১৬ জুন ২০২১
`

খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে না দেয়ায় জেডআরএফের উদ্বেগ

খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে না দেয়ায় জেডআরএফের উদ্বেগ - ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে না দেয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)।

সোমবার দুপুরে জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা: ফরহাদ হালিম ডোনার সাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া একজন ৭৬ বছরের বয়স্কা নারী। সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি।

এ ছাড়াও আরো বেশ কিছু জটিল রোগাক্রান্ত খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৩ মে ২০২১ তারিখে তার শ্বাসকষ্ট হলে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তার অবস্থা বেশ সঙ্কটাপন্ন। ওই দিনই খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার পরিবারের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সাথে দেখা করে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবেদন জানায়। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের সাথে লক্ষ্য করলাম, গত রোববার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, ‘বর্তমান বিধি মোতাবেক খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় তাকে বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং আমরা তার পরিবারের আবেদনটি মঞ্জুর করতে পারছি না’। এই ঘটনায় থেকেই প্রমাণিত হয়, বর্তমান সরকার বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। তারা তাকে বিদেশে উন্নত ও সুচিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছে না। অথচ মানবতার কাছে আইন কোনো বিষয় নয়। আমরা সরকারের এহেন অগণতান্ত্রিক ও বেআইনি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তিনি বিবৃতিতে আরো বলেন, খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির চেয়ারপারসন নন, তিনি বাংলাদেশের তিন তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সরকার মহামারী করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বিষয়টি মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দিতে পারতো। এ কথা মনে রাখতে হবে, তার স্বামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এবং সেক্টর কমান্ডার ও সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান।

বাংলাদেশের নারী শিক্ষা থেকে শুরু করে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তার হাত ধরেই। আজ তিনি গুরুতর অসুস্থ হলেও তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ না দেয়াটা সত্যি বেদনাদায়ক, অমানবিক ও নজিরবিহীন ঘটনা।

জেডআরএফের বিবৃতিতে বলা হয়, বিশেষ বিবেচনায় অতীতে হিংস্র খুনি থেকে কুখ্যাত মাস্তানদের পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পাওয়ার নজির রয়েছে। দেশে দেশে রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক এই ক্ষমা করার বিধান রয়েছে শুধু চরম মানবিক বিষয় বিবেচনার জন্য। যেমন স্কটল্যান্ডের লকারবিতে বিমান উড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত লিবিয়ার অপরাধী আবদেল মেগরাহিকে ২০০৯ সালে ক্ষমা করা হয়েছিল ক্যানসারের কারণে, তার অবধারিত মৃত্যুর আগের শেষ দিনগুলো স্বজনের সাথে কাটাতে দেয়া হয় মানবিক দিক বিবেচনা করে। শুধু তাই নয়, দণ্ড স্থগিত করে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানো নজিরবিহীন ঘটনা নয়। থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, পাকিস্তানসহ অনেক দেশে চিকিৎসার জন্য অনেক সাবেক রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের বেলায় এমনটি ঘটেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে সাত বছরের সাজা হলেও লাহোর হাইকোর্ট তাকে জামিন ও সাজা স্থগিত করে বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে দুটি মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে সেগুলো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয় কোনো কেলেঙ্কারির মতো বিষয় নয়। এমতাবস্থায় আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো- খালেদা জিয়া এমন কোনো মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নন। তার প্রতি মানবিক হোন।



আরো সংবাদ