১৬ জুন ২০২১
`

সহযোগিতার মাধ্যমে ঈদ আনন্দকে ভাগাভাগি করতে হবে : জামায়াত

নূরুল ইসলাম বুলবুল ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ - ছবি সংগৃহীত

চলমান করোনাকালীন দূর্যোগে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ঈদ আনন্দকে ভাগাভাগি করার কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বাণীতে নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন। বিবৃতিতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রকৃত শিক্ষা রাষ্ট্রীয়, সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তিজীবনে প্রতিফলন ঘটিয়ে কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এক যৌথ শুভেচ্ছা বাণীতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালনের পর পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ। মুসলিম সমাজ জীবনে ঈদ-উল-ফিতরের অবারিত আনন্দ ধারার তুলনা চলে না। প্রথমত এ আনন্দ উৎসবের আমেজ গরিবের ছোট্ট কুটির হতে ধনীর বালাখানা পর্যন্ত সমানভাবে মুখরিত। দ্বিতীয়ত এ আনন্দ অতি পবিত্র ও নির্মল। এ আনন্দ আরো তাৎপর্যময় হয়ে উঠবে যখন আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দ্বীন ইসলামের পতাকাকে আমরা পরিপূর্ণভাবে উড্ডিন করতে পারবো। কারণ সিয়ামের দাবি হলো কুরআনের আলোকে একটি তাকওয়া ভিত্তিক সমাজ কায়েম করা। আল্লাহ প্রদত্ত বিধান অনুসরণের মাঝেই কেবল প্রকৃত সুখ ও শান্তি নিহিত রয়েছে। একটি ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেই মানুষ সেখানে সত্যিকার অর্থে ঈদের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করতে সক্ষম হবে। মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা ও ঈদুল ফিতরের প্রকৃত শিক্ষাকে ধারণ করে শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তিই মু’মিন জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে আল কুরআনের নির্দেশ অনুসারে নিজেদের অর্জিত সম্পদ থেকে আত্মীয়-স্বজন, অসহায়-এতিম, মিসকিন, পথিক-মুসাফির এবং বন্দীমুক্তির জন্য ব্যয় করতে হবে। বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, চাকরি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। অসংখ্য অসহায় মানুষ সীমাহীন কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। অন্যদিকে চাল, ডাল, তৈল। মানুষের জীবন সংগ্রাম কার্যত দিনে দিনে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের নজির স্থাপন করে যার যার সামর্থ অনুসারে অসহায় মানুষদের ঈদ উদযাপনে সহযোগিতা করতে হবে। ধনী-গরিব সকলের ঈদকে সুখময় করে তোলাই হোক আমাদের প্রত্যয়।

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, সরকারের দমন নীতির কারণে এই রমজান মাসেও দেশের শীর্ষ আলেমগণ নানাবিধ হয়রানী, গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বিশ্ব নন্দিত মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সরকারের জুলুমের শিকার হয়ে এখনো কারাগারে বন্দী হয়ে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ঈদের আনন্দকে ঐক্যের সুদৃঢ় বন্ধনে পরিণত করতে আল্লামা সাঈদী, এটিএম আযহারুল ইসলাম ও শীর্ষ আলেমসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দেয়ার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

নেতৃবৃন্দ চলমান করোনা ভাইরাস মহামারীসহ সকল সঙ্কট থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট বিশেষ সাহায্য প্রত্যাশা করেন।

মহানগরী উত্তর আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের শুভেচ্ছা
এদিকে মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক কল্যাণকামী সমাজ গড়ার প্রত্যয় গ্রহণের মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে এক শুভেচ্ছা বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম ও কিয়াম পালনের পর আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে পবিত্র ‘ঈদুল ফিতর’। ঈদের প্রকৃত শিক্ষাই হচ্ছে আর্ত-মানবতার কল্যাণ এবং বিপন্ন ও অভাবগ্রস্ত মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন। কালামে পাকে ইরশাদ হয়েছে, ‘...বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর ওপর, কিয়ামত দিবসের ওপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের ওপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তারই মহব্বতে আত্মীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে।...(সুরা বাকারা, আয়াত-১৭৭)।

হাদিস শরীফে এসেছে, রাসুল সা: জিজ্ঞাসিত হলেন, ভালো আমলকারী কারা ? প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন, যারা মানুষের অভাবের কথা শুনলো, আর তার অভাব দূর করার জন্য সাথে সাথে নিজেকে নিয়োজিত করলো-এই আমলই আল্লাহর কাছে সবচাইতে প্রিয়।

অন্য হাদিসে এসেছে, মানুষের কোনো সমস্যার সমাধান করা ৩০ দিন মসজিদের ইতিকাফ করার চেয়েও উত্তম। তাই ঈদুল ফিতরের প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করে করোনাকালে বিপন্ন ও দুর্গত মানুষের কল্যাণে এযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতার মধ্যেই আমাদেরকে ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে হচ্ছে। পরিস্থিতির শিকার হয়ে দেশের লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন ও বেকার হয়ে পড়েছেন। ইসলাম আমাদেরকে মানুষের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শন ও আত্মীয়-স্বজনের হক যথাযথভাবে আদায় করার শিক্ষা দিয়েছে। তাই করোনাসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদেরকে এতিম, অসহায়, কর্মক্ষমতাহীন, বিকলাঙ্গ, অভাবগ্রস্ত আত্মীয়-স্বজন, তালাকপ্রাপ্তা ও বিধাবসহ অসহায় মানুষের কল্যাণে সামর্থ অনুযায়ি কাজ করতে হবে।

