০৯ মার্চ ২০২১
`

দেশে আল কায়েদার কোনো উপস্থিতি নেই : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ - ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে আল কায়েদার কোনো উপস্থিতি নেই বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর বক্তব্যকে ‘অজ্ঞতাপ্রসূত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আল কায়েদার কোনো উপস্থিতি নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন অজ্ঞতাপ্রসূত এই বক্তব্য রাখেন সেটি খুবই দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।’

সোমবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকের বাস্তবতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে সহিংসতা দেখা দিয়েছে, পার্লামেন্টে হামলায় কয়েকজন নিহত হয়েছেন, এভাবে আমাদের দেশে কিংবা ভারতে বা আশপাশের কোনো দেশে পার্লামেন্টে যখন অধিবেশন চলছে তখন কি হামলা হয়েছে? হয়নি। এবং এই আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, যে দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শপথ গ্রহণ করবেন, এফবিআই তথ্য দিয়েছে সে দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সারা দেশব্যাপী সহিংসতা ছড়াতে পারে, বিক্ষোভ হতে পারে।’

যেকোনো দেশে সন্ত্রাসবাদ দমন সবার সম্মিলিত দায়িত্ব এবং লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমি মনে করি তাদের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমনে বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।’

আমেরিকার চেয়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো কি না এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমাদের দেশে কিংবা ভারতে সংসদে অধিবেশন চলাকালে উত্তেজিত জনতা কি ইতিহাসে কখনো এভাবে হামলা চালিয়েছে, যেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হয়েছে? আমাদের সংসদে এ ধরনের কোনো হামলা হয়নি। এই বিবেচনা থেকে যে উপসংহার আসে সেটি বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখন তাদের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস এবং বর্ণবাদ এই দুটি বিষয়ে আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই আব্দুল কাদের মির্জা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাকে নিয়ে তো গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দেখা গেছে আব্দুল কাদের মির্জা বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। তার দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থীর সম্মিলিত ভোটের চাইতেও তিনি তিন গুণ বেশি ভোট পেয়েছেন। এ জন্য আব্দুল কাদের মির্জা অবশ্যই অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য।’

নির্বাচনের আগে আব্দুল কাদের যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দলের অনেকেই অতীতে এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। স্থানীয় সংগঠন নিয়ে যে প্রশ্নগুলো তিনি তুলেছেন সে অধিকার সবারই আছে। তিনি সেই অধিকারের বলেই প্রশ্নগুলো তুলেছেন। এর সত্যতা কতটুকু তা নিয়ে অবশ্যই দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে।’

হবিগঞ্জের মাধবপুরে নৌকার প্রার্থী এজেন্ট দিতে পারেননি এবং তার জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাধবপুর নিয়ে আমার সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই, খবর নিয়ে বলতে হবে। সেখানে নিশ্চয়ই অন্য প্রার্থীদের পক্ষে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতারা কাজ করেছেন। কেন করেছে সেটি নিশ্চয়ই অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিএনপি এবং জামায়াত নেতাদের দোয়া মাহফিলকে রাজনৈতিক চরিত্র দেয়ার চেষ্টা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবসময় বলে আসছি বিএনপি জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়ে এবং বাংলাদেশে আরো কিছু শক্তি ও গোষ্ঠী আছে যারা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। শেষ পর্যন্ত দেখতে পেলাম দোয়া মাহফিলকেও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নেয়া হচ্ছে। দোয়া মাহফিলকে বেছে নেয়া হয়েছে ষড়যন্ত্র করার একটি উপলক্ষ হিসেবে, যেটি আসলে খুবই দুঃখজনক। আর এ ধরনের ষড়যন্ত্র তারা আগেও করেছে, বিভিন্ন সময় বৈঠক করেছে। এগুলো করে কোনো লাভ হবে না।’

সূত্র : ইউএনবি



আরো সংবাদ