন পর মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলামকে উত্তরা থেকে আটক করে পুলিশ।



আরো সংবাদ