কালামে হাকীমে বলা হয়েছে, ‘বস্তুত, আমি তাকে (পাপ ও পুণ্যের) দু’টি পথ দেখিয়েছি। কিন্তু সে দুর্গম গিরিপথ অতিক্রম করার সাহস করেনি। আপনি জানেন, সে গিরিপথ কি? তা হচ্ছে দাসমুক্তি। অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান, ইয়াতীম আত্বীয়কে, অথবা ধুলি-ধুসরিত মিসকিনকে। (সুরা আল বালাদ, আয়াত-১০-১৫)।

হাদিসে রাসূল সা: বলেছেন, সে ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে প্রিয় যে মানুষের কল্যাণে কাজ করে। তাই মানবকল্যাণের ব্রত নিয়েই আমাদেরকে আগামী দিনের কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে।

মহানগরী আমির বলেন, করোনার নেতিবাচক প্রভাবে পুরো জাতিই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তাই অবরুদ্ধ ও দুর্গত মানুষের কল্যাণে যাকাত, সাদাকাহ, ফিতরাসহ নিজ নিজ সঞ্চিত অর্থ নিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে দুর্গত ও অসহায় মানুষের কল্যাণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি দুর্গত মানুষের কল্যাণে সমাজের বিত্তমান মানুষ সহ নগরীর সকল স্তরের দলীয় নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানান এবং নগরবাসীর প্রতি ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

দেশের সমৃদ্ধির জন্য শিশুদেরকে চারিত্রিক ও নৈতিকভাবে গড়ে তুলতে হবে
এদিকে রাজধানীর কদমতলী জুরাইন রেলগেট বস্তি এলাকায় অবহেলিত শতাধিক পথ শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার প্রদান করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম।

এছাড়াও রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় হিন্দু বৌদ্ধসহ ভিন্নধর্মাবলম্বীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

কদমতলী পশ্চিম থানা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত রাজধানীর কদমতলী জুরাইন রেলগেট বস্তি এলাকায় স্কুলছাত্র, পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন।

কদমতলী পশ্চিম থানা সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শূরা সদস্য শাহিন আহমদ খান, কদমতলী পশ্চিম থানা কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ কবিরুল ইসলাম, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডি এম শাহজান, ডা: আবুল হাশেম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

এদিকে নগরীর শাহজাহানপুর থানা জামায়াতের উদ্যোগে রাজধানীর শাহজাহানপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভিন্নধর্মাবলম্বী মানুষের মাঝেও তিনি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শূরা সদস্য ও শাহজাহানপুর থানা আমির মুহাম্মাদ শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি সরোয়ার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শামসুর রহমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শেখ শরিফ উদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন থানা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য নাহিদ জামাল, ওয়ার্ড সভাপতি এস এম আজিম উদ্দিন ও আলমগীর হোসেন প্রমুখ।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ঈদের আনন্দ শিশুদের সাথে ভাগাভাগী করা প্রিয় নবী সা:-এর একান্ত সুন্নাহ। আমরা একজন মুসলিম হিসেবে পারস্পরিক ঈদের আনন্দ ভাগাভাগী করে নেয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আজকের ছোট্ট শিশুরাই আগামী দিনের জাতির ভবিষ্যত। শিশুদেরকে চারিত্রিক ও নৈতিকভাবে গড়ে তুলতে আমাদেরকে সচেষ্ট থাকতে হবে। দেশের সমৃদ্ধির জন্য, তাদেরকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মহান আল্লাহ একজন মুসলিম হিসেবে দুনিয়াতেও যেমন ঈদ আনন্দ পালনের সুযোগ করে দিয়েছেন, ঠিক তেমনি পরাকালীন মুক্তি নিশ্চিত ও জান্নাত পাওয়ার মাধ্যমে আমরা যেন মূল আনন্দ উপভোগ করতে পারি সে ব্যাপারে আমাদের প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আমরা দেশের সকল মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি এই কল্যাণমূলক কাজে দেশের সকল জনগণকে শামিল হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

শাহজাহানপুরে ভিন্নধর্মাবলম্বী মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে ড. মাসুদ ইসলামের মানবিকতার দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, ইসলামের নির্ধারিত রূপরেখা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে সকল ধর্মের মানুষ তাদের নাগরিক সুযোগ সুবিধাসহ সুখে-শান্তি ও নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। তাদের ন্যায্য অধিকার সুনিশ্চিত হবে। তিনি দেশের প্রত্যেক নাগরিককে ভারসাম্য পূর্ণ ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় অনবদ্য ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি



আরো সংবাদ