১০ আগস্ট ২০২০

করোনা পরীক্ষার দুর্নীতিতে আ. লীগ নেতা জড়িত : মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর - ছবি : সংগৃহীত
24tkt

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, করোনাভাইরাস পরীক্ষায় দুর্নীতি এবং তার সাথে আওয়ামী লীগের নেতারা জড়িত দেখে আজকে দুঃখ হয়, লজ্জা হয়। আজকের পত্রিকায় আছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, মন্ত্রণালয় থেকে না বললে রিজেন্ট হাসপাতালকে (করোনা পরীক্ষার) অনুমোদন দিতাম না। অর্থাৎ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, রিজেন্ট হসপিটালকে অনুমতি দিয়ে দাও, তারা পরীক্ষা করবে। তাহলে কে রেসপন্সিবল? হেলথ মিনিস্টার হিমসেলফ। হি সুড বি রিজাইন ইমিডিয়েটলি।

রোববার দুপুরে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে (জেডআরএফ) কোভিড-১৯ রোগীদের স্বাস্থ্যসেবায় ভার্চুয়াল হটলাইন কল সেন্টার উদ্বোধনের সময় উত্তরার বাসা থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলে হয়েছে। যে হারে লুটপাট করা হয়েছে, তা আপনারা সবাই গণমাধ্যমে দেখেছেন। আমি গণমাধ্যম কর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই যে, এই চরম বৈরিতার মধ্যেও, যখন কোনো সংবাদ প্রকাশ করাও বিপজ্জনক, তখনো তারা অনেক কিছু প্রকাশ করছেন, ফলে জনগণ এসব জানতে পারছে।

তিনি বলেন, যেহেতু এই সরকার নির্বাচিত নয়, প্রথম থেকেই তারা অজ্ঞতা ও পরবর্তীকালে উদাসিনতা দেখিয়েছে। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা হলো, চুরি তাদের মজ্জাগত হয়ে যাওয়ায় তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে কোথায় কিভাবে চুরি করা যাবে সেই বিষয়গুলো তারা করছে। জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষার যে কাজ সেই কাজগুলোতে তারা একেবারেই আগ্রহী নয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই মহামারীর এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ অথবা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। সারাবিশ্বের চিকিৎসকেরা চেষ্টা চালাচ্ছেন। সারাবিশ্ব বিপদের মুখে। ৬ মাসে গোটা পৃথিবী থমকে গেছে। উৎপাদন কমে গেছে। সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। বিশ্ব নেতারা একটা প্রতিষেধক বের করার
উদ্যোগ নিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা তাদের রাষ্ট্র, জনগণ ও অর্থনীতি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আজকে বাংলাদেশে যখন এদেশের মানুষ জেনে গিয়েছিল যে একটা মহামারি আসছে, তখনো কিন্তু যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা কোনো কর্ণপাত করেননি, তারা অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

তিনি বলেন, একটা কথা বলে রাখতে চাই। গোটা পৃথিবীর সভ্যতা আগের অবস্থায় আর থাকবে না। এটা পরিবর্তন হবে, হচ্ছে। কী বদলাবে, কিভাবে বদলাবে সেটা আমরা জানি না। তবে পরিবর্তন আসছে। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এই যে সরকার আমাদের অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছে। এই চরম সময়েও তারা মানুষের
পাশে দাঁড়াচ্ছে না। তারা লুট করছে। আমরা ব্রিটিশ আমলে দেখেছি, ব্রিটিশরা সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে। পাকিস্তান আমলে দেখেছি, পাকিস্তানীরা সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে। এখন দেখছি আওয়ামী লীগ মানুষের পকেট কেটে সম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা এই অবস্থার পরিত্রাণ চাই। জনগণের জীবন বাঁচাতে চাই।

তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনকে এই মহতি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান। পরে ০৯৬৭৮১০২১০২ নম্বরে ফোন দিয়ে হটলাইন কলসেন্টারের উদ্বোধন করেন।

ফোন করে নিজের পরিচয় দিয়ে মির্জা ফখরুল জানতে চান আমার শরীর খারাপ হলে এই নম্বরে ফোন করলে কি ধরণের সেবা পাব? তখন অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, আপনি চিকিৎসা সেবা পাবেন। লক্ষণ শুনে চিকিৎসা দেয়া হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে যোগ না দিলে আমি নিজেও অনেক কিছু জানতাম না। সাধারণ মানুষকে কিভাবে সহজবোধ্যভাবে বোঝানোর জন্য আঞ্চলিক ভাষায় লিফলেট ও গান বানিয়েছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। এটা আমি মনে করি অসাধারণ একটি কাজ হয়েছে।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি প্রফেসর ডা. হারুন আল রশীদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী ও অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সভাপতিত্ব করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।


আরো সংবাদ