২৫ অক্টোবর ২০২০

মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করে এমন কোনো আইন বৈধ না : অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার

অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার - ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংবিধানে আছে মানুষের মৌলিক অধিকার ও বাক স্বাধীনতা খর্ব করে এমন কোনো আইন বৈধ হবে না। এমন কোনো আইন হলে তা সংবিধান কর্তৃক বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু ৫৭ ধারায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যেটি করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে যখন সাংবাদিকরা সোচ্চার হলো সরকার সেটা বাতিলের আশ্বাস দিয়ে ৩২ ধারা যে আইনটি করেছে সেটি আরো ভয়াবহ। এই এইনের অধিকাংশ ধারা জামিন অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।

তাছাড়া এ আইনে পুলিশকে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তা অসামঞ্জস্য। তিনি বলেন, আদালত থেকে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি যিনি বঙ্গভবনে রাষ্টপ্রতির পোগ্রামে যাচ্ছেন তাকে পুলিশ খুঁজে পায় না কিন্তু এই আইনে পুলিশ হরহামেশা গ্রেফতার করছেন।

শনিবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত ‘মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তর্ধান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের সঞ্চলনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীসহ সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য রাখেন।

গোলাম পরোয়ার বলেন, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক জাগিয়ে তোলেন। আমরা জানি, ফ্যাসিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই মুক্ত সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ঠিক এখনো তাই হচ্ছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মামলা হয়েছে। যার অধিকাংশ তারা প্রমান করতে পারেনি। এই আইনটি মানুষের মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

জামায়াতের সেক্রিটারি জেনারেল বলেন, আদালতকে সরকার ভয় পায় তাই তারা আদালত, পুলিশ ও প্রশাসনকে হাতে নিতে চায়। এখন গনমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের জন্য এই আইন করা হয়েছে। তাই আমরা এই আইনের বাতিল চাচ্ছি। গনমাধ্যম কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, কোনো অত্যাচার ও নিপীড়নকে ভয় না পেয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে আপনারা রাজপথকে যেভাবে প্রকম্পিত করেছেন তা ভবিষ্যতেও অব্যহত রাখবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সকল সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন ও সকল রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে উপেক্ষা করে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ নামক যে কালো আইন করা হয়েছে তা অত্যন্ত ঘৃনার সাথে আমরা প্রত্যাখ্যান করি। এই আইনের মাধ্যমে শুধুমাত্র সাংবাদিক নয় সাধারণ মানুষ ও মুক্তচিন্তার মানুষদের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যেমে সরকার সাংবাদিকদের হাত-পা বেঁধে মুখে তালা মেরে দিয়েছে। এই জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতদিন এই আইন বাতিল করা না হয় ততদিন আমরা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই দিনটিকে ‘মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তর্ধান দিবস’ হিসেবে পালন করবো।


আরো সংবাদ