০৭ মে ২০২১
`

আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে তালেবানের নেতিবাচক অবস্থান

আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে তালেবানের নেতিবাচক অবস্থান - ছবি : সংগৃহীত

কাতারে তালেবানের রাজনৈতিক দফতরের মুখপাত্র আফগানিস্তানের সংকট নিরসনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরিকল্পনা নাকচ করে দিয়েছে। মুহাম্মাদ নায়িম বলেন, `অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির চেয়ে বরং শান্তি আলোচনা ত্বরান্বিত করাই শ্রেয়। কেননা বিগত ৪০ বছরে অন্তর্বর্তী সরকারগুলো দেশের সমস্যার সমাধান করেনি বরং সমস্যা আরো বাড়িয়েছে।'

নায়িম এক টুইট বার্তায় আরো জানিয়েছেন, `তালেবান নেতা মোল্লা আবদুল গনি বারদার এবং আবদুল হাকিম হাক্কানি, যালমাই খালিলজাদ এবং ন্যাটো কমান্ডার স্কট মিলারের সাথে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ কাতার সমঝোতার প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে চলা এবং পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের ব্যাপারে আলোচনা করেন।’

গত এক বছরের বেশি সময় ধরে যালমাই খলিলযাদ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ব্যাপারে পরিকল্পনা পেশ করে এলেও ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়ে ওই প্রস্তাব। বিরোধীরা বলছেন, ‘এ প্রস্তাব সংবিধান বিরোধী। ক্ষমতা হস্তান্তরের উপায় হলো জনগণের রায়। তারা আশরাফ গনির প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হবার আগেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে চায়। সাধারণ জনগণ, দল ও গোষ্ঠিসহ আফগানিস্তানের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ওই পরিকল্পনার বিরোধী।’

তালেবানের অবস্থান থেকে বোঝা যায় তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে তাদের ইসলামি হুকুমাতের কাঠামোয় ক্ষমতায় যেতে চায়। এর আগেও বহুবার তালেবানের পদস্থ নেতারা আফগানিস্তানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নাকচ করে দিয়েছে। তার মানে দাঁড়ায় তালেবানরা সরকার পদ্ধতিতে জনগণের ভূমিকাকে অস্বীকার করতে চায়। তাদের এ অবস্থান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে আফগানিস্তানের জনগণ।

অপর দিকে আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মার্কিন পরিকল্পনার ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়। আফগান সরকারের সাথে আলোচনা ছাড়াই সে দেশের সকল তালেবান বন্দিকে মুক্তি দেয়ার ব্যাপারে আশরাফ গণির ওপর চাপ দেয়ার বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের ভ্রান্ত পরিকল্পনা ছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এছাড়া এ চাপ প্রয়োগের ঘটনা ছিল আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমেরিকার অযাচিত হস্তক্ষেপ।

এই পরিস্থিতিতে মনে হয় আফগান শান্তি প্রক্রিয়ার বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনের একমাত্র উপায় হলো তালেবানদের সাথে আলোচনার বিষয়ে সরকারকে শক্তিশালী করা এবং এ ক্ষেত্রে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।

সূত্র : পার্সটুডে



আরো সংবাদ