০৩ আগস্ট ২০২১
`

অতি দ্রুত দলের মধ্যকার বিভেদ-গ্রুপিং দূর করতে হবে : ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর - ফাইল ছবি

সরকার পতনের আন্দোলন শুরুর আগে অতিদ্রুত দলের মধ্যকার বিভেদ ও গ্রুপিং দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জনগণের উত্তাল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে।

শনিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাদের প্রতি এই আহ্বান জানান মহাসচিব।

টঙ্গিতে সালাহ উদ্দিন সরকারের বাসভবন মিলনায়তনে গাজীপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন অতি দ্রুত আমরা নিজেদেরকে পুরোপুরি সংগঠিত করে ফেলি, নিজেদের ভুল বোঝাবুঝি, বিভেদগুলো দূর করি। এবং একত্রিত হয়ে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণকে একত্রিত করে আমাদের বুকের ওপর চেপে বসা দানবকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থের একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে মধ্য দিয়ে আমরা যেন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারি সেজন্য কাজ করি।’

তিনি বলেন, ‘আমি খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ কি করছে- করুক। জনগণের কাছে তাদের অন্যায় টিকে থাকতে পারবে না, তারা ভেসে যাবে। জনগণের উত্তাল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) ভেসে যাবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশনেত্রীকে তার আগেই মুক্ত করতে হবে। তা ছাড়া গণতান্ত্রিক আন্দোলন হবে না। দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন দিয়েই শুরু করতে হবে আমাদের গণতন্ত্রের মুক্তির আন্দোলন।’

এসময় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যিনি গত বছরে মার্চ মাস থেকে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে মুক্ত আছেন, তার মুক্তির আন্দোলনও শুরুর কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আমাদের অতিদ্রুত এগুতে হবে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান অবস্থা সংকটময়। এই অবস্থার পরিবর্তন আমাদেরকেই করতে হবে। অন্য কেউ এসে আমাদেরকে করে দিয়ে যাবে না। আমাদেরকে বিএনপিকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিএনপি হচ্ছে সেই দল যারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। বিএনপি হচ্ছে সেই দল যার প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন শহীদ জিয়াউর রহমান যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিএনপি হচ্ছে সেই দল যার চেয়ারপারসন হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি গণতন্ত্রকে মুক্তি দিয়েছিলেন।’

গাজীপুরের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনাদেরকে অনেক বেশি সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা জিয়াউর রহমানের দল করি, বেগম খালেদা জিয়ার দল করি। যখন সংগঠন নিজেরা তৈরি করতে যাই, তখনই গ্রুপিং। আমার লোক কে, আমার লোক কে- এটা খুঁজি। এটা খোঁজা যাবে না। আপনাকে জিয়াউর রহমানের লোক খুঁজতে হবে, বেগম খালেদা জিয়ার লোক খুঁজতে হবে। এটা যদি না করতে পারেন, আমি নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি, আমাদের কোনো ভবিষ্যত নেই। ভবিষ্যত থাকবে তখনই যখন আপনি সবাইকে নিয়ে একসাথে রাজপথে নামতে পারবেন, একসাথে সোচ্চার হতে পারবেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত। এটা আমাদের ধর্মের মধ্যেও বলা আছে। আমাদের এক হতে হবে- এর কোনো বিকল্প নেই।’

গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল ও নির্বাহী কমিটির ওমর ফারুক শাফিনের সঞ্চালনায় এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় আবদুস সালাম আজাদ, সালাহ উদ্দিন সরকার, কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, সোহরাব উদ্দিন, মজিবুর রহমান, হুমায়ুন কবির খান, মীর হালিমুজ্জামান ননি, খন্দকার আজিজুর রহমান পেয়ারা, হুমায়ুন কবীর মাস্টার, শওকত হোসেন সরকার, মাহবুব আলম শুক্কুর, ফিরোজ আহমেদ, শ্রীপুরের শাহজাহান ফকির, কাপাসিয়ার খলিলুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।



আরো সংবাদ