২৩ জানুয়ারি ২০২১
`
প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা চান আলেমরা

ভাস্কর্য সংকটের শরিয়তসম্মত সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব


ভাস্কর্য ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনায় বসতে চান আলেমরা। এ ব্যাপারে একটি লিখিত প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় শনিবার দেশের শীর্ষ আলেমরা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সারা দেশের খ্যাতনামা আলেমরা এ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে ৫টি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সেগুলো স্মারকলিপি আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। একইসাথে মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের সাথে সাক্ষাতের উদ্যোগ নেয়া হবে।

মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, মানবমূর্তি বা ভাস্কর্য যেকোনো উদ্দেশ্যে তৈরি করা ইসলামের দৃষ্টিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ৯২ ভাগ মুসলমানদের দেশে মানুষের বিশ্বাস ও চেতনার আলোকে কুরআন ও সুন্নাহসমর্থিত উত্তম কোনো বিকল্প সন্ধান করাই উত্তম। বিকল্প চিন্তা কী- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাব আল্লাহর ৯৯ নাম খচিত মুজিব মিনার নির্মাণ করা হোক।

এর আগে বেফাকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও হাইয়াতুল উলিয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে বৈঠকে শীর্ষ আলেমদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মুফতি রুহুল আমীন, আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদি, আল্লামা আব্দুল হামিদ, আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মুফতি আরশাদ রহমানী, মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা মামুনুল হক, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর প্রতিনিধি মুফতি জসীমুদ্দীন, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর প্রতিনিধি মাওলানা নাজমুল হাসান প্রমুখ।

বৈঠকের শুরুতে আল্লামা মাহমুদুল হাসান বলেন, হজরত মুহাম্মদ সা:-এর শান ও মান রক্ষা করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। রাসূলে আরাবির অবমাননার সব পথ বন্ধ করা প্রয়োজন। ভাস্কর্য ইস্যুতে সরকারের সাথে আলেমদের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি শরিয়তসম্মত সমাধানে পৌঁছাও অতীব প্রয়োজন। অনাকাক্সিক্ষত কোনো পরিস্থিতি সরকার, জনগণ কিংবা আলেম-ওলামা কারো জন্যই সুখকর নয়।

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের সাথে ওলামায়ে কেরামের সম্পর্ক কল্যাণকামী উপদেশদাতার। ওলামায়ে কেরামের মুখে কুরআন-সুন্নাহর বাণী শাসক ও দায়িত্বশীলদের যথাসম্ভব মেনে চলার চেষ্টা করা কর্তব্য। ওলামায়ে কেরামকে শত্রু বা প্রতিপক্ষ মনে করার কোনো কারণ নেই। যেকোনো ভুল বোঝাবুঝি বা বিরোধ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সবাইক ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিতে হবে। দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত ইসলাম, জনগণ ও রাষ্ট্র সবার জন্যই ক্ষতিকর।

বৈঠক শেষে সবার সম্মতিতে ৫টি প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। সেগুলো হলো-

১: মানবমূর্তি ও ভাস্কর্য যেকোনো উদ্দেশ্যে তৈরি করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কোনো মহৎ ব্যক্তি ও নেতাকে মূর্তি বা ভাস্কর্য স্থাপন করে শ্রদ্ধা জানানো শরিয়তসম্মত নয়। এতে মুসলিম মৃত ব্যক্তির রূহের কষ্ট হয়। কারো প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তার স্মৃতিকে জাগ্রত রাখতে মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ না করে, শতকরা ৯২ ভাগ মানুষের বিশ্বাস ও চেতনার আলোকে কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত কোনো উত্তম বিকল্প সন্ধান করাই যুক্তিযুক্ত।

২. নবী করিম সা:-এর অবমাননা, বিষোদগার, ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন ইত্যাদির তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশ্বনবী সা:-এর প্রতি অবমাননাকর আচরণের ওপর কঠোর নজরদারি এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এসব অপকর্ম বন্ধ করা হোক।

৩. বিগত সময়ে দ্বীনি আন্দোলনে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দান ও মামলা প্রত্যাহার করা হোক।

৪. শব্দদূষণ ও জনদুর্ভোগের জন্য সাধারণ শব্দদূষণ ও উচ্চস্বরে গান-বাজনা ইত্যাদি বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ না থাকলেও কেবল ওয়াজ-মাহফিল নিয়ে শব্দদূষণের অজুহাতে বিশেষ নির্দেশনা অনভিপ্রেত। ওয়াজ মাহফিলের সুযোগ দিতে হবে।

এবং ৫. আলেমদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও দায়িত্বহীন আচরণ বন্ধ করতে হবে।



আরো সংবাদ